চট্টগ্রামে অপ্রতিরোধ্য হুন্ডি কারবারীরা

আবদুর রহিম, ডবলমুরিং (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | বাংলা পত্রিকা স্পেশাল
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১০:২৫:৫৪ পিএম
চট্টগ্রামে অপ্রতিরোধ্য হুন্ডি কারবারীরা
প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে না পাঠিয়ে সহজে ও দ্রুত দেশে পাঠানোর বিভিন্ন প্রলোভনে প্রবাসীদের উদ্বুদ্ধ করে হুন্ডি কারবারী চক্র দেশের অর্থনীতিকে যেমন পঙ্গু করে দিচ্ছে তেমনি ব্যাংকগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত এইসব হুন্ডি কারবারীরা দেশে তাদের আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে দ্রুত ও নির্দিষ্ট সময়ে প্রাপককে অর্থ পৌঁছে দিচ্ছে।

চট্টগ্রাম মহানগরীর রিয়াজুদ্দিন বাজার, তামাকুন্ডি লেইন ও খাতুনগঞ্জে বিভিন্ন ব্যবসার ছদ্মাবরাণে এই হুন্ডিচক্রটি প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা লেনদেন করছে। ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা না আসায় সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব।

তাছাড়া এই হুন্ডি চক্রটি মুদ্রাপাচারকারী, আন্তর্জাতিক স্বর্ণ চোরাচালানকারী, মাদক, অস্ত্র ব্যবসায়ী ও দেশীয় জঙ্গিগোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ত। গতবছর ৩ মার্চ নগরীর সিআরবি এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একটি প্রাইভেট কার তল্লাশি করে ১০০ টি স্বর্নের বার উদ্ধার করে, যার বাজার মূল্য ছিল ৪ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা। জড়িতদের জিজ্ঞাসাবাদে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানতে পারে এই স্বর্ণ চোরাচালানে নগরীর ছদ্মবেশী হুন্ডি কারবারীরা জড়িত।

চট্টগ্রাম মহানগরীর গোয়েন্দা শাখার এক উর্ধ্বতন অফিসার জানান, শুধু রমজান বা ঈদে নই সারা বছর চট্টগ্রামের এই হুন্ডি চক্রটি সক্রিয়। আমরা তাদের ধরতে তৎপর।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নগরীরতে ১০ টির উপর এক শক্তিশালী হুন্ডি সিন্ডিকেট চক্র সক্রিয়। তারা স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ছায়ার পরশে নির্বিগ্নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধোকা দিয়ে এই অবৈদ ব্যবসা করে দেশের অর্থনীতির চাকাকে অচল করে দিচ্ছে।
 
বিভিন্ন গণমাধ্যমের রিপোর্ট থেকে জানা যায়, নগরীর সাইফুল, বাবুল, আকতার, সবুজ, ইমরান হোসেন, ফয়েজ, বেলাল, খুরশীদ আলমসহ নগরীতে তাদের স্বজনদের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনে তৎপর।
 
চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকরা বলেন, ব্যাংকিং সেক্টরকে বাঁচাতে হলে ও  করোনাকালীন ক্ষতিগ্রস্ত দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাকাকে সচল করতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে আনতে চট্টগ্রাম ভিত্তিক এই হুন্ডি চক্রটির বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। প্রয়োজনে তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

বাংলাপত্রিকা/এসআর

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন