‘যেকোন প্রয়োজনে আমাকে ডাকবেন, আমি পাশে থাকার চেষ্টা করবো’

টিটু আহম্মেদ, কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি | সাক্ষাৎকার
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ০৫:৩৮:২৮ পিএম
‘যেকোন প্রয়োজনে আমাকে ডাকবেন, আমি পাশে থাকার চেষ্টা করবো’
চাঁদপুর মতলব উত্তরের ফরাজী কান্দি গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা টিপু হাওলাদারের ছেলে এইচএম নীরা একজন আপাদমস্তক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। সেই স্কুল জীবন থেকেই পিতার হাত ধরে রাজনীতিতে আগমন। কলেজ জীবনে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ সংগঠনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েন। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা শেষে বর্তমানে তিনি ঢাকা জেলার দক্ষিণ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সম্প্রতি বাংলা পত্রিকার সঙ্গে আলাপকালে রাজনীতির নানা বিষয় আলোচনা করেছেন এইচএম নীরা। স্বাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বাংলা পত্রিকার কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি টিটু আহম্মেদ।

বাংলা পত্রিকা: কার অনুপ্রেরণায় ও উৎসাহে রাজনীতিতে এত দূর অগ্রসর হলেন?

এইচএম নীরা:
স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আ,ফ,ম বাহাউদ্দিন নাসিম ভাইকে রাজনৈতিকক গুরু হিসেবে উল্লেখ করে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আলীম বেপারীকে দেখে উৎসাহিত হয়ে কেরানীগঞ্জের মা, মাটি, মানুষের নেতা নসরুল হামিদ বিপু (এমপি) ও কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ এর অনুপ্রেরণায়ই আমার বর্তমান রাজনীতির পথ চলা।

বাংলা পত্রিকা: করোনার সময় আপনার সংগঠন থেকে আপনারা কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন?

এইচএম নীরা:
করোনা মহামারীতে আমার সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের পক্ষ থেকে আমার নেতা নির্মল রঞ্জন গুহ ও আফজালুর রহমান বাবুর নির্দেশে ঢাকা জেলার দোহার-নবাবগঞ্জ কেরানীগঞ্জের আনাচে-কানাচে বহু জায়গায় অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছি। প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে কেরানীগঞ্জের নৌকার মাঝিদের মাঝে ১০ কেজি করে চাল ও ডাল, আলু, তেল বিতরণ করেছি। কেরানীগঞ্জের রোহিতপুর দুঃস্থদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছি। দল-মত নির্বিশেষে সমস্ত দুস্থদের মাঝে আমরা ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের চেষ্টা করেছি এ সময়ে আওয়ামী লীগ ছাড়াও অন্যান্য সংগঠনের লোকেদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছি।

বাংলা পত্রিকা: আপনি রাজনৈতিক নেতা ছাড়াও একটি ব্যবসায়িক সংগঠনের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সেই সংগঠনের পক্ষ থেকে করোনা কালীন সময়ে আপনারা কি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন?

এইচএম নীরা:
আমি কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস মালিক ও ব্যবসায়ী সমিতির পরিচালক হিসেবে পহেলা জুন থেকে সরকারি নির্দেশ মোতাবেক প্রতিটি মার্কেটের সামনে হাত ধোয়ার বেসিন স্থাপন, প্রতি দোকানে হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং প্রত্যেক দোকানদারকে মাক্স পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছি। সমিতির পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক সকাল বিকাল মাইকিং এর ব্যবস্থা করেছি।

বাংলা পত্রিকা: যেহেতু কেরানীগঞ্জ শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকা। এখানকার শ্রমিকদের জন্য কি করেছেন?

এইচএম নীরা:
ঈদের সময় কয়েকদিনের জন্য সীমিত আকারে সরকারের নির্দেশে মার্কেট খোলার ব্যবস্থা হয়েছিল। তখন শ্রমিকরা যেন ঠিক মত বেতন বোনাস পায় তা নিশ্চিত করতে মালিকদের সাথে বৈঠক করেছি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে হতদরিদ্র শ্রমিক পরিবারের বাড়িতে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নিয়েছি ও সাধ্যমত সহযোগিতা করেছি।

বাংলা পত্রিকা: করোনা পরিস্থিতি এখনো চলমান, এ পরিস্থিতি আরো কতদিন চলবে তা কেউ বলতে পারে না। তাই আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

এইচএম নীরা:
সত্যিই এই পরিস্থিতি কতদিন চলবে তা কেউ বলতে পারে না। তাই আমরা সচেতনতামূলক মাইকিং অব্যাহত রেখেছি, মাক্স স্যানিটাইজার এর পর্যাপ্ত পরিমাণ মজুদ রেখেছি। পরিস্থিতি বিবেচনায় তা আবার জনগণের মাঝে বিতরণ করব।

বাংলা পত্রিকা: ১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আপনাদের কী কর্মসূচি ছিল?

এইচএম নীরা:
১৫ ই আগস্ট জাতির জনকের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে স্বেচ্ছাসেবক লীগের পক্ষ থেকে চুনকুটিয়া চৌরাস্তায় মিলাদ মাহফিল ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করেছি। ৩১শে আগস্ট কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও মালিক সমিতির পক্ষ থেকে আলম টাওয়ারের সামনে দরিদ্রদের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছি।

সর্বশেষ তিনি তার নেতাকর্মী ও কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমিতির শ্রমিক ভাই বোনদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা করোনার এই মহামারিতে সবাই সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবেন। সবাই সুস্থ থাকার চেষ্টা করবেন এবং একে অপরকে যথাসম্ভব সাহায্য সহযোগিতা করবেন। আর যেকোনো প্রয়োজনে আমাকে ডাকবেন আমি পাশে থাকার চেষ্টা করব, ইনশাল্লাহ।

বাংলা পত্রিকায় সময় দেবার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

বাংলা পত্রিকা কর্তৃপক্ষ এবং কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি আপনাকেও ধন্যবাদ।

বাংলাপত্রিকা/এসআর

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন