কর্ণফুলী জুলধা রাস্তার বেহাল দশা, বাড়ছে জনদুর্ভোগ

সাহাব উদ্দীন জয়তুন, কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | বাংলা পত্রিকা স্পেশাল
প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ০১:৩২:৪২ পিএম
কর্ণফুলী জুলধা রাস্তার বেহাল দশা, বাড়ছে জনদুর্ভোগ
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার জুলধা ইউনিয়নের ডাঙ্গাচরের শেষাংশ ঈশান মিস্ত্রী হাটের ১ কিলোমিটার সড়কটি যেন মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে। গ্রামীন এ রাস্তা দিয়ে মিলকারখানা ও ফ্যাক্টরীর বড় বড় লরি ও ভারী যানবাহন চলাচলের ফলে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় এক বাসিন্দা অভিযোগ করেন বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর আগে সংস্কার হলেও এখন সংস্কারবিহীন সড়কটির শেষ অংশ জুড়েই ছোট বড় খানাখন্দে ভরপুর। এতে যানবাহন ও লোকজনের চলাচলের মারাত্মক ব্যঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, দিনের বেলায় যানবাহন কিছুটা চলাচল করতে পারলেও রাতের বেলা চলাচল করতে গিয়ে বহু দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়াও রাতে যানবাহন চলতে গিয়ে গর্তে গাড়ি আটকে পড়ে সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরী হয়। এতে অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বলা যায়, কর্ণফুলী উপজেলার সবচেয়ে অনুন্নত ইউনিয়ন হিসেবে জুলধাকে চিহ্নিত করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সড়কটির বিভিন্ন স্থানে পানি জমে কাঁদায় মরণ ফাঁদ তৈরি হলেও প্রতিদিন প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। সাধারণ মানুষ ছাড়াও এ সড়ক দিয়ে হালিশহর বেগমজাত উচ্চ বিদ্যালয়, ডাঙারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডাঙ্গচর আইডিয়াল স্কুল, ডাঙ্গচর রহমানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে শত শত শিক্ষার্থী। যদিও করোনা পরিস্থিতিতে স্কুল কলেজ বন্ধ রয়েছে।

সারজমিন গিয়ে দেখা গেছে, জুলধা ডাঙারচরের এ সড়কের সামনের অংশে কাজ হলেও গ্রাম সংলগ্ন ১ কিলোমিটার সড়কের কাজ দীর্ঘদিন ধরে না হওয়ায় বিপুল সংখ্যক মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে।

জানতে চাইলে স্থানীয় জনতার সাথে সুর মিলিয়ে ডাঙারচরের সাবেক ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়নের প্রায় ৫ হাজার মানুষ এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করছেন। সড়কের বিভিন্ন গর্তে পানি জমে যেন মরণ ফাঁদে পরিনত হয়ে পড়েছে। গর্তে গাড়ি উল্টে পড়ে যাচ্ছে। এতেই অনেকে আহত হয়েছেন। গর্তের কারনে সিএনজি নিয়ে যাত্রী চলাচলও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। যা দ্রুত সংস্কার দরকার।

ডাঙ্গচরের ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন সওদাগর বলেন, "খানাখন্দের কারণে মালবাহী গাড়ি আসতে চায় না। যারা আসেন তাদের ভাড়া গুনতে হচ্ছে দ্বিগুন। তাই আমি এ সড়ক দ্রুত সংস্কার এর দাবি জানাচ্ছি"।

সিএনজি চালক মোঃ ওসমান বলেন, "সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে গাড়ি চলতে বেশি সমস্যা হচ্ছে। আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হচ্ছে। যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। এতে প্রতিদিন গাড়ি মেরামতের কাজ করতে হচ্ছে।"

অটোরিকশা চালক গনি জানান, "সড়ক জুড়ে গর্ত থাকায় রিকসা চলতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। এতে আগের চেয়ে আয় কমে গেছে।"

স্থানীয় লোকজন আরো জানান, জুলধা পাওয়ার প্লান্ট, এস এ গ্রুপ ট্যাঙ্ক টার্মিনাল, স্টার সিমেন্টের মতো বড় বড় ফ্যাক্টরীর মালামাল আসা নেওয়া করতে গিয়ে ভারী যানবাহন চলাচলের কারনে সড়কের অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। সরকার গ্রামীন রাস্তার বরাদ্দ দিয়ে কাজ করলেও মুলত এসব সড়ককে আরো টেকসই ও মজবুত করতে হলে মিল কারখানা ও ফ্যাক্টরীর মালিকদের এগিয়ে আসা উচিত বলে সচেতন মহল মনে করছেন।

কর্ণফুলী উপজেলার এলজিইডির প্রকৌশলী জয়শ্রী দে বাংলা পত্রিকা কে বলেন, "টেন্ডার ওপেনিং হয়েছে। জনদুর্ভোগ লাগবে আগামী দু এক মাসের মধ্যে সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু করা হবে"।

উপজেলা এলজিইডির অফিস সূত্রে আরো জানা গেছে, ডাঙারচরের শেষাংশ ঈশান মিস্ত্রী হাটের এ সড়কটি ২ কোটি ২ লক্ষ ৫৫৬ টাকা ব্যায় ধরে টেন্ডার পাঠানো হয়েছিলো। কাজের টেন্ডার ওপেনিং হয়ে ফেনী জেলার হক ট্রেডার্স নামে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজটি পেয়েছে। ওয়ার্ক অর্ডার নিয়ে শিগগিরই কাজটি শুরু করবে।

বাংলাপত্রিকা/এনপি

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন