পুরো বাংলাদেশের কাছে জামালখান ওয়ার্ডকে পরিচিত করবো: সুমন

পরিতোষ বড়ুয়া, কোতোয়ালি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | সাক্ষাৎকার
প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ০২:৩২:৫৩ এএম
পুরো বাংলাদেশের কাছে জামালখান ওয়ার্ডকে পরিচিত করবো: সুমন
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কোতোয়ালি থানাধীন ২১নং জামালখান ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শৈবাল দাস সুমন। ছোটবেলা থেকেই একজন আদর্শ নীতিবান ছাত্র হিসেবে নিজের পরিচয় দিয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জননেত্রী শেখ হাসিনার আদর্শ, নীতি ধারণ করেছেন। জন্ম এবং শিক্ষাজীবন শুরু এই জামালখান ওয়ার্ডেই। তার শৈশব কৈশোর কেটেছে এই ওয়ার্ডেই। তিনি খুবই ভালো মেধাবী একজন ছাত্র ছিলেন। তার পুরো পরিবার আওয়ামী লীগ সমর্থন করেন। তিনি দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে তার নিজের জন্মভুমিকে একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের পাশে থেকে কাজ করে চলেছেন। তিনি জামালখান ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আগামীতেও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২১ নং জামালখান ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে মনোনয়নপত্র পেয়েছেন। তিনি মনে করেন আবারও জনগণ তাকে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করবেন।

সম্প্রতি বাংলা পত্রিকার সঙ্গে আলাপকালে পুনরায় নির্বাচিত হলে জনপ্রতিনিধি হিসেবে কি কি পরিকল্পনা নিয়েছেন সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। স্বাক্ষাতকারটি নিয়েছেন বাংলা পত্রিকার কতোয়ালী প্রতিনিধ পরিতোষ বড়ুয়া।

বাংলা পত্রিকা: আপনি জামালখান ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর সর্বপ্রথম কি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলেন এবং এই পরিকল্পনায় আপনাকে কারা সহযোগিতা করেছেন?

শৈবাল দাস সুমন:
আমি শৈবাল দাস সুমন। ২০১৫ সালে জামালখানে আপামর জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর আমি চিন্তা করি- এই জামালখান আমার জন্মভূমি। এই জামালখানে আমার শৈশব আমার কৈশোর, আমার বেড়ে ওঠা। এই জামালখান ওয়ার্ডকে আমার পরিবার মনে করে নিজের মতো করে সাজানোর চেষ্টা করেছি। সাথে সাথে জামালখানের একটি সংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের যে বিস্তৃত সেই সংস্কৃতি পরিমণ্ডলকে আরো বেশি কিভাবে বিস্তার করা যায় সেই সম্পর্কে নানা ভাবে পরিকল্পনা আমি হাতে নিয়েছি। আমার প্রথম কাজের মধ্যে যেটা শুরু সেটা হল পুরো চট্টগ্রামে জামালখান ওয়ার্ড থেকে বিউটিফিকেশন টি শুরু হয়। অর্থাৎ জামালখান কে একটা সুন্দর সবুজে সাজানোর পরিকল্পনা হাতে নেই। এই পরিকল্পনায় আমাকে একত্রিত ভাবে বিভিন্ন কর্পোরেট হাউসগুলো সহায়তা করেন। সেই ক্ষেত্রে দৈনিক আজাদী, চট্টগ্রামে বহুল প্রচারিত ও প্রকাশিত পত্রিকা গুলো আমাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন। এরপর সিপিডিএল, রিয়েল বেল, শেখ প্রপার্টিস সহ বিভিন্ন কর্পোরেট হাউজগুলো জামালখান ওয়ার্ড কে সাজানোর ব্যাপারে আমাকে সহায়তা করেন।

বাংলা পত্রিকা: আমাদের নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলার জন্য আপনার কি কি প্রকল্প রয়েছে?

শৈবাল দাস সুমন:
আমাদের নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলার জন্য সাংস্কৃতিক এবং কৃষি সংস্থাকে নিয়ে কাজ করছি। জামালখানের প্রতিটি স্কুল কলেজ এর ওয়াল গুলো কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন রকমের মান্যগণ্য ছবি, অরণ্য ব্যক্তিদের ছবি তুলে ধরার চেষ্টা করছি। নতুন প্রজন্মকে শিখাতে চেয়েছি যে কোথায় আমাদের শেকড় কোথায় আমাদের আদি। এরপর বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতিসংঘ আয়োজিত প্রোগ্রাম গুলো যেমন মা দিবস, নবান্ন উৎসব, একুশে ফেব্রুয়ারি, ১৬ডিসেম্বর, ১৫ আগস্ট, ২৬শে মার্চ উদযাপন থেকে শুরু করে সব ধরনের জাতীয়ভাবে যে সকল অনুষ্ঠান সুন্দর ভাবে নিখুঁত ভাবে আমরা এখানে উপস্থাপন করার চেষ্টা করবো। সাথে  সাথে প্রতিটি ঈদে প্রতিটি পূজাই আমরা এলাকায় যারা অন্যান্য ধর্মের মানুষ আছে সকলের দ্বারপ্রান্তে যাওয়ার চেষ্টা করি। তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি।

বাংলা পত্রিকা: মহামারি করোনা কালে আপনার কি কি কার্যক্রম ছিল?

শৈবাল দাস সুমন:
আপনারা ইতিমধ্যে দেখেছেন যে বিশ্ব যখন করোনায় আক্রান্ত ঠিক তখন বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। সেটি স্বাভাবিকভাবে আমাদের ওপর প্রভাব এনেছেন। সেই প্রভাব কিন্তু বাংলাদেশে অনেক বেশি ছিল। আমি জামালখান বাসীকে চেয়েছি প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে এবং তাদেরকে আরও বেশি সচেতন করতে। আমি নিজ উদ্যোগে প্রতিটা বাসায় বাসায় গিয়ে মাক্স বিতরণ করেছি। লিফলেট বিতরণের মধ্য দিয়ে জামালখান বাসীদের সচেতন করার চেষ্টা করছি। তাছাড়া আমার জামালখান বাসির স্কুল কলেজ মাদ্রাসা এবং বিভিন্ন কর্পোরেট অফিস এবং ব্যাংক থেকে শুরু করে সব প্রতিষ্ঠানে মাক্স এবং লিফলেট এর মাধ্যমে সচেতন করার চেষ্টা করেছি। করোনাকালে সরকার প্রদত্ত যে সমস্ত ত্রাণসামগ্রী ছিল সেই ত্রাণ সামগ্রী দিনে দেওয়ার পরিবর্তে রাত বারোটার পর প্রতিটা বাসায় গিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। যাতে কোনরকম সমাগম না হয়। সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমি রাতে দান সামগ্রী বিতরণ করি। তাছাড়া আমি নিজে থেকে আড়াই হাজার মানুষদের ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ত্রাণ সামগ্রী উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন সেগুলো সুষ্ঠুভাবে বন্টন করেছি। জামালখান এলাকাকে নিজের মত করার চেষ্টা করেছি এবং চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমি মনে করি আমার এলাকার জনগণ আমাকে সমর্থন করেন।

বাংলা পত্রিকা: গত পাঁচ বছর ধরে আপনি আপনার নির্দিষ্ট কাউন্সিলর অফিসের বসেন নি কেন?

শৈবাল দাস সুমন:
আপনারা অনেকেই জানেন হয়তো অনেকে জানেন না। আমি কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমার কাউন্সিলরের নির্দিষ্ট যে অফিসের সিট রয়েছে সেই সিটে না বসে তার পাশের সিটে বসে আমি আমার দৈনিন্দ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছি। পাঁচটি বছর আমি আমার এলাকার মানুষদের বুঝাতে চেয়েছি আপনারা যদি আমাকে ভালবাসার ভোট দিয়ে পরবর্তীতে জয়যুক্ত করেন তবেই আমি পেয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে আমি এবারও সে মনোনয়নপত্রটি পেয়েছি। আশা করছি, বিশ্বাস করছি জনগণের বিপুল ভোটে আগামীতে নির্বাচিত হবো। নির্বাচিত হবার পর আমার যে কনসেপ্ট বাংলাদেশ দেখবে জামালখান। সেই কনসেপ্টটি মুখে নয় কাগজপত্রে নয় এটি পুরো বাংলাদেশকে সমাদৃত হবে। পুরো বাংলাদেশের মানুষের কাছে একটি নাম পরিচিত হবে সেটি হচ্ছে জামালখান। শুধু বাংলাদেশ নয় বাংলাদেশের বাহিরে থেকেও যদি কেউ আসে তাহলে একবার না একবার এই জামালখান টা দেখে যাওয়ার ইচ্ছা হবে। আশা করছি বিশ্বাস করছি সবাই পাশে থাকবেন সাথে থাকবেন। আমি কথা দিচ্ছি নতুন প্রজন্মকে নিয়ে এই জামালখান নিট এন্ড ক্লিন করবো। বিউটিফিকেশন সমৃদ্ধ একটি জামালখান করবো। সবাই সচেতন হব। সবাই মিলে আমরা জামালখান কে একটি বিশ্বের বুকে সুন্দর জামালখান হিসেবে উপহার দিবো।

বাংলা পত্রিকাকে সময় দেবার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

বাংলা পত্রিকা এবং আপনাকেও ধন্যবাদ।

স্বাক্ষাতকারটির ভিডিও নিউজ দেখতে এখানে ক্লিক করুন....

বাংলাপত্রিকা/এসআর

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন