শায়েস্তাগঞ্জ পশু হাসপাতাল ভবনটি ময়লা-আবর্জনার স্তূপে পরিণত, বন্ধ চিকিৎসা

মো. মুজাম্মিল হক, শায়েস্তাগঞ্জ প্রতিনিধি | বাংলা পত্রিকা স্পেশাল
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২০ | ০৩:১৮:০২ পিএম
শায়েস্তাগঞ্জ পশু হাসপাতাল ভবনটি ময়লা-আবর্জনার স্তূপে পরিণত, বন্ধ চিকিৎসা
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ পশু হাসপাতাল ভবনটি ময়লা-আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে হাসপাতাল ভবনটিকে কোনো কার্যক্রম না থাকায় এ দশার সৃষ্টি হয়েছে। ১৯০৩ সালে প্রায় ২৮ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এ হাসপাতালটির কার্যক্রম বর্তমানে একটি ভাড়া করা দোকান কোটায় চলছে।

অথচ ব্রিটিশ সরকারের আমলে নির্মিত শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের তালুগড়াইয়ে স্থাপিত এ হাসপাতাল শায়েস্তাগঞ্জ অঞ্চলসহ প্রায় ১০টি চা বাগানের পশু চিকিৎসাসেবা চলে আসছিল।

কিন্তু পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালুরত অবস্থায় এরশাদ সরকারের আমলে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণে হাসপাতালটির কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। সেই স্থবিরতা কয়েকবছরেও না কাটায় বর্তমানে হাসপাতালটি পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। কিছু লোক ভাগাড় হিসেবে এটি ব্যবহার করছে। ময়লা-আবর্জনার স্তূপে হাসপাতালটি এখন পরিণত হয়েছে ডাস্টবিনে। পাশ দিয়ে গেলে দুর্গন্ধে নাক চেপে ধরতে হয়। দেখলে বোঝা কঠিন যে এটি ছিল পশু হাসপাতাল।

জানা গেছে, শুরুর পর দীর্ঘদিন এ হাসপাতালে একজন এসডিএলও, দুজন ভেটেরিনারি চিকিৎসক ও একজন ভেটেরিনারি সহকারী পশু চিকিৎসাসেবা পরিচালনা করেন। একে একে এ হাসপাতাল থেকে সবাই অন্যত্র চলে যান। এরপরও একজন ভেটেরিনারি সহকারীর মাধ্যমে শুধু কৃত্রিম প্রজনন চালু ছিল। এই ভেটেরিনারি সহকারী চলে গেলে সেখানে পশু চিকিৎসা কার্যক্রম একেবারে বন্ধ হয়ে যায়।

শায়েস্তাগঞ্জ ও এর আশপাশের এলাকা এখনো কৃষিপ্রধান অঞ্চল। সেই হিসেবে অনেকের গবাদি পশু রয়েছে। অনেকে আবার বাণিজ্যিকভাবে গবাদি পশু লালন-পালন করছে। কিন্তু চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে পশুর মালিকরা।

শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রশীদ তালুকদার বলেন, আমি এ বিষয়ে অবগত আছি। শায়েস্তাগঞ্জ নতুন উপজেলা, নতুন হাসপাতাল হতে একটু সময় লাগবে, আস্তে আস্তে সবই হবে।

এখানে গত ১৭ নভেম্বর প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন ডা. রমাপদ দে। কিন্তু তার বসার স্থান না থাকায় পৌরসভার লেঞ্জাপাড়ায় একটি ভবন ভাড়া নিয়ে হাসপাতালের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে কথা হয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রমাপদ দের সাথে। তিনি বলেন, ‘যোগদান করে ভাড়া ভবন নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছেন। আমার সাথে সহকর্মী হিসেবে একজন উপসহকারী প্রাণী ডাক্তার মো. বদিউজ্জামান রয়েছেন। আমরা কৃত্রিম প্রজনন, বিভিন্ন রকম ভ্যাকসিন প্রোগ্রাম ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিনামূল্যে কিছু ঔষধও দিয়ে আসছি। আমাদেরকে সুরঞ্জিত হালদার নামে একজন সহায়তা করে থাকেন। তিনি প্রতি মাসে ৪০-৫০টি কৃত্রিম প্রজনন সেবা বাসায় গিয়ে দিয়ে আসেন।’

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রমাপদ দে আরো বলেন, নতুন হাসপাতালের জন্য আমি হবিগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার মাধ্যমে মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করেছি, এখনো কোন সাড়া পাইনি। যেহেতু শায়েস্তাগঞ্জ নতুন উপজেলা সেহেতু একটি প্রকল্পের মাধ্যমে কাজটি করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে আমাদের শায়েস্তাগঞ্জ ড্রাইভার বাজারে বেশ কিছু জায়গা রয়েছে, সেখানে করা যেতে পারে।

এ বিষয় হবিগঞ্জ জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, শায়েস্তাগঞ্জ একটি নতুন উপজেলা। আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বরাবর চিঠি দিয়েছি নতুন করে হাসপাতাল নির্মাণ করার জন্য। নতুন হাসপাতাল নির্মাণ করার জন্য একটি প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ করতে হয়। আমি আশাবাদী খুব শিগগিরই অনুমোদন পেয়ে যাবো।

বাংলাপত্রিকা/এনপি

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন