বাবুবাজার ব্রিজের যানজটে ভোগান্তিতে কেরানীগঞ্জ বাসী

টিটু আহম্মেদ, কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধ | বাংলা পত্রিকা স্পেশাল
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২০ | ০৬:২২:৪২ পিএম
বাবুবাজার ব্রিজের যানজটে ভোগান্তিতে কেরানীগঞ্জ বাসী
ঢাকা মহানগর থেকে কেরানীগঞ্জে প্রবেশ করতে বুড়িগঙ্গার উপর দিয়ে ৩টি সেতু থাকলেও কেরানীঞ্জবাসীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাবুবাজার সেতুটি। কেরানীগঞ্জে উপজেলায় ১২টি ইউনিয়ন থাকলেও সবচাইতে বেশি জনবহুল ইউনিয়ন হচ্ছে জিনজিরা আগানগর ও শুভাঢ্যা। আর এই ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক লোক প্রতিদিন এই ব্রিজ দিয়ে সিএনজি লেগুনা, ভ্যান এর মাধ্যমে পারাপার হয়। এমনকি সড়কপথে ঢাকা থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীদের বেশিরভাগই চলাচল করে এ সেতু দিয়ে।

২০০১ সালে চালু হওয়া সেতুটি কেরানীগঞ্জ বাসীর জন্য আশীর্বাদ হলেও এখন তা যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, এই যন্ত্রণার নাম হল যানজট। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে। আর এই যানজটের কারণ হিসেবে ব্রিজের উপরে অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড ও ব্রিজের বাবুবাজার অংশের সিঁড়ির সামনে ঢাকা মাওয়া চলাচল বাসগুলোর যাত্রী উঠানোর কে দায়ী করেছেন স্থানীয় যাত্রীসাধারন। এছাড়া উল্টো পথে সিএনজি অটোরিকশা মোটরসাইকেল চালানো ও রোড ডিভাইডারের ফাঁকা দিয়ে সিএনজি অটোরিকশা ঘোরানো এই যানজটের অন্যতম কারণ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজের বাবুবাজার সিঁড়ির অংশে ঢাকা-মাওয়া চলাচলকারী কয়েকটি পরিবহন যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। এভাবে রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে থাকা প্রসঙ্গে আপন পরিবহনের চালক জসিম উদ্দিন কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, যাত্রীর চাপ কিছুটা কম থাকায় গুলিস্তান থেকে গাড়ির সিট ফিলাপ করে আসা সম্ভব হয় না। তাই ব্রিজের উপরে যাত্রী থাকায় এখান থেকে কিছু যাত্রী তুলতে হয়। তবে এখান থেকে যাত্রী তুলতে হলে স্থানীয় লাইনম্যানদের চাঁদা দিতে হয়। কাকে চাঁদা দিতে হয় এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এই ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন চলাচল কারী মোঃ ইসমাইল বলেন, আমি রাজধানীর মালিবাগে একটি কাপড়ের দোকানে কাজ করি। প্রতিদিন সকালে দোকানে যাওয়ার সময় কদমতলী থেকে গাড়িতে উঠে বাবুবাজার সিড়ির সামনে এসে যানজটের কারণে গাড়ি থেকে নেমে হেটে নয়াবাজার পর্যন্ত এসে আবার গাড়িতে উঠতে হয়। এই ভোগান্তি আর ভালো লাগেনা আল্লাই জানে কবে এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাবো।

এ প্রসঙ্গে বাবুবাজার ব্রিজের নিচে দায়িত্বরত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মোঃ সাগর বলেন, আমরা দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করছি যানজট নিরসনের জন্য। শুধু আমাদের চেষ্টাতে হবে না। গাড়ী চালকদেরও এ ব্যাপারে আন্তরিক হতে হবে। সামান্য যানজট লাগলে সবাই উল্টো পথে চলে আসে, এতে যানজট আরো তীব্র আকার ধারণ করে। এ প্রবণতা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। অনেক শিক্ষিত লোক ও নিজস্ব গাড়ি, মোটরসাইকেল নিয়ে উল্টো পথে চলে আসে। বর্তমানে ব্রিজের সংস্কার কাজ চলায় কিছুটা যানজট তৈরি হচ্ছে স্বীকার করে তিনি বলেন, যানজট নিরসনে ও উল্টো পথে গাড়ি চালানোর রোধে ব্রিজের উপরে পাকা ডিভাইডার নির্মাণ করা হচ্ছে। আশা করি এ কাজ শেষ হলে যানজটের কিছুটা উন্নতি হবে।

বাংলাপত্রিকা/এনপি

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন