বরুড়া ভূমি অফিসে নামজারীতে হয়রানি, অতিরিক্ত টাকা নেয়ার অভিযোগ

লিটন মজুমদার, বরুড়া প্রতিনিধি | বাংলা পত্রিকা স্পেশাল
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২০ | ০৯:০৭:১২ পিএম
বরুড়া ভূমি অফিসে নামজারীতে হয়রানি, অতিরিক্ত টাকা নেয়ার অভিযোগ
বাংলাদেশ ভূমি মন্ত্রনালয় কর্তৃক অনলাইন সেবা চালু করার পরের কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলা ভূমি অফিসে কমেনি সেবা প্রত্যাশী গ্রাহকের হয়রানি। ভূমির নামজারি এবং জমাখরিজ করতে প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে বিভিন্ন জটিলতা ও বিভিন্ন ভাবে হয়রানির হচ্ছে সেবা গ্রহণকারীগণ বলে অভিযোগ উঠেছে।

এর মধ্যে বরুড়া উপজেলা ভূমি অফিসের মো: মাসুদ (ক্রেডিট চেকিং), উত্তম দেবনাথ (সার্টিফিকেট পেশকার), পৌর ভূমি অফিসের মুজিবুল হক (অফিস সহকারী) এর বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকগণ। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. মাসুদ, উত্তম দেবনাথ এবং মুজিবুল হক।

সরেজমিনে এ বিষয়ে সেবা গ্রহণকারী হয়রানীর শিকার হওয়া কয়েকজন গ্রাহকের সাথে আলাপকালে তারা বিভিন্ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তাগনের অসাদাচরণ, অতিরিক্ত টাকা দাবির বিষয়ে অভিযোগ করেন।

তবে গ্রাহকদের এমন অভিযোগের সত্যতা খুজতে সরেজমিনে গ্রাহক সেজে বরুড়া উপজেলাস্থ বিভিন্ন ভূমি অফিসে আবেদন মারফত অতিরিক্ত টাকার বিষয়ে ও ভুলত্রুটি সমস্যার সমাধান নির্ধারিত ফি এর থেকে বেশি টাকা দিলে ই যে কোন সমস্যার সমাধান পাওয়া যায় এর সত্যতার প্রমাণ অনুসন্ধানে নামে প্রতিবেদক। গ্রাহকদের করা অভিযুক্তদের সাথে কৌশলে মুঠোফোনে ধারনকৃত বিভিন্ন ভিডিও এর মাধ্যমে ঘুষ লেনদেনের চিত্র সংরক্ষণ করেন প্রতিবেদক। যা সংরক্ষণে রয়েছে।

আরও অনুসন্ধানে বরুড়া পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের ভূমি সংক্রান্ত সেবাগ্রহনকারীদের সাথে আলাপ করলে তারা বলেন, বর্তমানে বরুড়া ভূমি অফিসের কর্মকর্তাগন জমির পরিমান দেখে ঘুষের পরিমাণ নির্ধারন করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেবাগ্রহনকারী বলেন, তার ৫ শতক ভূমির নামজারির বিপরীতে তাকে বাড়তি চার হাজার টাকা দিতে হয়েছে।

আরেক সেবাগ্রহনকারী বলেন, তার ৮ শতক ভূমির বিপরীতে সাত হাজার টাকা দিতে হয়েছে।  অথচ, ভূমি অফিসের প্রবেশ মুখে লেখা আছে, ‘নিজের কাজ নিজে করি, দালাল থেকে দূরে থাকি।’ বাস্তবে, পূর্বের দৃশ্যপটের কথিত দালালরা নির্মূল হয়ে গেলেও এখন ভূমি অফিসের কর্মকর্তারাই যেন সেই দালালদের দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। যেখানে নামজারির জন্য গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নির্ধারিত ফি ১ হাজার ১৫০ হলেও বর্তমানে করোনাকালে বরুড়া ভূমি অফিসে গ্রাহকের নিকট প্রত্যেক নামজারির জন্য সর্বনিম্ন রেট ৮ হাজার টাকা।

এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বর্তমান অতিরিক্ত দায়িত্ব (সহকারী কমিশনার ভূমি) মো: আনিসুল হক এর সাথে ভূমি অফিসের অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে আলাপ করলে তিনি বলেন, আমি এই বিষয়ে অবগত নই।

এই বিষয়ে আরো জানতে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের সাথে মুঠোফোনে আলাপ করলে তিনি জানান, গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রনালয় কর্তৃক নির্ধারিত ১ হাজার ১৫০ টাকা ব্যাতীত বাড়তি প্রতিটি টাকাই বেআইনি।

ভূমি অফিসের মো: মাসুদ (ক্রেডিট চেকিং), উত্তম দেবনাথ (সার্টিফিকেট পেশকার), পৌর ভূমি অফিসের মুজিবুল হক (অফিস সহকারী) দের সাথে অভিযোগের বিষয়ে জানাতে চাওয়া হয়।

মো: মাসুদ (ক্রেডিট চেকিং) জানান, ভূমি অফিসে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয় এইটা নতুন কিছু না।

উত্তম দেবনাথ (সার্টিফিকেট পেশকার) বলেন, ভূমি অফিসের প্রত্যেক অফিসাররাই টাকা নেন, শুধু নামটা উঠে আমাদের।

এই সময়ে উপস্থিত ৮ নং দেওড়া বর্তমান লক্ষীপুর ভূমি অফিসের অফিস সহকারী শাজাহান বলেন, এইসব নিয়ে লেখালেখি করলে সাংবাদিকরাও খুন হয়ে যায়, তাই এই থেকে বিরত থাকুন।

এ বিষয়ে ভূমি মন্ত্রনালয়ের হটলাইন এর মাধ্যমে আলাপ করার জন্য বারবার চেষ্টা করলেও করোনাকালে সাময়িকভাবে অনলাইন সার্ভিস বন্ধ এবং হটলাইনে ফোন করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ বলে জানায় ও পরবর্তীতে সার্ভিস পুনরায় চালু হলে আপনাকে মেসেজ এর মাধ্যমে জানানো হবে বলে জানানো হয়।

বাংলাপত্রিকা/এনপি

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন