পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন বন্ধ করতেই; আবদুল্লাহর তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে দাবার গুটি হিসাবে ব্যবহার

কক্সবাজার জেলা অফিস | বাংলা পত্রিকা স্পেশাল
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২০ | ০৯:৩৯:৫৯ পিএম
পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন বন্ধ করতেই; আবদুল্লাহর তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে দাবার গুটি হিসাবে ব্যবহার
কক্সবাজার শহর পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন বন্ধ করতেই আবদুল্লাহর তালাক প্রাপ্ত স্ত্রীকে দাবার গুটি হিসাবে ব্যবহার করছে এলাকার কতিপয় অপরাধী লালনপালন কারী গডফাদাররা নেপথ্যের কুশীলব বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
 
কক্সবাজার শহরের দক্ষিণ রুমালিয়ার ছড়া (পূর্ব) ডালিয়া কলোনির পাশে আবদুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে ক্রয় করা দুই তলা বিশিষ্ট ভবনটিতে বসবাস করে আসছিলো। কক্সবাজার শহর পুলিশের ফাঁড়ি স্থাপন করার জন্য একটি ভবন প্রয়োজন হলে আবদুল্লাহর ভবনটি ভাড়া দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন। সেই মতে কক্সবাজার শহর পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন আইসি রুমেল বড়ুয়া ও সদর মডেল থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার ফরিদ উদ্দিন সরজমিন পরিদর্শন করে ভবনটি পুলিশ ফাঁড়ি করার জন্য পছন্দ করেন। সেই সূত্রে ভবন মালিকের সাথে গণপূর্ত বিভাগের ৩ বছর মেয়াদে একটি ভাড়া নামা চুক্তি হয়।

ভাড়ানামা চুক্তি মতে ভবনটির ব্যবহার করার মালিক কক্সবাজার শহর পুলিশ ফাঁড়ি কর্তৃপক্ষ। কক্সবাজার শহর পুলিশ ফাঁড়ির আইসি ইয়াসিন গত ২৫ মার্চ ভবনের দখল বুঝে নেওয়ার কথা ছিল। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কক্সবাজার জেলা পুলিশ দায়িত্ব পালন করার কারণে দখল বুঝে নিতে বিলম্ব হচ্ছে এমনটায় জানিয়েছেন বাড়ির মালিক আবদুল্লাহ। সেই সুযোগে আবদুল্লাহর বক্তব্য মতে, তার তালাক প্রাপ্ত স্ত্রী নুর আয়েশা বেগম তার আগের স্বামীর ছেলে আবদুল করিমের যোগসাজশে পুলিশ ফাঁড়ির জন্য ভাড়া দেওয়া ভবনটির একটি কক্ষ দখলে নিয়েছে। এমন দাবি করেন আবদুল্লাহ।  

আবদুল করিম (তালাক প্রাপ্ত স্ত্রী নুর আয়েশা বেগমের সন্তান) আবদুল্লাহর ছেলে হিসাবে দাবী করলে আমাদের অনুসন্ধানী টিম আবদুল্লাহর কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে সে জানায়, আবদুল করিম তার সন্তান নয় এবং দুধ পানরত অবস্থায় অর্থাৎ বছর দেড়েক বয়সে আবদুল্লাহ তার মা নুর আয়েশাকে বিয়ে করে বলে জানিয়েছেন। সেই বয়স থেকেই আবদুল করিমকে আবদুল্লাহ লালন পালন করার কথা স্বীকার করেন। তবে আবদুল করিম আবদুল্লাহর জন্ম দেওয়া সন্তান বলে দাবী করেন।

এ ঘটনার একটি নিউজ প্রকাশ করা হলে সংবাদটির প্রতিবেদক নিজের ফেসবুকে সংবাদটি শেয়ার করেন। ফেসবুকে শেয়ারকৃত নিউজের কমেন্টে আবদুল করিম কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেটের দুটি ছবি ও কক্সবাজার পৌসভার একটি নাগরিকত্ব সনদ দিয়ে পোস্ট করেন। সেখানে তিনি বলেছেন, সে আবদুল্লাহরই ছেলে এবং আবদুল্লাহ তার বাবা বলে দাবী করেন।


এই ব্যপারে আবদুল্লাহর কাছে জানতে চাইলে আবদুল্লাহ চ্যালেঞ্জ করে বলেন, আবদুল করিম তার জন্ম দেওয়া সন্তান নয়। তাকে লালন পালন করেছে মাত্র। সেই ঘরে তার জন্ম দেওয়া ছেলে ৩ জন এবং মেয়ে ২ জন বলে দাবী করেন। আবদুল্লাহ বলেন, আহমদ বিন আবদুল্লাহ, আবদুল কাদের ও ছৈয়দুল করিম এই তিন ছেলেই আবদুল্লাহর জন্ম দেওয়া সন্তান। আবদুল করিম আবদুল্লাহর জন্ম দেওয়া ছেলে নয় বলে দাবী করেন। আবদুল করিমের বাবা সৌদি আরবে আশ্রিত বার্মাইয়া নুরুল ইসলাম প্রকাশ এহাদা মৌলভী।

আবদুল করিম আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি মোঃ শহীদুল্লাহর ফেসবুক আইডিতে কমেন্ট করে জানান, ডিএনএ পরীক্ষায় যদি প্রমাণ হয় সে আবদুল্লাহর ছেলে তখন বাংলা পত্রিকা কর্তৃপক্ষের কি হবে? এরকম প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া প্রসঙ্গে আবদুল্লাহর কাছে জানতে চাইলে আবদুল্লাহ বলেন, ডিএনএ পরীক্ষা করে যদি প্রমাণ দিতে হয় আবদুল করিম তার ছেলে নয় তাতেও আবদুল্লাহ প্রস্তুত আছে বলে জানিয়েছেন।

আবদুল করিম পিতার স্থানে আবদুল্লাহ উল্লেখ পৌরসভার নাগরিকত্ব সনদ ও কারিগরি শিক্ষার সনদে পিতার নামের স্থানে আবদুল্লাহ উল্লেখ থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুল্লাহ জানান, আমার অজান্তেই তার মায়ের সাথে মিলে সম্পত্তি আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্য নিয়েই এমনটা করেছে।

আবদুল করিমের করা কমেন্টে উল্লেখ করেছেন, সে যে আবদুল্লাহর ছেলে তার প্রমাণ তার দাদি ও চাচা। এ প্রসঙ্গে আবদুল্লাহর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নুর আয়েশার সাথে তার বিয়ে হয়েছিল সৌদি আরব থাকার সময়। আবদুল করিম যখন মায়ের দুধ খায় সৌদি আরব সরকারে আশ্রিত বার্মাইয়া রোহিঙ্গা নুরুল ইসলাম প্রকাশ এহাদা মৌলভীর সাথে নুর আয়েশার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। তার পরেই নুর আয়েশাকে বিয়ে করে বলে জানান আবদুল্লাহ। তিনি আরো বলেন, "নিজের যখন সন্তান নাই তখন ছোট্ট শিশু আবদুল করিম নিজের ছেলে না হয়েও পৈত্রিক ভালবাসা দিতে মানবিক দৃষ্টিতে আমাকে বাবা ঢাকার অধিকার টুকুই দিয়েছি"।

তিনি উল্টো আমাদের প্রতিনিধিকে প্রশ্ন করে বলেন, "পিতা ডাকার অধিকার সূত্রে আমার মা ভাই ব্রাদার মনে করতেই পারে আবদুল করিম আমার সন্তান। সেই সূত্র ধরে আবদুল করিম কি করে আমার সন্তান বলে দাবী করবে? যদি আমি জন্ম না দিয়েই থাকি, সে আমার ঔরসজাত সন্তান হয় কি করে? তিনি আরো বলেন, আমার নাম যদি কারো পিতার নাম হিসাবে কোন প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রে লিখলে কি আমার সন্তান হয়ে যাবে? আমি কি কারো পিতা হয়ে যাবো এধরণের আইন-কানুন ধর্মে বা দেশে আছে?

আবদুল্লাহর প্রথম স্ত্রী নুর আয়েশাকে তালাক দেওয়া হয়নি এমনটাই কমেন্ট উল্লেখ করেছেন আবদুল করিম। আবদুল্লাহর কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "তালাক প্রাপ্ত না হলে বছর বছর ধরে কেন ভাড়া বাসায় থাকে? তাকে যদি তালাক না দিতাম তাহলে নিশ্চয় তার ভরনপোষণ চালাতাম"।

আবদুল্লাহ বলেন, অনেকে সময় আইনের আশ্রয় নিয়ে নিজেরা আমার সম্পদের হকদার দাবী করেছিল। ভরনপোষণ দাবী করেছিল। আমি আমার ছোট সন্তানদের পড়ালেখার খরচ দিতাম। যে প্রতিষ্ঠানে পড়েছিল সেই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করে দিতাম। সেই ঘরের কন্যা সন্তান দুজন আমার সাথে থাকে। ছেলে ৩ জন তাদের মায়ের সাথে থাকে।  

এরা বিভিন্ন সময় টাকার বিনিময়ে আবদুল্লাহর সম্পদ আত্মসাৎ করতে মিথ্যা মামলার আসামী করে কারাভোগ করিয়েছে, আবদুল্লাহর সম্পদ দাবি করে আবদুল করিম আদালতে একটি মামলাও করেছিল। সেই মামলাটি আদালত খারিজ করে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন আবদুল্লাহ। ভাড়া করা সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যা চেষ্টাও করা হয়েছে বলে আবদুল্লাহ আক্ষেপের সুরে জানিয়েছেন।

বাংলা পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি এলাকায় বসবাস করা বিভিন্ন স্তরের মানুষদের সাথে কথা বলে এবং সরেজমিনে অনুসন্ধান করে জানায়, আবদুল্লাহর ১ম স্ত্রী নুর আয়েশা দক্ষিণ রুমালিয়ার ছড়ার (পুর্ব) এলাকার এক সংখ্যা লগু হিন্দুর ভাড়া বাসায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছে। বর্তমানেও সেই ভাড়াবাসা তাদের আছে। পার্শ্ববর্তী লোকজনের সাথে যোগাযোগ করলে তারা আমাদের জানান, নুর আয়েশার নামে সেই ভাড়া বাসা এখনো আছে।   

সরজমিন অনুসন্ধান করে জানা যায়, এই জায়গায় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হলে এলাকার কিছু মানুষের অসুবিধা হবে। যারা দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় নানা অপরাধী জন্ম দিয়ে অপরাধের স্বর্গরাজ্যে পরিনত করেছে মুলত তারাই এই এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনে নেপথ্যে থেকে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে এমন ধারণা করা যায়। এই চক্রটি নেপথ্যে থেকে আবদুল্লাহর তালাক প্রাপ্ত স্ত্রী ও তার স্ত্রীর আগের স্বামীর সন্তান আবদুল করিমকে দাবার গুটি হিসাবে ব্যবহার করছে এমনটাই মনে হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, আবদুল্লাহর তালাক প্রাপ্ত স্ত্রী নুর আয়েশা দীর্ঘদিন ধরে ভিন্ন জায়গায় ভাড়া বাসা নিয়ে বসবাস করে আসছে। এর আগে কেন এলাকার কথিত মানবতাবাদী মানুষ গুলো তাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়নি? যখন ঐ জায়গায় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তখন কেন মানবতাবাদীদের মানবতার মাত্রা বেড়ে গেল? এ প্রশ্ন সাধারণ মানুষের।

স্থানীয় সাধারণ মানুষের দাবী বর্তমানে যেখানে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেই জায়গা জবর দখলকারীদের উচ্ছেদ করে জনস্বার্থেই পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করার দাবী জানিয়েছেন এবং পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করার মধ্য দিয়ে অপরাধ প্রবণ এলাকা থেকে অপরাধী বিতাড়িত করার দাবী জানিয়েছেন এবং পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করারও দাবী জানিয়েছেন।

বাংলাপত্রিকা/এনপি

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন