সবজি বিক্রয় করে সংসার চালান খোদেজা বেগম

সামাউন আলী, সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি | সারাদেশ
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ ২০২০ | ০৭:০৪:৩৬ পিএম
সবজি বিক্রয় করে সংসার চালান খোদেজা বেগম
খোদেজা বেগম, বয়স প্রায় ৫০ বছর।  পরিবারের মতামতের ভিত্তিতেই ৩০বছর আগে বিয়ে করেছিলেন সিংড়ার উপজেলার উত্তর দমদমা গ্রামের ইউসুফ মোল্লাকে।  এক ছেলে সন্তানের জন্মের পর আর সংসার হয়নি তার।  বিবাহ বিচ্ছেদ করে নেমেছেন সংসার যুদ্ধে।  সেই থেকেই দীর্ঘ ২৭বছর ধরে সিংড়া বাজারে সবজি বিক্রি করে সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন খোদেজা বেগম।

প্রতিদিন তাকে দেখা যায় নাটোরের সিংড়া বুড়া পীরতলা বাজারে।  ২৭ বছর ধরে সবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি।  পেশায় সবজি ব্যবসায়ী হলেও তিনি একজন সংগ্রামী নারী।  বাড়ি পৌর শহরের ২নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর দমদমা গ্রামে।

উত্তর দমদমা গ্রামের আব্দুল খালেকের মেয়ে খোদেজা বেগম।  প্রায় ৩০ বছর আগে বিয়ে হয় একই গ্রামের ইউসুফ মোল্লার সাথে।  খোরশেদ আলম নামের এক ছেলে সন্তান জন্ম নেয়ার পরে তাদের সংসার ভেঙ্গে যায়।  তারপর থেকেই জীবনে সংগ্রাম করে বেঁচে আছেন খোদেজা বেগম।

বাজারে সবজির ব্যবসা করে সংসার চালান তিনি।  ছেলেকে ছোট থেকে বড় করে বিয়েও দিয়েছেন।  জীবিকার তাগিদে ছেলে এখন স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন ঢাকায়।  ছেলের দুই সন্তান নিয়েই এখন সংসার খোদেজা বেগমের।  সংসারের খরচের জন্য প্রতি মাসে কিছু টাকা পাঠায় ছেলে খোরশেদ আলম।  নিয়মিত খোঁজ-খবর নেন ছেলে।  গ্রামীণ ব্যাংক থেকে টাকা লোন নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন খোদেজা।  বছরে দু’য়েক দিন বাদে প্রতিদিনই সিংড়া বাজারের বুড়া পীরতলায় ছোট্ট একটি দোকান নিয়ে বসে থাকেন তিনি।

সংগ্রামী নারী খোদেজা বেগম বলেন, প্রতিদিন ১০০-১৫০ টাকা লাভ হয় ব্যবসা করে।  এতেই চলে তার সংসার।  সাবেক প্যানেল মেয়র গোলাম আজম ভাতার কার্ড করে দিয়েছে।  সেটা থেকে তিন মাস পর পর ১৫০০ টাকা পাই।  সাবেক প্যানেল মেয়র আদনান মাহমুদ বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছে। বর্তমান কাউন্সিলর মিজানুর রহমানও আমাকে সহযোগিতা করেন।

বাংলাপত্রিকা/এসআর

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন