ডাবলু সরকারের হাত থেকে রক্ষা নেই সংখ্যালঘু, মুক্তিযোদ্ধা কেউ!

বাংলা পত্রিকা ডেস্ক | সারাদেশ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০ | ০৮:৩৫:২৭ পিএম
ডাবলু সরকারের হাত থেকে রক্ষা নেই সংখ্যালঘু, মুক্তিযোদ্ধা কেউ!
এক ভাই মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা অন্য এক ভাই সিটি করর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর। মুক্তিযোদ্ধা, অসহায় সংখ্যালঘু, ক্ষমতাসীন দলের নেতা কেউ রক্ষা নেই তাদের দখলবাণিজ্যের কবল থেকে। আলোচিত এই দুটি চরিত্রের নাম ডাবলু সরকার আর আব্দুল হামিদ সরকার টেকন। মানুষের ভিটে বাড়ি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তৃতীয় পক্ষকে দিয়ে সংকট সৃষ্টি করে মিমাংসার নামে তা নাম মাত্র মূল্য দিয়ে নিজেদের করে নেয়াই এখন এদের মূল পেশায় পরিণত হয়েছে। ডাবলু সরকার ২০১৬ সালে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ পাওয়ার পরই বিস্তার ঘটে এই রমরমা বাণিজ্যের। এখন তারা শত কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক!

কয়েক বছর আগে বিআরটিসি বাসের টিকেট বিক্রি করা ডাবলু সরকার এখন রাজশাহী শহরের দখলের সমার্থক শব্দ। অভিযোগ আছে তার পিতা আব্দুর রশিদ সরকারের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়েও।

শুধু দুই একজন সংখ্যালঘুই নয়, সামাজিক বা পারিবারিকভাবে দুর্বল আওয়ামী লীগ কর্মীরাও রেহাই পায় না ডাবলু সরকার ও তার পরিবারের দখল বাণিজ্য থেকে। রাজশাহী আওয়ামী লীগের ‘বিশিষ্ট কর্মী’ শাহজাহান মামা তার পৈত্রিক ভিটা রক্ষা করেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে নালিশ দিয়ে।

এই আওয়ামী লীগ নেতার দখল থেকে রক্ষা পেত সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন মহলে আবেদন পাঠিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধারা। বাড়ির পেছনের ছোট একটু জমি কিনে রাজশাহীর পূঁথিঘর লাইব্রেরীর মালিক শক্তিভূতির বাড়ী নামমাত্র মূল্যে ভাগ্নে মীর ইশতিয়াক আহমেদ লেমনের সাথে  যৌথ মালিকানায় রেজিস্ট্রি করে নেন ডাবলু সরকার।

এছাড়া ডাবলু সরকারের বিরুদ্ধে রাজশাহীতে সংখ্যালঘু পরিবারের সম্পত্তি দখল, জালিয়াতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বলেও জানা গেছে।

দুদকে পাওয়া অভিযোগে বলা হয়, রাজশাহীর বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা রাজারকারপুত্র ডাবলু সরকারের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী ও দুদক চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের বাড়িঘর দখল ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন ডাবলু সরকার। অথচ তিনি ছিলেন বিআরটিসির বাসের টিকিট বিক্রেতা। তারা জানান, ডাবলু সরকারের বাবা রশিদ সরকার রাজশাহীর কুখ্যাত রাজাকার আবদুস সাত্তার ওরফে টিপুর সহযোগী ছিলেন।

ডাবলু সরকারের বড় দুই ভাই আব্দুল হামিদ সরকার টেকন ও সাবু সরকার জিয়াউর রহমানের শাসনামলে চোরাচালানে জড়িয়ে যান। চোরাচালান পেশার সমালোচনা করায় হোটেল ব্যবসায়ী গৌতম ঘোষকে (১৮) আলুপট্টি মোড়েই প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর থেকেই টেকন সাবু শহরের প্রকাশ্য খুনি হিসেবেও পরিচিত বলে স্থানীয়রা জানায়।
 
নগরীর কুমারপাড়ায় সখিনা বোডিং এর জায়গা দখল নিতে সাভারের হাসিনা দৌলাকে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে ডাবলু, টেকন আর সাবু। পরে নামমাত্র মূল্যে তিনি তা তাদের কাছে বিক্রি করেন। সেই জমিতেই হচ্ছে ১৬ তলা উচু সরকার টাওয়ার। শিবু দায়িনি, পরিধেয় টেইলার্সের খোকন, রাজশাহী বেতারের বেহালা বাধক রঘুনাথ দাস, সুগারমিলের এক কর্মচারী, ডাবলু সরকারের পাশের বাড়ীর সংখ্যালঘু মাছচাষী পাঁচন সরকার, আইনজীবী কুনাল সরকার, রঘুনাথ, শান্তি ঘোষ, শম্ভু ও রিতা দাসসহ আরো অনেক পরিবার এই দখলবাজদের হাতে হারিয়েছেন বসত ভিটাসহ বহু সম্পত্তি।

ডাবলু সরকারের পিতা আব্দুর রশিদকে কুখ্যাত রাজাকার দাবি করে রাজশাহীর মুক্তিযোদ্ধারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য আবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, সামনে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন। ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এখন এ ধরণের অভিযোগ আনা হচ্ছে।

বাংলাপত্রিকা/এসএ

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন