বসন্ত আসেই যেন বাঙ্গালীর হৃদয়ে খুশির দোলা দিতে

শওকত লিংকন | জাতীয়
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০ | ০২:১২:৫৭ পিএম
বসন্ত আসেই যেন বাঙ্গালীর হৃদয়ে খুশির দোলা দিতে
আজ বসন্তের প্রথম দিন। পাতাঝরা শুষ্ক শীতের শেষে আসে রঙে রঙিন বসন্ত। চারদিকে নতুন পাতা আর ফুলের সমাহার। বাংলার ছেলে-বুড়ো সবার প্রিয় ঋতু বসন্ত। বসন্ত বারবার নানা রঙে ও নানা রূপে ফুটে উঠেছে হাজারও কবির কবিতায়, শিল্পীর তুলির আঁচড়ে। কখনও বন্দনা বসন্তের বাতাসের, তো কখনও আরাধনা বসন্তের ফুলের সুবাসের। এই নির্মম শহরেও মাঝেমধ্যেই শোনা যায় কোনো এক গাছের ফাঁকে লুকিয়ে থাকা কোকিলের কুহু কুহু ডাক। বসন্তই তো ফাগুনের রঙে রাঙিয়ে ওঠার দারুণ উপলক্ষ।

ইংরেজি বছরের প্রথম বড় উৎসব পহেলা ফাল্গুন। ব্যস্ত নগরীর ঘেমে ওঠা কোলাহলের মধ্যেও রাস্তার মেহগনি বা বকুলের ভিড়ে উঁকি দেওয়া পলাশ বা কৃষ্ণচূড়া মনে দোলা দেয়। সে দোল অবহেলা করলে প্রকৃতি বড় অভিমান করতে পারে। তাই প্রকৃতির রঙে সাজিয়ে তুলুন নিজেকে। বসন্ত উৎসব হয়ে উঠুক আমাদের নববর্ষের রঙিন সূচনার সিঁড়ি। বসন্ত বরণ দিয়ে বাংলাদেশে যে উৎসবের সূচনা, তার রেশ ধরে একে একে আসে চৈত্র সংক্রান্তি, পহেলা বৈশাখ এবং আরও কত কত উৎসব।

বাংলার ছয় ঋতু আসে ছয় রকমের বৈচিত্র্য নিয়ে, ভিন্ন ভিন্ন উৎসবের উপলক্ষ হয়ে। তবে সব উৎসবের মধ্যে পহেলা ফাল্গুন আর পহেলা বৈশাখ আমরা বড় করে উদযাপন করি। কারণ এই দুই উৎসব আমাদের মনে করায় আমরা বাঙালি, এই দুই উৎসব আমাদের রক্তে জাগায় বাঙালিয়ানার নবজাগরণ। এ বছর ফাল্গুনের সাথে যুক্ত হয়েছে ভালোবাসা দিবস। তাই এই দিনটি সকলের কাছে হয়ে উঠেছে আরও রঙিন।

সেই বাঙালি চেতনা জাগ্রত করতেই আমরা শাড়ি-পাঞ্জাবি পরি, সাজি ফুলেল সাজে। মেয়েদের কপালের সিঁদুরে, কুমকুমের টিপ, আর পায়ের আলতা আমাদের মনে করায় আমরা বাঙালি। আর সেই সঙ্গে নাচ-গানের ছন্দ আমাদের মনে জাগায় অপার আনন্দ। আমরা সারাবছরের জীবনযুদ্ধ ভুলে মেতে উঠি ফাগুন উৎসবে।

ফাল্গুনের বাঙালি নারীর প্রথম পছন্দ শাড়ি। এদিন শাড়ির সাথে চুড়ি, টিপ আর ফুলের গয়না পরতে কার্পণ্য করেনা বাঙ্গালী মেয়েরা। রঙিন শাড়ির সঙ্গে হাতভর্তি চুড়ির রিনঝিন শব্দ যেন বসন্তেরই আগমনী গানের কোরাস। কপালের রঙিন টিপ দেখে মুখ টিপে হেসে উঠবে রক্তিম শিমুল। ফুলের বনে মধু খেয়ে মাতাল ভ্রমর পথ ভুলে লুটিয়ে পড়ুক মাথায় ফুলের মুকুটে বা হাতে ও গলায় ঝুলানো ফুলের মালায়।

এই অঞ্চলের বসন্ত উৎসবের ইতিহাস বেশ পুরনো নানা পৌরাণিক উপাখ্যান ও লোককথায় এর উল্লেখ পাওয়া যায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সময় থেকে শান্তিনিকেতনে বিশেষ নৃত্য ও সংগীতের মাধ্যমে বসন্তোৎসব পালনের রীতি চলে আসছে। বঙ্গাব্দ ১৪০১ সাল থেকে বাংলাদেশে প্রথম ‘বসন্ত উৎসব’ উদযাপন করার রীতি চালু হয়। বসন্ত উৎসব বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, ঝাড়খণ্ড ও উড়িষ্যাসহ আরও কিছু রাজ্যে উদযাপিত হয়।
মডেল:  নিরা

বাংলাপত্রিকা/এসআর

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন