বসন্ত, ভালোবাসা ও মাতৃভাষা দিবস কে ঘীরে সরব ফুলের রাজধানী গদখালী (ভিডিও)

মাহমুদুল হাসান বাবু, শার্শা প্রতিনিধি | সারাদেশ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০ | ০৭:০৫:৪৮ পিএম
বসন্ত, ভালোবাসা ও মাতৃভাষা দিবস কে ঘীরে সরব ফুলের রাজধানী গদখালী (ভিডিও)
যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার ফুলের রাজধানী খ্যাত গদখালী বাজার এখন সরব ক্রেতা-বিক্রেতার হাক ডাক সহ দীপ্ত পদচারনায়। হরেক প্রজাতির ফুলের সুবাস আর সমারাহে দেশের বিভিন্ন জেলা শহর হতে আগত পাইকারদের ভীড়ে বাজার এলাকাটি যেন সভা-সমাবেশে পরিনত হয়েছে।

বসন্তের পহেলা তারিখ বসন্ত উৎসব, ১৪ই ফেব্রুয়ারী বিশ্ব ভালোভাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা কে ঘিরে এ এলাকার ফুলচাষীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্ষেত হতে ফুল সংগ্রহ করতে।

বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, ভ্যান, নসিমন, করিমন যোগে চাষ করা ফুল বাজারে এনে তা রাজধানীর শাহাবাগ ফুল বাজার সহ সর্বত্র পৌছাতে শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করে ভোর রাতেই আসতে হচ্ছে ঢাকা-কলকাতা মহাসড়কের পাশেই অবস্থিত গদখালীর ফুলবাজারে।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ পেশায় অঞ্চলটির প্রায় ৬ হাজার নারী পুরুষ জিবীকা নির্বাহ করে থাকে। আর সরকারী সহোযোগীতা বলতে কিছু নেই।

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সদস্য ও গদখালীফুল চাষী ও ফুল ব্যাবসায়ী কল্যান সমিতির সাবেক সভাপতি আব্দুর রহিম জানান, এ বছরে গদখালী বাজার হতে প্রায় ২০ কোটি টাকার ফুল বিক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ফুলের বাজার মূল্য অন্য বছরের তুলনায় বেশী প্রশ্নে তিনি বলেন ঘুর্নিঝড় বুলবুল ও এক প্রকার ভাইরাসের সংক্রামনে ফুল চাষীরা কিছুটা ক্ষতি গ্রস্থ হয়েছে। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় দাম একটু বেশী তবে ক্রেতাদের ভিড় অন্য বছরের ন্যায় বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এ অঞ্চলের ১হাজার হেক্টর জমিতে বানিজ্যিক ভাবে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল চাষ হয়ে থাকে।

ঝিকরগাছা ও শার্শা থানার প্রায় ৮০টি গ্রামের কৃষি জমিতে রজনীগন্ধা, গোলাপ, জুঁই, ভুট্টা, জারবারা, ঝাও, চন্দ্র মল্লিকা, গ্লডিওলাস ও গাধা ফুলের চাষ করে থাকে চাষীরা এর মধ্যে পানিসাড়া গ্রাম ফুল উৎপাদনের শীর্শে রয়েছে।

দেশের ৭০ভাগ ফুলের চাহিদা পুরন করেন এ এলাকার চাষীরা। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বৈদেশিক বাজারেও রপ্তানী হয় গদখালীর ফুল।

ফুল বিক্রেতা সুমন জানান, এ বছর গোলাপ বিক্রি হচ্ছে ১শ’  ফুল ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা, জারবার ১৫ টাকা পিস ও গাধা ফুল এক হাজার ৭০০ হতে ৯০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রয় হচ্ছে। পাইকারের চাহিদা অনেক। প্রতি বিঘা জমির চাষকৃত ফুল এবার নিন্মোতম বিক্রয় হবে ৯০ হাজার হতে ১লাখ টাকা মূল্যে।

উৎপাদন কম হলেও লাভ বেশী হওয়ার আশাবাদী এলাকার ফুল ব্যাবসায়ীরা।

বাংলাপত্রিকা/এসএস

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন