আগাছা-পরগাছামুক্ত রাখবে না নগর আ’লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলা পত্রিকা স্পেশাল
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০ | ০৭:০৫:৩২ পিএম
আগাছা-পরগাছামুক্ত রাখবে না নগর আ’লীগ
আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার পূর্ণ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন দলীয়প্রধান শেখ হাসিনা। এবার ঢাকা মহানগর দক্ষিন আওয়ামী লীগের পূণাঙ্গ কমিটিতে আগাছা-পরগাছামুক্ত রাখতে চায় বর্তমান সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন হুমায়ূন কবির। একইকথা জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তরের শেখ বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মান্নান কচি।

আর কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন, বিএনপি-জামায়াত থেকে অনুপ্রবেশকারি সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের স্থান হবে না ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিন আওয়ামী লীগে। দলের নেতৃত্ব নির্ধারণে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন দলীয়প্রধান শেখ হাসিনা। তবে এবার ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিনে দলীয় পদ ব্যবহার করে দুর্নীতি ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত কারো আওয়ামী লীগের কোনো পর্যায়ে স্থান হবে না বলে হুঁশিয়ার করেছেন হাইকমাণ্ড। তবে নীতিবান, সততা ও পারিবারিক রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করেই নগর কমিটিতে নেতৃত্ব নির্ধারণ করা হবে।

এদিকে গত মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সরকারি সফরে ইতালি যাওয়ার আগে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মৌখিকভাবে এ নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। আওয়ামী লীগ সভাপতির এই নির্দেশনা এরই মধ্যে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ এবং সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে এ নির্দেশনা পৌঁছে দিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা। ঢাকা মহানগর আওয়ামী উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান বলেন, দলের সাধারণ সম্পাদক আমাদের (মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক) ফোন করেছিলেন। তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন, আগামী ২১ ফেব্রুয়ারির আগে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে হবে। আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা উত্তর-দক্ষিন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ওয়ার্ড-থানা পর্যায়ে দলীয় পদ ব্যবহার করে যারা সন্ত্রাস-দুর্নীতি, টেন্ডারবাজিসহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িয়ে অনেকেই দলের ভাবমূর্তি নষ্ট ক্ষুন্ন করেছেন এমন অভিযোগ মুখে মুখে। অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করেছেন অনেক নেতা। গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও দলীয় তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এরপরই তাদেরকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা হবে। এরআগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজের শাসনামলে দলীয় একাধিক এমপির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার কথা- অন্যায়কারীকে ছাড় নয়, শাস্তি পেতে হবে। দলের ভেতরে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে যারা প্রবেশ করেছে, কিভাবে তারা দলে প্রবেশ করলো? কারা, কী কারণে অন্যদলের নেতাকর্মীদের আওয়ামী লীগে আনলো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে তাদেরকে ধরা হবে। সর্বশেষ অনুষ্ঠিতব্য ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনেও দল সমর্থিত বিতর্কিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের তালিকায় ধর্ষণ, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিসহ নানা অপকর্মে জড়িত ডজন দুয়েক ব্যক্তির নাম আসায় চরম বিপাকে পড়ে আওয়ামী লীগ।

এ বিষয়ে কথা হয় ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মশিউর রহমান মোল্লা সজলের সাথে। তিনি বলেন, মহানগর কমিটিতে সৎ যোগ্য ত্যাগী ও মেধাবী ও কর্মীবান্ধব নেতারা নেতৃত্বে আসবেন, এমনটাই প্রত্যাশা করে মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা। তবে অনেক সময় দেখা গেছে, থানা-ওয়ার্ড পর্যায়ে পদ-পদবী পেয়েছেন এমন অনেকে অল্পদিনের মধ্যে কোটিপতি বনে গেছেন। এমন কি দলের প্রাণ তৃণমূলের কর্মীদের সাথেও ওইসব নেতারা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছে। তারা যেন আগামীতে আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতে স্থান না পায়, সে বিষয়ে সর্তক থাকতে হবে। একইসাথে অর্থবিত্তরা উড়ে এসে জুড়ে বসে এবং বড় বড় পদ পেয়ে যায়। এতে সংগঠন সর্ম্পকে তৃণমূলে বিরুপ ধারণা সৃষ্টি হয়। এই সংগঠন বাঁচাতে দু:সময়ের কাণ্ডারি হিসেবে যোগ্য নেতাদেরই বেছে নেয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

এ বিষয়ে দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, আওয়ামী লীগ গণমানুষের সংগঠন। বঙ্গবন্ধুর পরিশ্রমে তিলেতিলে গড়ে উঠেছে এ সংগঠন। এখানে অনু প্রবেশকারিদের কোন স্থান হবে না। যারা নৌকা নিয়ে নির্বাচিত হয়েও নৌকার বিরোধিতা করেছেন তাদের কোন ক্ষমা নেই। শেখ হাসিনার শক্তি এই দেশের সাধারণ মানুষ। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা আওয়ামী লীগের প্রাণ। দুর্যোগের সময়েও তারা শক্ত করে দলের হাল ধরেছে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, পরপর তিনবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকার কারণে আমাদের সংগঠনে অনেক আগাছা-পরগাছা ঢুকেছে। অনেকে নানাভাবে পদ পেয়েছে। আগাছা-পরগাছা সংগঠনের সব পর্যায় থেকে দূর করতে হবে। কমিটি গঠনের সময় আগাছা-পরগাছা যাতে সংগঠনে পদ না পায়, সেদিকে সচেষ্ট থাকতে হবে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী বলেন, রাজনীতির ইনস্টিটিউট হিসেবে গড়ে তোলা হবে মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগকে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের যে নির্দেশনা দিয়েছেন সেই অনুযায়ী আমরা ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগকে পরিচালিত করবো। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনকে সফল করার জন্য আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। সেইভাবে নেতাদের নিয়ে আমর প্রস্তুতি নিচ্ছি। সভানেত্রী নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন কমিটিতে ত্যাগী নেতাদের স্থান দেয়া হবে। তিনি বলেন, কমিটিতে কোনোভাবেই বিতর্কিত নেতাদের স্থান পাওয়ার সুযোগ নেই। তাছাড়া বিতর্কিত নেতাদের নাম বাদ দিয়ে কমিটি করা হবে। আমরা সেইভাবে নেতাদের সুসংগঠিত করার জন্য প্রক্রিয়া শুরু করছি।

ঢাকা মহানগর দক্ষিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ত্যাগী ও নিবেদিত নেতাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। তবে নতুন কমিটিতে বাদ পড়বেন স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে কমিটিতে স্থান পাওয়া পেয়েছেন যারা। ক্যাসিনো সম্পৃক্ততা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, অনুপ্রবেশকারী, কোনো অপরাধী কমিটিতে জায়গা পাবে না।

বাংলাপত্রিকা/এসএস

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন