নওগাঁয় অবাদে চলছে নিষিদ্ধ পলিথিন!

অহিদুল ইসলাম, মহাদেবপুর প্রতিনিধি | বাংলা পত্রিকা স্পেশাল
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২০ | ০৮:১৭:৫৯ পিএম
নওগাঁয় অবাদে চলছে নিষিদ্ধ পলিথিন!
পলিথিন শপিংব্যাগ বর্জন করে দেশকে পরিবেশ বিপর্যয় থেকে রক্ষায় পলিথিন শপিং ব্যাগ বিরোধী অভিযান শুরু হলেও নওগাঁর পৌরশহরসহ উপজেলার হাট-বাজারে সর্বত্র এখন নিষিদ্ধ পলিথিনে সয়লাব। প্রতিটি বাজারে নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহারে সয়লাব নওগাঁর হাট-বাজারসহ সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পণ্যসামগ্রীর সঙ্গে এ ব্যাগ দেয়া হচ্ছে। এতে রাস্তাঘাট, নদী-নালা, ড্রেন ও মাটির গর্তে বর্ষার পানিতে পলিথিনের আবর্জনা ছড়িয়ে পড়ছে। বন্ধ হচ্ছে ড্রেনের মুখ।

জেলার ছোট-বড় হাট-বাজার থেকে পাড়া মহলার স্টেশনারী, মুদি দোকান, ফল ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ পলিথিনের অবাধ ব্যবহার চলছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ৬ সপ্তাহব্যাপি পলিথিন শপিং ব্যাগ বিরোধী অভিযান শুরু করলেও নওগাঁ জেলায় তার কোন প্রভাব পড়েনি। জানা যায়, পলিথিন শপিং ব্যাগের ক্ষতিকারক বিষয়গুলো বিবেচনা করে ২০০২ সালের ৮ এপ্রিল সরকারী সিদ্ধান্তে সর্বপ্রকার পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন, আমদানি, বাজারজাত করণ, বিক্রয়, বিক্রয়ের জন্য প্রদর্শন, মজুদ, বিতরণ, বাণিজ্যি উদ্দেশ্যে পরিবহন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়। এ প্রজ্ঞাপন জারির পর কিছু দিন পলিথিন শপিং ব্যাগের ব্যবহার বন্ধ হয়ে পড়ে। কিন্তু আইন বাস্তবায়নে কার্যকরী কোন পদক্ষেপ পরিলক্ষিত না হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো নওগাঁ পৌরশহরসহ জেলা ও উপজেলার সর্বত্র সর্বপ্রকার পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার হচ্ছে।

সরকার পলিথিন কারখানা বন্ধ করে সর্বত্র এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করার ফলে বিগত কয়েক বছর নওগাঁ জেলাসহ শহরের বিভিন্ন শপিংমলে পলিথিন ব্যাগ চোখে পড়েনি। পলিথিন মাটিতে পচে না এবং মাটির উর্বরা শক্তি কমিয়ে দেয়। সরকারী উদ্যোগে পলিথিন ফ্যাক্টরিগুলো সম্পূর্ণরুপে বন্ধ করতে হবে বলে তারা মন্তব্য করেন। পলিথিন ব্যাগ ড্রেন, নর্দমায় পড়ে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, এমনকি ড্রেন বা নালার মুখ বন্ধ হয়ে হাট-বাজারে জলবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। মাছ, তরকারী, ফলমূল, বিস্কুট ও স্টেশনারিসহ সব প্রকার পণ্যসামগ্রীর সঙ্গে অবাধে পলিথিন শপিংব্যাগ দেয়া হচ্ছে।

নওগাঁর নওহাটা কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ী রাকিব ও চ্যেংকুড়ি মোড়ের লোকমান বলেন, আমরা বাজারে পাচ্ছি তাই ব্যবহার করছি।

এ ব্যপারে নওহাটার মোড় বাজারের পলিথিন বিক্রেতা আশুতোষ পাল বলেন, আমি নওগাঁ মসলা বাজারের আওয়াল ও গোবিন্দের দোকান থেকে পাইকারী এনে বিক্রি করি। পলিথিন বিক্রি বাংলাদেশ সরকার নিষিদ্ধ করেছে তাহ‌লে আপনি কেন বিক্রি করছেন? এই প্রশ্নের জবাবে আশুতোষ পাল বলেন, সবাই যেখানে বিক্রি করছে সেখান আমি বিক্রি না করলে আমার অনেক ক্রেতা অন্যের কাছে জিনিসপত্র ক্রয় করবে তাই আমি বিক্রি করি।

এখন তাই সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ক্রেতাদের মালামালের সঙ্গে পলিথিন ফ্রি দেয়া হচ্ছে। ফলে যত্রতত্র ব্যাগ ফেলে পরিবেশ দূষিত করে তোলা হচ্ছে। স্থানীয় দোকানদারদের কথা বললে তারা জানান, একটি চক্র প্রশাসনকে ম্যানেজ করে জমজমাটভাবে চালিয়ে যাচ্ছে পলিথিনের এ ব্যবসা।

বাংলাপত্রিকা/এসআর

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন