ঠাকুরগাঁওয়ের বাঁশমালিদের সংগ্রামী জীবন

মোঃ রেদওয়ানুল হক মিলন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি | বাংলা পত্রিকা স্পেশাল
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২০ | ০৮:৪৫:০৩ পিএম
ঠাকুরগাঁওয়ের বাঁশমালিদের সংগ্রামী জীবন
গত ৫ বছর আগেও বাঁশের দাম কম ছিল। পাঁচশত টাকার বাঁশ কিনে সেই বাঁশ দিয়ে চাটাই, খাঁচা, বিটে, পলও, আন্টা, কুলা, পাখা, ডালি, ভাড়, ঝাড়ু, হাসঁ-মুরগি রাখা খাঁচাসহ নানা পণ্য তৈরি করে দেড় হাজার টাকা বিক্রি করা যেত। কোন কোন সময় তার দুহাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছি। কিন্তু এখন আর সেদিন নেই। বাঁশের দাম বাড়ার কারণে এখন পাঁচশত টাকার বাঁশ কিনে সেই বাঁশ দিয়ে পণ্য তৈরির পর ১ হাজার টাকার বেশি বিক্রি করা যায় না।

এতে দুজনকে সারাদিন পরিশ্রম করতে হয়। মজুরীর টাকা বের করা সম্ভব হয় না আর। কথাগুলো জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী গ্রামের গোলাপ রায়ের। তিনি ওই গ্রামের বাঁশমালি।

শুক্রবার বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গোলাপ রায়ের স্ত্রী দিপ্তী রাণী বাড়ীর পার্শ্বে রাস্তায় কাস্তে দিয়ে বাঁশ কেটে বাতা তৈরি করছেন। সেই বাতাগুলো দিয়ে তার স্বামী হাসঁ-মুরগি রাখার খাঁচাসহ অন্যান্য পণ্য তৈরি করছেন। আর কাজে তাদের দুই সন্তান সহযোগিতা করছেন।

দিপ্তি রানী জানান, কৃষি কাজের পাশাপাশি বাঁশের তৈরি জিনিস বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে ওই এলাকার ৫০টি পরিবার। আমন ধান, আলু তোলার মৌসুমসহ বিভিন্ন ফসলাদি উত্তোলনের সময়গুলোতে ডালি, কুলা, ঝাড়–সহ বিভিন্ন বাঁশের পণ্যের চাহিদা থাকে।

এ সময় কৃষি কাজের দ্রুত শেষ করে ব্যস্ত হয়ে পড়ে ওই এলাকার পরিবারের সব মানুষ। স্বামী-স্ত্রীর পাশাপাশি সন্তানদেরকেও এ কাজে সহযোগিতা করতে হয়।

গোলাপ রায় জানান, বাঁশের তৈরি পণ্য বিক্রি করেই ছেলেকে পড়ালেখা করাচ্ছি। ছেলে এবার অনার্স ৩য় বর্ষে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে পড়তেছে। ইচ্ছা পড়ালেখা শেষ করে একটা চাকুরি পাবে। আমাদের পূর্ব পুরুষদের থেকে পাওয়া এ পেশা থেকে আমাদের মুক্তি দিবে।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, পুর্ব পুরুষদের কাছে পাওয়া বংশ পরম্পরাই এ পেশায় গত ৫ বছরে আগে বেশ সফলতা ছিল। কিন্তু কালের বিবর্তনে প্লাস্টিকের বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী বাজারে আসার কারণে কমে গেছে বাঁশের তৈরি পণ্যের চাহিদা। অন্যদিকে প্লাস্টিক পণ্যের দাম বাঁশের তৈরি পণ্যের চেয়ে অনেক কম। ওই এলাকার বাঁশমালি খুদিরাম সাহা জানান, বাঁশের তৈরি পণ্য ছাড়া অন্য কোন কাজ জানা নেই।

তাই পেটের দায়ে বাধ্য হয়ে এটা করতে হচ্ছে। সরকারি ভাবে প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা দিলে এ এলাকার পরিবারগুলো আরও ভালো পণ্য তৈরি করে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে ধারণা করেন তিনি।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শাফীয়ার রহমান বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তর, সমবায় অধিদপ্তর ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীনে বিভিন্ন সময়ে কারিগরী প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়ে থাকেন এলাকার কৃষক ও বিভিন্ন শ্রমজীবি মানুষ। আগামীতে সুযোগ থাকলে বাঁশালীদের দক্ষতা উন্নয়ণে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

বাংলাপত্রিকা/এসআর

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন