‘ক্ষমতায় থেকে কি হনু রে হওয়া যাবে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক | রাজনীতি
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৭:৪৫:৪৭ পিএম
‘ক্ষমতায় থেকে কি হনু রে হওয়া যাবে না’
একটা নিবেদিত প্রাণ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের দলে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘দলে যদি নেতৃত্বের প্রতিযোগীতা যদি না থাকে তাহলে দল একদিন জড় বস্তুতে পরিণত হবে, ইট বালি সিমেন্টে পরিণত হবে।’

দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, ক্ষমতায় থেকে হনু রে হওয়া যাবে না। ক্ষমতা চির স্থায়ী নয়। মানুষের হৃদয়ের ভালবাসা হলো দীর্ঘস্থায়ী আমাদের নেত্রী, আমাদের তাই শিখিয়েছেন। রোববার রাজশাহীর মহিলা কমপ্লেস মাঠে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। দূর্নীতির দায়ে দন্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবীতে বিএনপির বিক্ষোভকে মামাবাড়ির আবদার বলেও এ সময় আখ্যায়িত করে নানক বলেন, আদালত ছাড়া খালেদা জিয়া কোন দিন মুক্তি পাবেন না।

সম্মেলনের উদ্বোধক ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত দলের সাংগঠিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, দলের কেন্দ্রীয় নেতা নূরুল ইসলাম ঠান্ডু, কেন্দ্রীয় নেত্রী মেরিনা জাহান। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের সঞ্চালনায় সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী।
 
খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবীতে বিএনপির বিক্ষোভ প্রসঙ্গে নানক বলেন, খালেদা জিয়াকে কে মুক্তি দেবেন, প্রধানমন্ত্রী না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাকি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাসিম ভাই মুক্তি দিতে পারবেন? উনাকে মুক্তি দিতে পারবেন একমাত্র আদালত। আদালত ছাড়া খালেদা জিয়া কোন দিন মুক্তি পাবেন না বলেও এ সময় উল্লেখ করেন তিনি।
  
নানক বলেন, আমরা বিয়ের পর সংসারে যে ভাবে সব কিছুতে সমঝোতা করে চলতে হয়, ‘রাজনীতেও দল আমাদের একটি পরিবার। এই পরিবারেও সমঝোতা থাকতে হবে।’ দলে ত্যাগী ও প্রবীণ নেতাদের প্রধাণ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি।
দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আগামী দিনে যারা নেতৃত্বে দেবেন, সেই নেতৃত্বে মধ্যে যেন কোন বিভেদ সৃষ্টি না হয়। নিজ রাজণৈতিক জীবনে রাজণৈতিক সহকর্মীদের সঙ্গে কোন দিন দ্বিমত হয় নি এমন উল্লেখ করে তিনি।

বিডিআর বিদ্রোহের স্মৃতিচারণ করে নানক গণতন্ত্রের স্বার্থে আমরা সে দিন সেখানে গিয়েছিলাম, ‘আমি যখন ছাত্রলীগের সেক্রটারি ছিলাম ছাত্রলীগের তখন আমার সভাপতি ছিলেন আব্দুল মান্নান। কোন দিন কোন দ্বিমত হয় নি। যখন যুবলীগের চেয়ারম্যান ছিলাম তখন আমাদের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মির্জা আজম। আমার সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কোন দিন দ্বিমত হয় নি। বিডিয়ার বিদ্রোহ দমনে নেত্রী (শেখ হাসিনা) আমাদের এক সাথে পাঠিয়েছিলেন। আমরা একসঙ্গে বিডিআর বিদ্রোহ দমনে এক সাথে গিয়েছিলাম।’ ‘যাবার সময় নেত্রীর চোখে জল দেখেছিলাম। আমরা নেত্রীকে বলেছিলাম, কেন নেত্রী আপনার চোখে জল, আমাদের তো মৃত্যু হয়ে যেতে পারতো ১৯৭১ ও ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্টে। আমরা তো অতিরিক্ত জীবন কাটাচ্ছি। আপনি দোয়া করবেন। বলেই আমরা রওনা হলাম।’
 
বাংলাপত্রিকা/এসএ

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন