আজ শেরপুরে মুক্ত দিবস

মনিরুজ্জামান মনির, শেরপুর প্রতিনিধি | সারাদেশ
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১০:২৯:১৬ এএম
আজ শেরপুরে মুক্ত দিবস
আজ ৭ ডিসেম্বর, মহান শেরপুর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে শেরপুর জেলা পাক হানাদার বাহিনীর দখলমুক্ত হয়।

স্বাধীনতার ঘোষক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং শেরপুরকে মুক্ত করার বীর সেনানী শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ৭ডিসেম্বর ১২:০১ মিনিটে শেরপুর জেলার জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এছাড়া এই সময়ে জেলা পুলিশ, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, শেরপুর জেলা ইউনিট কমান্ড সেক্টর কমান্ডার ফোরাম পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এসময় সেখানে জেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তাবৃন্দ, জেলা পুলিশের প্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, মেয়র, শেরপুর পৌরসভা প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। শেরপুর মুক্ত দিবস উদযাপন করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে ৭ ডিসেম্বর দিনব্যাপী র‌্যালী, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, একাত্তরের এ দিনে পাক হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে মিত্রবাহিনীর সহায়তায় মুক্তিযোদ্ধারা শেরপুর সদর উপজেলা ও নালিতাবাড়ী অঞ্চল শত্রুমুক্ত করে। এদিন মিত্রবাহিনীর সর্বাধিনায়ক প্রয়াত জগজিৎ সিং অরোরা হেলিকাপ্টারযোগে নেমে শেরপুর শহীদ দারোগ আলী পৌর পার্ক মাঠে এক সংবর্ধনা সভায় শেরপুরকে মুক্ত বলে ঘোষণা দেন। এসময় মুক্ত শেরপুরে প্রথম বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।

স্বাধীনতা যুদ্ধের দীর্ঘ ৯ মাসে বর্তমান শেরপুর জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ৩০ থেকে ৪০টি খন্ডযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছে। এসব যুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করে ৫৯ মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়েছেন। এদিকে পাক হানাদারদের নির্মমতার শিকার হয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলার সোহাগপুর গ্রামে ১৮৭ জন, শেরপুর সদর উপজেলার সূর্যদী গ্রামে ৫২ জন, ঝিনাইগাতী উপজেলার জগৎপুর গ্রামে ২০ জন মুক্তিকামী মানুষ শহীদ হয়েছেন।

এদিকে ৪ ডিসেম্বর কামালপুরের ১১নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমন ও গুলি বর্ষণের মুখে স্থানীয় পাকসেনারা পিছু হটে। ৫ ডিসেম্বর থেকে পাকসেনারা কামালপুর-বক্সিগঞ্জ থেকে শেরপুর শহর হয়ে জামালপুর অভিমুখে রওনা হয়। অবশেষে পাকসেনারা ৬ ডিসেম্বর রাতের আধারে শেরপুর শহরের উপর দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ পাড়ি দিয়ে জামালপুর পিটিআই ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়। এরপর ৭ ডিসেম্বর মুক্ত হয় শেরপুর।

বাংলাপত্রিকা/ওএন

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন