বেনাপোল কাস্টমস ইমিগ্রেশানে ল্যাগেজ ব্যাবসা রমরমা, নেপথ্যে কর্মকর্তারা

মাহামুদুল হাসান বাবু, শার্শা প্রতিনিধি | বাংলা পত্রিকা স্পেশাল
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৭:৪৯:৩৩ পিএম
বেনাপোল কাস্টমস ইমিগ্রেশানে ল্যাগেজ ব্যাবসা রমরমা, নেপথ্যে কর্মকর্তারা
বাংলাদেশ কাস্টমস্ হাউসের অন্যতম শাখা বেনাপোল কাস্টমস্ হাউসের চেকপোস্ট ইমিগ্রেশানে কর্তৃপক্ষের নীরব সন্মতিতে চলছে পাসপোর্ট যাত্রীর সাথে আনা পন্য সামগ্রীর ব্যাগ পারাপারের রমরমা বানিজ্য। অসাধু যাত্রীদের(ব্যাবসায়ী)শাখাটির দ্বায়িত্বরত কাস্টমস কর্মকর্তাদের ঘুস দিয়ে মালামাল পার করানোর হিড়িকে দেশের বিভিন্ন জেলা হতে আগত সাধারন যাত্রীরা ভোগান্তীতে পড়ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে ইমিগ্রেশান কার্যাদী সম্পন্ন করাতে গিয়ে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়া সহ নানা বিড়ম্বনায় এ পথে ভারত ভ্রমনে অনউৎসাহিত হচ্ছেন বলে জানা গেছে। মাঝে মধ্যে যাত্রীরা স্টেশনটির দ্বায়িত্বরত কাস্টমস কর্মকর্তা, সিপাহী, আনসার সদস্য ও ইমিগ্রেশান পুলিশ সদস্যদের যাত্রী পারাপারে অনিয়মের প্রতিবাদ করলে অশোভন আচরনের স্বীকার, বাড়তি হয়রানী সর্বোপরী শারিরিক ভাবে লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনা ঘটছেও বলে জানা যায়। তবে ল্যাগেজ ব্যাবসায়ীরা চলছে বহাল তবিয়তে।
চলমান সময়ে মিডিয়াবাজ কাস্টমস কমিশনার চেকপোস্ট ইমিগ্রেশানটিতে একাধিক বার পরিদর্শন করে দালাল মুক্ত ও পাসপোর্ট যাত্রী হয়রানী বন্ধ করে প্রকৃত সেবা মান নিশ্চিতের ঘোষনা দিলেও যাত্রীরা কোন ভাবেই সুফল পাইনি আজও। নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

এই ইমিগ্রেশান দিয়ে ভারত গমনাগমনরত একাধিক যাত্রী (পাসপোর্ট নাম্বার টি-৭৮৪৭৪৩৬৯, বি এমও-৬৮২১১২, জেড-৩৯৯০৩৪৭ ও জি-৬৪৭৩৩৭০১)কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চলমান অনিয়ম ও অব্যাবস্থপনা বিষয়ে অভিযোগ তুলে বলেন, “উপরে ফিটফাট ভিতরে সদর ঘাট”। কারন জানতে চাইলে তারা জানায়, বাইরে মাইকে যাত্রীদের সুবিধার্তে দিক নির্দেশনা মূলক ঘোষনা চললেও ভীতরে ঠিক বিপরীত। বিভিন্ন পরিবহনের ব্যানারে আগত যাত্রীদের ৫০/৬০টি করে বই এক সাথে এনে সিল মেরে নিয়ে যায় লাইন ছাড়াই। অথচ আমরা ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকি। দূর্নীতির আখড়া এখন  ইমিগ্রেশান, অর্থবানিজ্যে এখানকার কর্মকর্তারা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনলেও চিকিৎসার জন্য ভারত যাওয়া রোগী, সিনিয়র সিটিজেন ও নীরহ যাত্রীদের প্রতি নেই কোন মানবিকতা।

অভিযোগের সত্যতা যাচায়ে স্টেশনটিতে গিয়ে একাধিক সূত্র হতে এসব বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়।

কাস্টমস ইন্সেপেক্টর আব্দুর রহমান, সিপাহী মুসা, আনসার সদস্য জাকির ও দেলোয়ার এর নেতৃত্বে একটি শক্তিশালি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে যাত্রীর সাথে আনা অতিরিক্ত পন্য (যা শুল্ক প্রযোজ্য) ব্যাগ প্রতি ২ হতে ৫ হাজার টাকা চুক্তিতে পারাপার করে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। উর্ধ্বতন সহ বিভিন্ন পর্যায়ের কাস্টমস্ কর্মকর্তাদের নিয়মিত সপ্তাহিক হিসাব দিয়েই চালায় সিন্ডিকেট। তাই পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত খবরেও পরিবর্তন বা বন্ধ হয়না স্টেশনটির সীমাহীন দূর্নিতী-অনিয়ম।

ইন্সেপেক্টর আব্দুর রহমানের মুঠোফোনে দূর্নীতির কথা জানতে চাইলে তিনি সরাসরি সাক্ষাৎ করার কথা বলে ফোন কেটে দেন। বার বার চেষ্ঠা করেও আর কল রিসিভ করেননী।

বেনাপোল কাস্টমসের চেকপোস্ট শাখার দ্বায়িত্বরত ডেপুটি কমিশনার শামীমুজ্জামানের কাছে যাত্রী অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো পর্যন্ত যাত্রীরা আমার নিকট অভিযোগ করেনী। তবে এ বিষয়ে আমি উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহন করবো।

ইমিগ্রেশান চত্তরটি সিসি ক্যামেরার আওতাভূক্ত থাকা অবস্থায় যাত্রী ল্যাগেজ পরিত্যক্ত অবস্থায় কাস্টমস চত্তরে পড়ে থাকার কারন জানতে চাইলে তিনি আরো জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।

এ ব্যাপারে ইমিগ্রেশানটির দ্বায়িত্বরত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে কথা বলতে সরাসরি অফিসে গিয়ে তিনি ছুটিতে থাকায় না পেয়ে মুঠো ফোনে কল করেও রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বাংলাপত্রিকা/এসআর
 

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন