জাতিগঠনে অনন্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম আমাদের টেলিভিশন: তথ্যমন্ত্রী

বাংলা পত্রিকা ডেস্ক | জাতীয়
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ০৯:০৫:৪৫ পিএম
জাতিগঠনে অনন্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম আমাদের টেলিভিশন: তথ্যমন্ত্রী
‘জাতিগঠনে টেলিভিশন অনন্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম’ বলেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। বিশ্ব টেলিভিশন দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বেঙ্গল মাল্টিমিডিয়া স্টুডিওতে আরটিভি’র সহায়তায় ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

‘কেমন আছে দেশের টেলিভিশন ?’ শীর্ষক আলোচনায় মন্ত্রী বলেন, ‘শিশু-কিশোরসহ আমাদের পুরো জনগোষ্ঠীর ওপর টেলিভিশনের প্রভাব ব্যাপক। যে মাধ্যমের এতবড় প্রভাব, সেটিকে আমরা জাতিগঠনের বিশাল কাজে লাগাতে পারি। আমাদের নতুন প্রজন্মের মনন তৈরি এবং একইসাথে ভবিষ্যতের স্বপ্নের ঠিকানায় দেশকে পৌঁছানোর জন্য যেমন মেধা, মূল্যবোধ ও দেশাত্মবোধসম্পন্ন জনগোষ্ঠী তৈরির সক্ষমতা আমাদের টেলিভিশনের রয়েছে।’  

‘নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের মধ্যে আত্মপ্রত্যয়, দেশাত্মবোধ, মমত্ববোধ ও মূল্যবোধের  উন্মেষ ঘটিয়ে পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গড়া তোলার দায়িত্ব আমাদেরই’ উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, অনুষ্ঠান তৈরি ও সাজানোর ক্ষেত্রে এই কাজগুলো যদি আমরা মাথায় রাখি, তাহলে যে অনুষ্ঠানই আমরা করি, সেটার মাধ্যমেই এ দায়িত্বপালন সম্ভব।

সমাজের কল্যাণের দিকে দৃষ্টি রাখাকে টেলিভিশনের দায়িত্ববোধের অংশ বলে বর্ণনা করে মন্ত্রী বলেন, কিছু বিদেশি চ্যানেলে কিভাবে সংসার ভেঙ্গে যাচ্ছে, পরকিয়া প্রেম হচ্ছে বা একে অপরের বিরুদ্ধে কূটচাল দিচ্ছে সেটি দেখাতে পারে। মানুষও এগুলো দেখতে আগ্রহী হতে পারে। কিন্তু দর্শকপ্রিয়তার জন্য আমাকেও সেটিই দেখাতে হবে ‘নট দ্যাট’। সেটির বিপরীতে কি দেখালে জাতিগঠনে কাজে লাগবে, সমাজের কল্যাণে লাগবে, সেটাই গবেষণা করে বের করে দেখানোর জন্য আমরা যদি উদ্যোগ নিই, আমি মনেকরি সেটি আমাদের জাতি ও সমাজের কল্যাণে আসবে।

টেলিভিশন তথা সম্প্রচার জগতের নিয়মতান্ত্রিক প্রসারে সরকারের আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন,   ‘বিদেশি সিরিয়াল যেগুলো চলছে সেগুলোর অনুমতি লাগবে। কোনো কোনোটি অনুমতি নিয়েছে এবং যারা অনুমতি চেয়েছে, সেগুলোর প্রক্রিয়াধীন। একটি সিনেমা মুক্তি পেতে হলে তাকে সেন্সর বোর্ড হয়ে অনুমতি নিতে হয়। বিদেশি সিরিয়ালের জন্য তো লিখলেই আমরা অনুমতি দিতে পারি না। সেজন্য খুব সহসা আমরা একটি কমিটি গঠন করে দেব।এটি সেন্সর বোর্ড হবে না, কমিটি হবে। সেই কমিটি দেশের আর্থ-সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট এবং আমাদের জনগোষ্ঠির কল্যাণের বিষয়টি বিচার বিশ্লেষণ করে সিরিয়ালের অনুমতি দেবে।’

টেলিভিশনে চাকুরিরতদের মেধাবী বলে উল্লেখ করে তাদের চাকুরি সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে ড. হাছান বলেন, ‘টেলিভিশনে যারা কাজ করেন, তাদের চাকুরির কোনো নিশ্চয়তা নাই, একেবারে নাই তা নয়, তবে পর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষা নাই। যেভাবে থাকা দরকার, সেটি করার জন্য আপনাদের সাথে আলোচনা করে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সুরক্ষার ব্যাপারে একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। বিদ্যমান সম্প্রচার নীতিমালার আলোকে সেটি করা সম্ভব। এবিষয়ে মালিকদের বিশেষ দায়িত্ব আছে বলে আমি মনে করি।’

টেলিভিশন যেন ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়ী স্বার্থে ব্যবহার না হয়, সেবিষয়ে গুরুত্বারোপ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মনে রাখা প্রয়োজন আমার প্রতিষ্ঠান যেন আমার স্বার্থরক্ষার কাজে ব্যবহার না হয়, এই দৃষ্টিকোণটা থাকা প্রয়োজন। আমি একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি বা এর সাথে যুক্ত আছি বলেই আমার ব্যবসায়ী স্বার্থ, ব্যক্তিগত স্বার্থে যেন ব্যবহার না হয়, সেটি দেখার প্রয়োজন বলে আমি মনেকরি।’

দীপ আজাদের সঞ্চালনায় ডিবিসি টেলিভিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরী, একাত্তর টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু, আরটিভি’র প্রধান নির্বাহী সৈয়দ আশিকুর রহমান, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন’র সম্পাদক নঈম নিজাম, মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের বার্তা প্রধান রেজওয়ানুল হক, একাত্তর টেলিভিশনের বার্তাপ্রধান শাকিল আহমেদ, সারাবাংলাডটনেট সম্পাদক সৈয়দ ইসতিয়াক রেজা, চ্যানেল ২৪ এর বার্তা প্রধান রাহুল রাহা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন বিভাগের অধ্যাপক ড. এজেডএম শফিউর আলম ভূঁইয়া প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।

বাংলাপত্রিকা/এসআর

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন