টাঙ্গাইলে জমে উঠেছে কলার হাট

হাসান সিকদান, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি | সারাদেশ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ১১:৩৪:৩০ পিএম
টাঙ্গাইলে জমে উঠেছে কলার হাট
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কুতুবপুর বাজারে এক বিশাল কলার হাট জমে উঠেছে। কলার হাট হিসেবে ইতোমধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠা হাটটিতে প্রতি সপ্তাহে প্রায় কোটি টাকার কলা বিক্রি হয়ে থাকে।

রোববার ও বুধবার এখানে কলার হাট বসে। তবে হাটের আগের দিনই কলা বিক্রির জন্য চাষীরা কলা এনে পসরা সাজিয়ে রাখেন। এখান থেকেই সখীপুরে উৎপাদিত কলা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে। স্থানীয় কলা চাষী, ব্যবসায়ী ও হাট ইজারাদারদের সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা যায়, উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় কলার হাট হিসেবে পরিচিত এখন সখীপুর উপজেলার কুতুবপুর বাজার। এ হাটে উপজেলার বড়চওনা, দারিপাকা, শ্রীপুর, তৈলধারা, কুতুবপুর, মুচারিয়া পাথার, শালগ্রামপুর, গজারিয়া, কীর্ত্তণখোলাসহ বিভিন্ন গ্রামের কলা চাষীরা কলা বিক্রি করতে আসেন।

এছাড়াও জেলার ঘাটাইল, মধুপুর ও কালিহাতী, ধনবাড়ি উপজেলা এবং ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া, ভালুকা উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চাষী ও ব্যবসায়ীরা কলা বিক্রি করতে আনেন। এরপর তাদের কাছ থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা কলা কিনে, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্রগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে বিক্রি করেন।

কুতুবপুর বাজারের কলা ব্যবসায়ীরা বলেন, প্রতি হাটে এখান থেকে ২০-২৫ ট্রাক কলা দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। ওই হাটের কলার আড়তদার ফজলুল হক জানান, কলা ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এখানে সাতটি আড়ৎ গড়ে উঠেছে।

সরেজমিন কুতুবপুর হাট ঘুরে ব্যবসায়ী ও কলা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর কলার দাম অনেকটাই বেশি। প্রতি কাঁদ কলা এখন বিক্রি হচ্ছে ২০০-৫০০ টাকা দরে। কলার কাঁদের ওপর নির্ভর করে দাম কম-বেশি হয়ে থাকে বলে জানান কলা ব্যবসায়ী হোসেন মিয়া।

তিনি আরও বলেন, এ বাজারের কলাগুলো খুবই উন্নত মানের এবং দেশের সব জায়গায় রয়েছে এ কলার চাহিদা। এ কারণে এখানে কলার দামও একটু বেশি। ১৫ থেকে ১৮ ছড়ি মধ্যম মানের একটি কলার কাঁদ বিক্রি হয় অন্তত ৩০০ টাকা দরে। এর চেয়ে ভালো মানের কলা বিক্রি হয় ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

সখীপুর উপজেলার প্রতিমা বংকী গ্রামের কলাচাষী স্বপন আহমেদ বলেন, টাঙ্গাইল জেলার মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় কলার হাট। অন্যান্য বাজারেই তুলনায় এ বাজারে বেশি কলা বিক্রি হয়। এখানে দামও কিছুটা ভালো পাওয়া যায়। এ কারণে কুতুবপুরে কলার আমদানিও বেশি।

ঘাটাইল উপজেলার গারোবাজারের কলাচাষী হযরত আলী বলেন, এ বছর তিনি সাড়ে চার বিঘা জমিতে কলা চাষ করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে ৩০০টি হিসাবে সাড়ে পাঁচ বিঘা জমিতে এক হাজার ৫০০ কলা গাছ লাগিয়েছেন। প্রতি বিঘা জমি থেকে অন্তত ৮০ হাজার টাকার কলা বিক্রি হবে বলে তিনি বলেন।

তিনি আরও বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে কলা চাষ করতে তার ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

কুতুবপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মজিবুর রহমান ফকির বলেন, প্রতি রোববার ও বুধবার কলার হাটটি বসে। তবে হাটের আগের দিনই চাষীরা কলা এনে বিক্রির জন্য থরে থরে পসরা সাজিয়ে রাখে। হাটবারের দিন ভোর থেকেই বেপারীরা কলা কিনতে শুরু করেন। এ বাজারে সপ্তাহে প্রায় কোটি টাকার কলার বেচা-কেনা করা হয়। তাছাড়া এ বাজার জেলার মধ্যে অন্যতম বিখ্যাত কলার বাজার বলে খ্যাত রয়েছে।

বাংলাপত্রিকা/এসএ

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন