প্রধানমন্ত্রীকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের উপায় জানালেন রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক | রাজনীতি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ০১:০৬:০৮ পিএম
প্রধানমন্ত্রীকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের উপায় জানালেন রিজভী
খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে তার সঙ্গে বৈঠকে বসে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আহবান জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহবান জানান।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা লক্ষ্য করেছেন, গতকাল সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা জিয়াউর রহমানের সৃষ্টি’। রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে নিজেদের অনতিক্রম্য দুর্বলতা ও ব্যর্থতার গ্লানি ঢাকতেই প্রধানমন্ত্রী আজগুবি কথা বলছেন। উন্মাদ অভিগ্রস্ত না হলে এধরণের কথা বলা যায় না।

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ইতিহাস সাক্ষী, দেশের জনগণ সাক্ষী, মিয়ানমার বারবার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দিয়ে সমস্যা সৃষ্টি করতে চেয়েছিলো। কিন্তু ৭৮ সালে সেটি শক্ত হাতে মোকাবেলা করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ৯২ সালেও রোহিঙ্গা সংকট কঠোর ও সফলভাবে মোকাবেলা করেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের যারা খবর রাখেন সেই সমস্ত ব্যক্তিরাও এই কথাগুলি উল্লেখ করছেন। আমরা এবারো বলেছি, রোহিঙ্গা সংকট কোনো দলীয়ভাবে দেখার বিষয় নয়, এটা একটা জাতীয় সংকট। এই সংকট বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রশ্ন। ফলে জাতীয় সংলাপ ডাকুন। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে সংলাপে বসুন। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তাঁর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগান। রোহিঙ্গা ইস্যু দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে গিয়ে এখন সমস্যাটিকে উপক্রান্ত অবস্থায় সমাধান না করে লেজে গোবরে পাকিয়ে ফেলা হয়েছে। সরকার প্রধান নিজের ইমেজ তৈরীর হাতিয়ার হিসেবে এটিকে ব্যবহার করতে গিয়ে ভয়ঙ্কর মানবদুর্যোগের সৃষ্টি করেছেন। জনগণের ম্যান্ডেটবিহীন নৈতিকভাবে দুর্বল এই সরকারের মনোবল এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে, তারা কোন কুটনৈতিক প্রচেষ্টাই চালাতে পারছেন না। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ব্যর্থতায় প্রমানিত হয়েছে-এই সরকার বন্ধুহীন হয়ে পড়ছে। সেই জন্যই প্রধানমন্ত্রী নিজের ব্যর্থতা আড়াল করতে অন্যের সফলতা নিয়ে অবান্তর কথা বলছেন।

রিজভী বলেন, কারাগারে যথাযথ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে চিরতরে পঙ্গু করে দেয়ার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের অপকৌশল প্রয়োগ করছে সরকার। বিনা চিকিৎসায় তাঁকে কারাগারে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যার চক্রান্ত চলছে। গত ৬৪৫ দিন যাবত বিনা অপরাধে কারাবন্দী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে গুরুতর অসুস্থ এটা দেশের প্রতিটি মানুষ জানেন। অথচ সবকিছু জেনেও শুধুমাত্র রুদ্ধকপাট মুক্তিহীন দেশনেত্রীকে রোগে-শোকে কষ্ট দেয়ার জন্যই তাঁর চিকিৎসায় বাধা দেয়া হচ্ছে। সুচিকৎসার অভাবে ৭৫ বছর বয়স্ক চারবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা দিন দিন আশংকাজনকভাবে অবনতি ঘটছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ইতিহাস আওয়ামী লীগের।

তিনি আরও বলেন, পিজি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁর স্বাস্থ্য সম্পর্কে সরকারের শেখানো বক্তব্য ও ব্যাখ্যা দিলেও সুচিকিৎসার কোন পদক্ষেপই নেয়নি। গত এক সপ্তাহে কোন চিকিৎসক বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাননি। তাঁর হাতে যে ব্যথা ছিল তা পা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। সারা শরীরে প্রচন্ড ব্যথা। নার্সরা তাঁর হাতে-পায়ে হাত দিতে পারছেন না, হাত দিলেই তিনি প্রচন্ড যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে যাচ্ছেন। তাঁর ডান পায়ের গোড়ালীতে একটা ফোড়ার কারণে সেই যন্ত্রণা আরও তীব্রতর হয়েছে। অথচ সরকারী চিকৎসকরা দেশনেত্রীকে চিকিৎসা করছেন না। তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। দেশবাসী তাঁর অসুস্থতা নিয়ে উৎকন্ঠায় প্রহর গুনলেও স্বাস্থ্যের সঠিক অবস্থা জনগণের সামনে প্রকাশ করছে না সরকার। বেগম জিয়ার রিউমেটোয়েড আর্থাইটিস এর জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ড এর চেয়ারম্যান এখনও কোন মতামত দিচ্ছেন না। অথচ ইতোমধ্যে রিউমেটোয়েড আর্থাইটিস এর তিন জন চিকিৎসক সদস্যের সমন্বয়ে বোর্ডের যে রিপোর্ট সেটিও প্রকাশ করা হচ্ছে না। মেডিকেল বোর্ডের চেয়ারম্যান তার বোর্ডের অপর তিন জন সদস্যকে নিয়ে অদ্যাবধি কোন বোর্ড মিটিং করেননি। মেডিকেল বোর্ডের চেয়ারম্যান কি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা অন্যান্য সদস্যদেরকে জানাচ্ছেন না। গতকাল বুধবার দেশনেত্রীর সঙ্গে তাঁর ভাই-বোনরা সাক্ষাত করে তাঁর গুরুতর অসুস্থতায় গভীর উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা প্রকাশ করেছেন। দেশনেত্রী হাইলি এক্টিভ ডিফরমিং, রিউমেটোয়েড আর্থাইটিস, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশনসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন। রোগের প্রয়োজনীয় যথাযথ চিকিৎসা ও পরিচর্যা না হওয়ার কারণে উনার হাত ও পায়ের ছোট ছোট জয়েন্টগুলোসহ বিভিন্ন জয়েন্ট ফুলে গেছে এবং তাতে তীব্র ব্যথা অনুভুত হচ্ছে। উঠতে-বসতে পারছেন না।জয়েন্টগুলো শক্ত হয়ে যাচ্ছে,যা অচিরেই স্থায়ী রুপ ধারণ করতে পারে। হাত, পায়ের আঙুল বেঁকে যাচ্ছে। নিজ হাতে কিছু খেতেও পারছেন না।

বিএনপির এই নেতা বলেন, অথচ এই সমস্ত জটিল ও গুরুতর রোগগুলোকে নিয়ে সরকারের মন্ত্রী ও নেতারা উপহাস করছেন। জনগণের সেন্টিমেন্ট তোয়াক্কা করে না বলেই সরকার দেশের একজন জনপ্রিয় নেত্রীর জীবনকে নি:শেষ করে দেয়ার সকল আয়োজনে ব্যস্ত রয়েছে। একদলীয় পলিটিক্যাল মনোপলি বজায় রাখার জন্যই বেগম জিয়ার জীবন বিপন্নের আয়োজনে সরকারের আগ্রাসী অসহিষ্ণুতা প্রবল হয়ে উঠেছে। সেজন্য তাঁর চিকিৎসার অধিকারটুকুও কেড়ে নেয়া হয়েছে। জেলখানায় সঠিক চিকিৎসা হয়না এটা সবাই জানেন। সেখানে স্বাভাবিক পরিবেশ না থাকায় যেকোন জটিল রোগ ক্রমাগত সুচিকিৎসার অভাবে প্রাণহানির পর্যায়ে উপনীত হয়। আমরা মনে করি, এই সরকার অন্ধ প্রতিহিংসার বশে বেগম খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতেই তাঁর সুচিকিৎসা প্রদানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তাঁর প্রাপ্য জামিনে সরাসরি বাধা দেয়া হচ্ছে। নগ্নভাবে আদালতের ওপর হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে অসত্য সংবাদ পরিবেশন করতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা এক ভয়াবহ চক্রান্তের বর্ধিত প্রকাশ।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রতিটি দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী শক্তির ঐক্যের প্রতীক, সাহস ও প্রেরণার প্রতীক। সরকারের এই টালবাহানায় খালেদা জিয়ার কোনো ক্ষতি হলে এর পরিণতি ভালো হবেনা। এখনো সময় আছে, বিএনপি নেত্রীর বিরুদ্ধে, বিএনপির বিরুদ্ধে চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র বন্ধ করুন। দেশটাকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেবেন না। বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী, চারবারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখন প্রতিহিংসার মিথ্যা মামলায় বন্দী ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগহীন একজন মানুষ। দেশের প্রতিটি মানুষ জানেন, এই বিনা ভোটের ভূয়া সরকার ক্ষমতা হারানোর ভয়ে তাঁকে নিয়ে যা করছে তা গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আবারো বলবো-এই ষড়যন্ত্র তো অনেক হলো, এবার থামুন। দেশনেত্রীর নি:শর্ত মুক্তির জন্য আবারও জোর আহবান জানাচ্ছি।

বাংলাপত্রিকা/আরইউ

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন