বেনাপোলে রজনী ক্লিনিক মালিকের অপ কৌশলে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা

মাহমুদুল হাসান বাবু, শার্শা প্রতিনিধি | সারাদেশ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ১২:১৭:৩১ পিএম
বেনাপোলে রজনী ক্লিনিক মালিকের অপ কৌশলে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা
বন্দর নগরী বেনাপোলের বিতর্কিত প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান রজনী ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অব্যাবস্থপনা, অবহেলা ও অপচিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর ঘটনা বাড়লেও প্রতিষ্ঠান মালিক ডাঃ আমজাদ হোসেনের কালো অর্থের দাপটে থেমে নেই অসহায় রোগীর জীবন নিয়ে মরন খেলা।

সম্প্রতি ক্লিনিকটিতে সময়ক্ষেপনের কারনে নবজাতক মৃত্যুর ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়েছে এলাকাজুড়ে। গত ১৩ই নভেম্বর বুধবার রাত ৮টায় বেনাপোলের পৌরসভার নারনপুর গ্রামের নাজমা বেগম(২৭)নামে এক প্রসুতির সিজার করা হয় বিতর্কিত রজনী ক্লিনিকে। সিজার শেষে মৃত বাচ্চা বের করা হয়। বাচ্চাটির নাক দিয়ে রক্ত বের হতে দেখা যায়। মৃত নবজাতকটির পিতার নাম আকবার হোসেন, সে নারনপুর নতুন পাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা ও সহজ সরল প্রকৃতির মানুষ।

রোগীর স্বজনদের দেওয়া তথ্য মতে, নাজমার প্রসব বেদনা ওঠলে বুধবার সকালে তাকে স্থানীয় রজনি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ আল্ট্রাসনোগ্রাফী সহ যাবতীয় পরীক্ষা করে জানায় মা ও শিশু দু জনই সুস্থ আছে তবে বাচ্চা সিজার ছাড়া নরমালে হবেনা। সে অনুযায়ী স্বজনেরা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে ব্যাবস্থা নিতে বলেন। ক্লিনিকটির ধুরুন্ধর ম্যানেজার সুইট ভালো ডাক্তার ক্লিনিকেই আছে বলে চালাকি করে ঐ প্রসুতিকে ক্লিনিকে আটকে রাখেন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার কারনে প্রসুতি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা ৭টায় রজনী ক্লিনিকের ডাক্তার আসাদুজ্জামান যশোর হতে এসে ঐ প্রসুতির সিজার করে। সিজার করতে দেরী হওয়ায় বাচ্চা মারা গেছে বলে ডাক্তার রোগীর স্বজনদের জানায়।

এ ঘটনায় তাৎক্ষনিক ক্লিনিক চত্তরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনসাধারন ঘটনা শুনে ক্লিনিক বন্ধের দাবীতে বিক্ষোভ ও ডাক্তার কে ঘেরাও করেন। খবর পেয়ে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের সদস্য ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুন খান ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নাভারন অঞ্চলের সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জুয়েল ইমরান ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন আনুমানিক রাত ১০.৩০মিনিটে। এ সময়ের মধ্যেই চালবাজ ডাক্তার আমজাদ সু কৌশলে সব ম্যানেজ করে ফেলে ঘটনা ধামাচাপা দিতে।

বিতর্কিত এ ডাক্তার ১ যুগেরও বেশী সময় ধরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সমাজপতি, প্রশাসন ও সংবাদকর্মী ম্যানেজ করেই অব্যাস্থপনার মধ্যেই ক্লিনিক চালিয়ে কোটিপতি বনে গেছে। যার ভিতর রোগী মৃত্যুর ঘটনা ১০টিরও বেশী রয়েছে। বাইসাইকেল ছেড়ে চড়ছেন এখন দামী গাড়ি। বসছেন এসি রুমে। সবই সম্ভব করেছেন অশিক্ষিত, অসহায় রোগীর স্বজনদের বোকা বানিয়ে, চিকিৎসার নামে প্রতারনা করে।

ছেলে হাতুড়ে ডাক্তার আসাদুজ্জামান ক্লিনিকটিতে যশোর হতে আগত ডাঃ আসাদুজ্জামান এর নাম ভাঙ্গিয়ে ও প্রেসক্রিপশান প্যাড ব্যাবহার করে রোগীদের চিকৎসা করে অবৈধ্য ভাবে ফি গ্রহন করেন। আমজাদ হোসেনের ভাই করেন এক্সরে, আলট্রাসনোর মত গুরুত্বপূর্ন টেস্টও করেন তিনি। যদিও সে ডাক্তার না। এ ভাবেই পারিবারিক সদস্য দিয়ে ক্লিনিক চালিয়ে রোগীর সাথে প্রতারনা করে অর্থ বিত্ত গড়ছেন অন্যদিকে ক্লিনিকটিতে সেবা নিতে আসা রোগীদের অপ চিকিৎসা দিয়ে ভবিষ্যৎ জীবন হুমকির মুখে ফেলছেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের নানা অভিযোগে দুষ্ট রজনী ক্লিনিকের ব্যাপারে প্রশ্নের উত্তরে সহকারী পুলিশ সুপার জুয়েল ইমরান বলেন, মৃত নবজাতকের পরিবার যদি থানায় অভিযোগ জানায় তবেই আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের এহেন বক্তব্যে হতবাক এলাকাবাসী। তারা ডাক্তার আমজাদ এর অপচিকিৎসার হাত হতে মুক্তি পেতে যশোর সিভিল সার্জন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সহ সর্বোপরী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

বাংলাপত্রিকা/আরইউ

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন