আমতলীতে ৪৮ঘন্টা বন্ধ বিদ্যুৎ সরবরাহ

পারভেজ শাহরিয়ার, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি | সারাদেশ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯ | ০৫:৩০:৫০ পিএম
আমতলীতে ৪৮ঘন্টা বন্ধ বিদ্যুৎ সরবরাহ
ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে বরগুনার আমতলী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গাছপালা উপড়ে পড়ে কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। দুই দিনের স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে তলিয়ে গেছে বেরিবাঁধের বাহিরে বসবাসকারী পরিবারের বাড়ি-ঘর। একদিন বন্ধ থাকার পরে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার রুটের সকল সড়ক ও নৌযান চলাচল শুরু করেছে। বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে ও তার ছিঁড়ে দুদিন ধরে উপজেলার সর্বত্র বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। আমন ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা।

সরেজমিনে আমতলী পৌরসভা ও উহার আশপাশে ঘুরে দেখা গেছে, পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্নস্থানে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে প্রায় শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ও সহাস্রাধিক গাছপালা বসত ঘরের ওপড় পড়ে বাড়ি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

বেশীরভাগ গাছপালা ওপড়ে বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে রবিবার সকালে। সড়কের উপড়ে পড়ে থাকা গাছপালা আমতলী থানা পুলিশের উদ্যোগে তা কেটে রাস্তা পরিস্কার করে দিয়েছে।
অপরদিকে গত দুই দিনে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পায়রা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে তলিয়ে গেছে বেড়িবাঁধের বাহিরে বসবাসকারী প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের বসত ঘর।

বেড়িবাঁধের বাহিরে বসবাসকারী বৈঠাকাটা গ্রামের জেলে রুস্তুম বলেন, রবিবার ও সোমবার পায়রা নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পানি বৃদ্ধি পেয়ে আমারসহ এখানে বসবাসরতদের বাড়িঘর তলিয়ে গেছে। উপজেলার বেশ কয়েকটি স্পটে বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে ও তার ছিঁড়ে শনিবার রাত থেকে এখন পর্যন্ত আমতলী উপজেলায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সোমবার দুপুর ২টায় পৌর শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার চেষ্টা চলছে বলে পল্লীবিদ্যুৎ সূত্রে জানা গেছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি আমতলী এরিয়া অফিসের সহকারী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার জিয়া উদ্দিন তরফদার জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে এ পর্যন্ত বিদ্যুতের ৫টি খুঁটি ও তার ছিঁড়ে আমতলীতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

অপরদিকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে একটানা বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় উপজেলার বেশীরভাগ এলাকায় আমন ধান ও রবি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মুষলধারে বৃষ্টি ও বাতাসে ক্ষেতের আমন ধান হেলে পড়েছে বলে একাধিক কৃষক জানিয়েছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. রেজাউল করিম জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে একটানা বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় আমন ধান ও রবি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এই মূহুর্তে বলা যাচ্ছে না।

পৌর মেয়র মো. মতিয়ার রহমান মুঠোফোনে বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে পৌরসভার মধ্যে যে সকল বাসিন্দাদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তাদের সহায়তা দেয়া হবে।

আমতলী থানার ওসি মো. আবুল বাশার বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে উপজেলার যে সকল সড়কে গাছপালা উপড়ে পড়েছিল তা আমরা কেটে সড়কগুলো পরিস্কার করে যান চলাচলের উপযোগী করে দিয়েছি।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে আমতলীতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ও গাছপালা উপড়ে পড়ার সংবাদ পেয়েছি। বিধ্বস্ত বাড়িঘরের বাসিন্ধাদের সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে।
 
বাংলাপত্রিকা/এসএ

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন