বেনাপোল রেলস্টেশনটিতে যাত্রী দুর্ভোগ চরমে

মাহমুদুল হাসান বাবু, র্শাশা প্রতিনিধি | বাংলা পত্রিকা স্পেশাল
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ নভেম্বর ২০১৯ | ০২:৪৫:২৬ পিএম
বেনাপোল রেলস্টেশনটিতে যাত্রী দুর্ভোগ চরমে
বেনাপোল রেলওয়ে কর্মকর্তাদের অনিয়ম-অব্যাস্থপনায় স্টেশনটিতে আগত যাত্রীদের দর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। স্টেশন চত্তরে দালাল চক্রের অবাধ ঘোরাফেরা, বিদ্যুৎ চলে গেলে টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখা, ব্ল্যাকারদের আধিপত্যে সাধারন যাত্রী অতিষ্ঠ, টিকিট বিহীন যাত্রীর কাছ হতে টিটির রশিদ বিহীন টাকা গ্রহন, ট্রেন ছাড়ার নির্ধারীত সময় সূচী মেনে না চলা, যাত্রী সেবা মান নিন্ম, নিরাপত্তা পুলিশের অর্থ বানিজ্য সহ নানা অনিয়মের ফাঁদে জর্জরীত হয়ে নিয়ত হয়রানী হতে হচ্ছে স্থানীয় জনগন সহ দেশের বিভিন্ন জেলা হতে আগত গমনাগমন ইচ্ছুক যাত্রীদের।

স্টেশনটির দীর্ঘসময় ধরে দায়িত্বে থাকা স্টেশন মাস্টার সাইদুজ্জামানের বিরুদ্ধে রেলওয়ে সম্পত্তি ইজারা দিয়ে অর্থবানিজ্য, বিভিন্নখাতে ভূয়া বিল-ভাউচার তৈরীর মাধ্যমে রেলওয়ের উন্নয়নে বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাতের গুঞ্জন সহ নানা অনিয়মের একাধিক যাত্রীর অভিযোগ রয়েছে।

বৃহষ্পতিবার বিকালে শুক্রবার সকালে ছেড়ে যাওয়া ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ এ যাত্রার জন্য অগ্রীম টিকিটি কাটতে গিয়ে বিড়ম্বনার শীকার হন বেনাপোল বাজারের বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী শাহিনুর রহমান বিশ্বাস। স্টেশনটির স্টেশান মাস্টার এর প্রতি অভিযোগ তুলে বলেন সব লুটে খাচ্ছেন আর যাত্রীদের বোকা বানীয়ে হয়রানী দিচ্ছেন। তিনি জানান, ৩ঘন্টা স্টেশান চত্তরে দাড়িয়ে থেকে টিকিট না পেয়েই তিনি বাড়ি ফিরেছেন, আক্ষেপ জানিয়ে তিনি আরো বলেন, বেনাপোল স্টেশন এখন আন্তর্জাতিক স্টেশন হয়েছে। কেননা এখানে বাংলাদেশ- ভারত চলাচলরত মৈত্রী রেল থামে। এই স্টেশন হতে ঢাকা রুটে বিরতীহীন ট্রেন ছাড়ে, খুলনা লোকাল ট্রেনও দিনে দুবার ছাড়ে অথচ এখানে বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘন্টারপর ঘন্টা টিকিটের জন্য দাড়িয়ে থাকতে হয়।

একই অভিযোগ জানিয়েছেন যশোর এম এম কলেজের অনার্স পড়ুয়া ছাত্র হিরন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সেতু, দূর্গাপুর গ্রামের বাসীন্দা মুসা, মানকিয়া গ্রামের রশিদ সহ অনেকে ভূক্তভোগী।

এ বিষয়ে রেলওয়ের বেনাপোল স্টেশান মাস্টার সাইদুজ্জামান বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের টিকিট দিতে পারেনি। বিকল্প ব্যবস্থায় টিকিট দেননী কেন প্রশ্নে তিনি বলেন, ৫/৭টিকেটের জন্য জেনারেটর চালানো সম্ভব না।

এ বিষয়টি রেলওয়ের পাকশী জোনের ব্যাবস্থাপক কে মুঠো ফোনে জানালে তিনি বলেন, ওই স্টেশনে আমাদের জেনারেটর ও আইপি এস আছে। কর্মরতরা টিকিট দিতে বাধ্য বিষয়টি। আমি এখনি দেখছি।

তাহলে কি স্টেশানটির দ্বায়িত্বরতরা দিনের পর দিন বিদ্যুৎ এর বিকল্প হিসাবে বরাদ্দ দেওয়া অর্থ আত্মসাত করে যাত্রীদের সাথে প্রতারনা ও হয়রানী করছেন এমন প্রশ্ন এখন স্থানীয় জনগনের।

বিষয়টি দৃষ্টিআকর্ষন করে দ্রুত সমাধান চেয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে মহা পরিচালকের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভূক্তভোগী যাত্রীরা।

বাংলাপত্রিকা/আরইউ

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন