জামালপুরসহ ৫ জেলার ১১৭ জন দুর্নীতিবাজের তালিকা গোয়েন্দার কাছে

শাকিল আহমেদ, জামালপুর জেলা প্রতিনিধি | বাংলা পত্রিকা স্পেশাল
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ নভেম্বর ২০১৯ | ১২:৫২:৪৬ এএম
জামালপুরসহ ৫ জেলার ১১৭ জন দুর্নীতিবাজের তালিকা গোয়েন্দার কাছে
দুর্নীতি বিরোধী ‘শুদ্ধি’ অভিযানের অংশ হিসাবে এবার বৃহত্তর ময়নসিংহের ৫ জেলার ১১৭ জনের তালিকা নিয়ে মাঠে নেমেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। একটি গোয়েন্দা সংস্থা এসব অভিযুক্তদের ব্যাপারে নির্দেশনা চেয়ে ঢাকার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তালিকা পাঠিয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, সবুজ সংকেত পাওয়ার পর তালিকায় নামধারীদের গ্রেপ্তার করা হবে।

ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইলের জড়িতদের মধ্যে মধ্যে রয়েছে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, হাসপাতালের ঠিকাদার, অধ্যক্ষ, প্রভাবশালী এমপির পুত্র ও স্বজনরা। অবশ্য এরই মধ্যে অনেকে আবার দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে জানাগেছে। ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের দুর্নীতিবাজ নেতা ছাড়াও যারা কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তারাও আছেন এ তালিকায়। উপর মহলের নির্দেশ এলেই এদের বাসায় তল্লাশি শুরু হবে বলে গোয়েন্দা সংস্থাটির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তিনি জানান, অনুসন্ধান ও তদন্তের সময় কোনো দল বা মুখ দেখা হবে না।

যদিও ইতিমধ্যে এরা চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ নানা নানা অপকর্ম থেকে নিজেদের সরিয়ে রেখেছেন। আবার অনেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এইসব দূর্নীবাজদের আশ্রয় প্রশ্রয়দাতাগন ও সুবিধাভোগীরা চুপসে গিয়ে কেটে পড়ার চেষ্টায় আছে। বৃহত্তর ময়মনসিংহের জেলার সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যে কোনো মূহূর্তে গ্রেফ্তার অভিযান শুরু হতে পারে।

ইতিমধ্যে তালিকায় নাম থাকা ও তাদের সমর্থকদের মাঝেও যেকোন মুহুর্তে গ্রেপ্তার হতে পারে এমন খবরে আতংক বিরাজ করছে। ক্ষমতাসীন দল ও হঠাৎ কোটিপতি বনে যাওয়া ব্যক্তিদের কপালে দেখা দিয়েছে চিন্তার ভাঁজ। দলের ‘সাইনবোর্ড’ ব্যবহার করে যেসব নেতারা দুর্নীতি-অনিয়ম করে অর্থবিত্তে বলিয়ান হয়েছেন, নেতাকর্মীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদের আখের গুছিয়েছেন, তাদের রাত কাটছে অনিদ্রায়।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, ওপর মহলের নির্দেশে অবৈধ টাকার মালিক বনে যাওয়া ব্যক্তিদের পৃথক তালিকা হয়েছে। তালিকাভূক্তদের অধিকাংশই ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন সারির নেতা ও জনপ্রতিনিধি। এ তালিকায় সরকারি কর্মকর্তা, হাসপাতালের ঠিকাদার, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, এক এমপির মাদক কারবারি পুত্রসহ কয়েকজনের নামও যুক্ত রয়েছে বলে জানা যায়।
তালিকাভুক্তদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে এমনকি অনেকেই নজরদারীর মধ্যে রয়েছেন বলে জানাগেছে। শিগগির শুরু হতে পারে অভিযান এমনই আভাস পাওয়া গেছে উচ্চতর মহল থেকে। কাদের নাম আছে ওই তালিকায়- এ নিয়ে জামালপুর সহ বৃহত্তর ময়মনসিংহ জুড়ে চলছে তুমুল আলোচনা।

একাধিক সূত্র মতে, আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের বাইরে সরকারি কর্মকর্তাদেরও কয়েকজন আছেন এই তালিকায়, যারা উপরোক্ত জেলার চলমান বিভিন্ন ক্লাব হাউসের ‘প্রাণপুরুষ’।

সূত্রগুলো বলছে, ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতার বিরুদ্ধে জমা হয়েছে বিস্তর অভিযোগ। অভিযুক্তদের কেউ ক্রীড়াঙ্গনে ‘ভর’ করে হয়েছেন কোটি কোটি টাকার মালিক। ‘পাতি নেতা’ থেকে ঠিকাদারির মাধ্যমে অনিয়ম করে কেউ রাতারাতি বনে গেছেন কোটিপতি। কারও কারও বিরুদ্ধে বাসা-বাড়ি, জমি-জমা জবর দখলেরও অভিযোগ জমা পড়েছে। এ ধরনের অভিযোগ থেকে মুক্ত নন জনপ্রতিনিধিরাও। শোনা যাচ্ছে, তাদের কয়েকজনের নামও আছে তালিকায়।

কেবল নগর নয়, উপজেলা পর্যায়ে যারা খাস জমি দখল, অন্যের জমি বেদখল, রাষ্ট্রীয় কোষাগারের টাকা তছনছ করেছে। এসব খাত থেকে নেয়া লাখ লাখ টাকার ভাগ নিয়েছেন এবং তৃণমূলের সেসব রথিরা ক্ষমতার দাপটে মহারথি হয়েছেন, তাদের নামও তালিকায় রয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। কালো ব্যবসার আধিপত্য ধরে রাখতে নেতাকর্মীদের দিয়ে খুনাখুনি যারা করিয়েছেন সেসব নেতাদের নামও তালিকায় রয়েছে বলে জানাচ্ছে সূত্র।

ভূমি অফিস, সাব রেজিস্ট্রি অফিস, এলজিইডি, গণপূর্ত, দুর্নীতিবাজ ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নেতাদের যোগসাজশে নামে-বেনামে শত কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে, তাদেরও চিন্তায় পড়তে হচ্ছে তালিকা নিয়ে। এদের নামও রয়েছে তালিকায়।

আইনশৃংখলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলেন, আমাদের কাজই হলো জনগণকে নিরাপত্তা দেওয়া। অসামাজিক কাজ বা আইন বিরোধী কাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। সে ক্ষেত্রে সঠিক কাজটিই করছে সরকার। এই ধরনের অভিযান সরকারের ভাবমূর্তি আনেকাংশে বেড়েছে বলে বলে মনে করছেন সাধারন লোকজন। বিশেষ করে যখন তা যুবলীগ-ছাত্রলীগের মতো ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গ ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন থেকে শুরু হয়। এ দেশে আইন নিজের গতিতে চলা মুশকিল।

ব্যক্তি সম্পর্ক, রাজনৈতিক প্রভাবের মতো সনাতন অনেক বিষয় আছে, যা আইনি প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। সেখান থেকে উত্তরণ খুব সহজ নয়। তবে যেহেতু গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায়, তাই এ কার্যক্রমকে একটি নিয়মিত প্রক্রিয়ার মধ্যে আনতে হবে। আইনের মাধ্যমে বিষয়টি নির্মূল করতে হবে, যেন তা টেকসই হয়।

বাংলাপত্রিকা/এসএ

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন