তারাকান্দায় শর্ষিনাবাদ দারুচ্ছুন্নাৎ ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

ফজলে এলাহি ঢালী, তারাকান্দা প্রতিনিধি | বাংলা পত্রিকা স্পেশাল
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ নভেম্বর ২০১৯ | ১১:২৭:৪২ এএম
তারাকান্দায় শর্ষিনাবাদ দারুচ্ছুন্নাৎ ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ
ময়মনসিংহে তারাকান্দা উপজেলায় চর ফরিদপুর শর্ষিনাবাদ দারুসুন্নাৎ ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফি, বেতন, পরীক্ষা ফি, রেজিষ্ট্রেশন ফি, এডমিট কার্ড, ফরম পূরণ সহ যাবতীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে কোন রকম রশিদ প্রদান করা হয় না। উপ-বৃত্তির টাকা পাওয়ার জন্যও প্রতিষ্ঠানকে দিতে হয় জনপ্রতি ৩০০টাকা করে। অবৈধভাবে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমেও মোটা অঙ্কের উৎকোচ গ্রহন করা হয়েছে। একাধিক শিক্ষক এ বিষয়ে বার বার অভিযোগ করার পর ও কোনরুপ তদন্ত করা হয়নি।

সহকারী শিক্ষক লুৎফর রহমান, সহকারী শিক্ষক মোঃ মোসারফ হোসেন, সহকারী শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক মোঃ আঃ লতিফ, সহকারী শিক্ষক এফতেদায়ী প্রধান নুরুল হাবীব, সহকারী শিক্ষক আজিজুল হক বলেন, ১৯৮০ সালে এ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরু থেকে অনেক সুষ্ঠু ও নিয়ম মাফিক চলছিল কিন্তু অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে একনায়ক তন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে রশিদ ছাড়া অর্থ আদায় করার নিয়ম করেছেন তিনি। প্রতি বছর সরকারী অনুদান ছাড়াও ১৪/১৫ লক্ষ টাকা বার্ষিক বিভিন্ন খাতে আদায় করা হয়। দুই জনের বেতন শুধু প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া হয় ৭০০০ টাকা আর সকল শিক্ষকের সরকারীভাবে বেতন উত্তোলন করেন।

আলিম ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী আঃ মোতালেব বলেন, উপ-বৃত্তির টাকা পাওয়ার জন্য প্রত্যেকে ৩০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। অধ্যক্ষ স্যার আমাদের বলেছেন অফিসিয়াল কাজের জন্য লাগবে। দিতে হবে না দিলে উপ-বৃত্তির টাকা পাবো না।

সহকারী শিক্ষিকা নুর জাহান বেগম বলেন, ২০১০ সাল থেকে এখানে আছি কোন রশিদ এ পর্যন্ত চোখে দেখিনি। আমরা শুধু কত টাকা কি খাতে উঠানো হয়েছে তা লিখে জমা দেই। কোন রশিদ শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয় না। আমার নিজেরাও অনেক সময় বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হই।

মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য মাহবুবুল হক মাহবুব বলেন, ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮সাল পর্যন্ত কমিটিতে ছিলাম কিন্তু নাম মাত্র কমিটি। সকল দিক দিয়ে অধ্যক্ষ সকল কাজ করছে আমাদের কোন পরামর্শ নেয়নি। সভাপতি এবং অধ্যক্ষ মিলে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করেন। আমরা শুধু রেজুলেশনে স্বাক্ষর করি। প্রতিষ্ঠানের আয় ব্যয় হিসাব তিনি সঠিকভাবে করেননি। মাদ্রাসার কম্পিউটার এখনও সাবেক অধ্যক্ষের বাসায়। নুরুল আলম শিক্ষকের কাছ থেকে অবৈধ ভাবে টাকা নিয়েছেন। সাবেক অধ্যক্ষের পর পর নিয়োগসহ প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা তিনি আত্মসাত করেছেন। আমি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি কিন্তু কোন তদন্ত করা হয়নি। সকল ক্ষেত্রে অধ্যক্ষের হাত অনেক লম্বা তার কোন কিছুই কেউ করতে পারবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ দায়ের করেছে তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমার সুনাম নষ্ট করার জন্য কিছু কু-চক্রী মহলের পরামর্শে এ সকল কাজ করছে। তারা যে সকল অভিযোগ দায়ের করছে তার সকল হিসাব ও ডকুমেন্ট আমার কাছে আছে। কোন কোন খাতে আয় এবং কোন কোন খাতে ব্যয় করা হয়েছে তার হিসাব আছে। শিক্ষক নিয়োগ আমি দায়িত্ব পালনের সময়ে হয়নি। নিয়োগের ব্যাপারে আমি বলতে পারবো না। শিক্ষকদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তারাকান্দা উপজেলা শিক্ষা অফিসার তদন্ত প্রক্রিয়াধীন।

তারাকান্দা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবু বকর সিদ্দিক বলেন, শিক্ষকদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত প্রক্রিয়াধীন। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।

বাংলাপত্রিকা/এসএ
 

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন