কুকুরের মতো মরেছেন বাগদাদি: ট্রাম্প

| আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ অক্টোবর ২০১৯ | ১২:৫৬:৫১ পিএম
কুকুরের মতো মরেছেন বাগদাদি: ট্রাম্প
জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) দলের প্রধান নেতা আবু বকর আল-বাগদাদি সিরিয়ায় ইদলিব প্রদেশের বারিশা এলাকায় এক অভিযানে নিহত হয়েছেন বলে শনিবারই মার্কিন সেনারা জানিয়েছিল। পরে যানা যায় মার্কিন সেনাদের হাতে নয়, তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘কাপুরুষ বাগদাদি কুকুরের মতো মরেছেন।’

মার্কিন বাহিনীর নাগাল এড়াতে আল-বাগদাদি আত্মঘাতী জ্যাকেটের বোতাম টিপে নিজেকে উড়িয়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

রোববার সকালে হোয়াইট হাউসে এক সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‘গত রাতে বিশ্বের এক নম্বর জঙ্গিনেতাকে দু’ঘণ্টার অভিযানে মেরে ফেলেছে মার্কিন বাহিনী। আবু বকর আল-বাগদাদি মৃত। তিনি আইএস গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা ও নেতা ছিলেন। বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ও হিংস্র প্রতিষ্ঠানিএটি। আমেরিকা বহু বছর ধরে বাগদাদিকে খুঁজছিল। জাতীয় সুরক্ষার ক্ষেত্রে আমার প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিল, বাগদাদিকে ধরা বা মেরে ফেলা।’

২০১১-র ২ মে পাকিস্তানের অ্যাবটাবাদে আল কায়দা গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নেতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করে মার্কিন নেভি সিল। তখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন বারাক ওবামা। এখন বাগদাদির মৃত্যুর পর ট্রাম্পের ‘সাফল্যের’ পরে স্বভাবতই সে দিনটির সঙ্গে তুলনা উঠছে।

এ সম্পর্কে ট্রাম্পের দাবি, ‘বিন লাদেন বড় ব্যাপার ছিল। কিন্তু ৯/১১-র আগে তাকে কে চিনত! আর এই লোকটা (আল-বাগদাদি) নিজেই একটা সাম্রাজ্য তৈরি করেছিলেন, যেটাকে তিনি মনে করতেন একটা দেশ। তাই এটা বিন লাদেনের চেয়েও বড়সড় ব্যাপার।’ তার এই বক্তব্যের সমালোচনা করে অনেকে বলছেন, প্রেসিডেন্ট ওবামার কৃতিত্ব খাটো করতেই এমন তুলনা টেনেছেন ট্রাম্প।

শনিবারের অভিযান-পর্বের অনেকটাই তিনি দেখেছেন দাবি করে ট্রাম্প বলেন, ‘গভীর রাতে প্রচুর ঝুঁকি মাথায় নিয়ে মার্কিন বাহিনী অভিযানে শামিল হয়েছিল। অভিযানের অনেকটাই দেখেছি। আমাদের অফিসারেরা প্রাণ হারাননি। আল-বাগদাদির সঙ্গী ও যোদ্ধাদের অনেকে মারা পড়েছে।’

কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, বাগদাদি তার তিন সন্তানকে নিয়ে সুড়ঙ্গে ঢুকেছিলেন। আত্মঘাতী বিস্ফোরণে প্রাণ যায় ওই তিন শিশুরও। তবে কেউ কেউ বলছেন, বাচ্চাগুলি অক্ষত আছে।

শনিবার রাতে আল বাগদাদির বাড়িতে অভিযান চালায় মার্কিন স্পেশাল ফোর্স। আটটি হেলিকপ্টার এ অভিযানে অংশ নেয়। প্রচণ্ড গোলাগুলির পর আমেরিকান কমান্ডোরা বাড়িটি ঘিরে ফেলে দরজা দিয়ে না ঢুকে দেয়াল ভেঙ্গে বাড়ির আঙ্গিনায় ঢোকে। বাগদাদি সেসময় তার তিন বাচ্চাকে নিয়ে একটি বদ্ধ সুড়ঙ্গে লুকানোর চেষ্টা করেন।

অভিযানের বর্ণনা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘মার্কিন বাহিনীর তাড়া খেয়ে চিৎকার করতে করতে একটা বন্ধ-মুখ সুড়ঙ্গে দৌড়ে ঢুকে পড়েন আল-বাগদাদি। ওই চত্বরটা ততক্ষণে ফাঁকা করে দিয়েছে আমাদের কপ্টারগুলো। সেখানকার একটি বাড়ি থেকে ১১টি শিশুকে অক্ষত উদ্ধার করেছে তারা। তবে বাগদাদির তিন সন্তান তার সঙ্গেই ছিল। তারা এবং বাগদাদির দুই স্ত্রী মারা পড়েছে। আমাদের কুকুরের তাড়া খেয়ে বাগদাদি সুড়ঙ্গের শেষ পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিলেন। তারপরেই আত্মঘাতী জ্যাকেটের বোতাম টিপে নিজেকে উড়িয়ে দেন তিনি। বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় তার দেহ। তারও ১৫ মিনিট পরে সেখানেই দেহাংশ পরীক্ষা করে নিশ্চিত করা হয়, ওটা বাগদাদিরই।’

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন