লরিতে ৩৯ লাশ : সেই চালকের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ

বাংলা পত্রিকা ডেস্ক | আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ অক্টোবর ২০১৯ | ০২:২৪:৩৩ পিএম
লরিতে ৩৯ লাশ : সেই চালকের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ
যুক্তরাজ্যের এসেক্সে লরির একটি কন্টেইনার থেকে ৩৯ জনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত থাকার ঘটনায় আটক চালকের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অভিযোগে অনিচ্ছাকৃত মানবহত্যা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে মানবপাচার, অভিবাসন ও অর্থপাচার সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগও আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসেক্স পুলিশ।

গত বুধবার ভোররাতে এসেক্সের গ্রেইস থেকে ৩১ জন পুরুষ ও আট নারীর মৃতদেহ পাওয়ার পর লরির চালক মরিস রবিনসনকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি উত্তর আয়ারল্যান্ডের ক্রেইগাভেন এলাকার লরেল ড্রাইভ সড়কের বাসিন্দা।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, রবিনসনকে আগামীকাল সোমবার চেমসফোর্ডের হাকিম আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

এদিকে, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ইংল্যান্ডের চেশায়ারের ওয়ারিংটন এলাকা থেকে ৩৮ বছর বয়সী এক নারী ও পুরুষকে এবং উত্তর আয়ারল্যান্ড থেকে ৪৮ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই তিনজনই অনিচ্ছাকৃত মানবহত্যা ও মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ পুলিশের।

এ ছাড়া এ ঘটনায় তদন্তের সঙ্গে সম্পর্ক থাকায় আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিন থেকে বিশোর্ধ্ব আরেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে গতকাল শনিবার আইরিশ পুলিশ জানিয়েছে।

খবরে আরও বলা হয়েছে, লরিতে পাওয়া মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্ত করতে ডিএনএ টেস্ট করা হচ্ছে। তাদের চীনের অধিবাসী মনে করা হলেও এখন পর্যন্ত কারও পরিচয় মেলেনি।

লাশগুলো সঙ্গে পরিচয় সংক্রান্ত নথিপত্র তেমন না থাকায় তাদের শনাক্তে আঙ্গুলের ছাপ, ডিএনএ ও কাটা দাগ বা ট্যাটুর মতো পরিচয় চিহ্নের ওপর নির্ভর করতে হবে বলে তদন্তকারী এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এদিকে, ভিয়েতহোম নামে যুক্তরাজ্যে ভিয়েতনামের একটি সংস্থার কাছে ২০ জনের ছবি জমা পড়েছে যারা কয়েকদিন থেকে নিখোঁজ। এখন পুলিশের ধারণা, মৃতরা ভিয়েতনামের নাগরিকও হতে পারে। মরদেহগুলোর পরিচয় দ্রুত শনাক্ত করতে কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছেন ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী নুয়েন জান ফুক।

উল্লেখ্য, গত বুধবার মধ্যরাতে যুক্তরাজ্যের ওয়াটারগ্লেড ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক এলাকায় একটি লরির কন্টেইনার থেকে ৩৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও একজন কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কন্টেইনারের ভেতর তাপমাত্রা ছিল প্রায় মাইনাস ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মরদেহগুলোতে পচন রোধ করতেই ফ্রিজিং লরি নেওয়া হয়েছিল বলে সন্দেহ পুলিশের।

ধারণা করা হচ্ছে, কন্টেইনারটি বেলজিয়াম থেকে যুক্তরাজ্যে এসেছিল। তবে ভুক্তভোগীরা বেলজিয়াম নাকি যুক্তরাজ্য থেকে কন্টেইনারে প্রবেশ করেছিলেন, তা এখনো জানা যায়নি।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন