যৌন কেলেঙ্কারীতে অভিযুক্ত শিক্ষক ৩ বছর আগে পদত্যাগ করেও স্বপদে বহাল

এম এ এহসান রিয়াজ, কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি | বাংলা পত্রিকা স্পেশাল
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯ | ১২:২১:১১ এএম
যৌন কেলেঙ্কারীতে অভিযুক্ত শিক্ষক ৩ বছর আগে পদত্যাগ করেও স্বপদে বহাল
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট মিল্লাত একাডেমীর (উচ্চ বিদ্যালয়) শরীর চর্চা শিক্ষক রামকৃষ্ণ দাস একই বিদ্যালয়ের এক সহকারি শিক্ষিকার সাথে যৌন কেলেঙ্কারীতে অভিযুক্ত হয়ে স্বেচ্ছায় চাকরী থেকে অবসর নিয়েও বহাল তবিয়তে আছেন স্কুল পরিচালনা কমিটি ও প্রধান শিক্ষকের ছত্রছায়ায়। এছাড়াও ওই সময়ে তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানীর অভিযোগও উঠে। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের অভিভাবকরা তাদের ছেলে-মেয়ে নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
 
জানা যায়, একই স্কুলে এক সহকারি শিক্ষিকার সাথে দীর্ঘদিন তার পরকীয়ার সম্পর্ক চলে আসছিলো। বিদ্যালয়ে এসে তারা একে অপরের সাথে হাতাহাতি, কমনরুমে এক সাথে বসা এবং বিভিন্ন সময় নদীর পাড়সহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে যাওয়া এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে অবস্থান করা নিয়ে অন্যান্য শিক্ষকদের সন্দেহ হয়। পরে ২০১৬সালের ২৮এপ্রিল নারী শিক্ষিকার নোয়াখালীর বাসা থেকে রামকৃষ্ণকে তৎকলীন প্রধান শিক্ষক আলতাফ হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন শিক্ষক গিয়ে তাকে আটক করে। পরে নোয়াখালী থেকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসলে তার এ অপকর্মের কথা অকপটে সে স্বীকার করেন। ওই সময় রামকৃষ্ণ আর চাকরী করবে না বলে স্বেচ্ছায় অব্যহতি পত্র জমা দিয়ে ওই দিনই স্কুল ত্যাগ করে চলে যান।

বিষয়টি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এডভোকেট খায়ের এজাজ মাসুদকে জানালে তিনি তিন সদস্যের এক তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি যাচাই-বাছায়ের নির্দেশ দেন। কমিটি তদন্ত করে রামকৃষ্ণের অপকর্মের বিষয়ের প্রমান পান এবং তারা তদন্ত রিপোর্টে তা প্রকাশ করেন। এর ফাঁকে তখনকার সময়ের প্রধান শিক্ষক আলতাফ হোসেন তার চাকরীর মেয়াদ শেষ হওয়ায় তিনি বিদ্যালয় থেকে বিদায় নেন। কিছু দিন যাওয়ার পর ওই সময় ম্যানেজিং কমিটি নতুন যোগদান করা প্রধান শিক্ষক মো. সাখাওয়াত হোসেনকে দিয়ে তদন্ত রিপোর্টকে উপেক্ষা করে যৌন কেলেঙ্কারীতে অভিযুক্ত রামকৃষ্ণকে স্বপদে বহাল করেন। এ শিক্ষকের বিরুদ্ধে এর আগে ছাত্রীদেরকে যৌন হয়রানীর অনেক অভিযোগ থাকা সত্তেও কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি। এছাড়াও ওই বিদ্যালয়য়ে এ রামকৃষ্ণসহ একাধিক শিক্ষকের নিয়োগের কোন বৈধতা নেই বলে প্রধান শিক্ষক স্বীকার করেন। এবং জিও জারী হওয়ার পর এদের সকল কাগজপত্র সে জাল তৈরী করে দিয়েছেন বলে অকপটে বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ করেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান মাষ্টার নুরুল ইসলাম জানান, রামকৃষ্ণের যৌন কলেঙ্কারীর বিষয়ে প্রমান পাওয়া গিয়াছে; এর পর কমিটি তাকে কিভাবে নিয়োগের বৈধতা দিল আমাদের জানা নেই। হয়ত এখানে মোটা অঙ্কের লেন-দেন হয়েছে। নচেৎ সত্য ঘঠনাকে দামা-চাপা দিয়ে স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়া ব্যাক্তি আবার স্বপদে বহাল থাকে কিভাবে।
 
যৌন কেলেঙ্কারীতে অভিযুক্ত হয়ে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছেন। আকবর কিভাবে বহাল আছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে শরীর চর্চা শিক্ষক রামকৃষ্ণ দাস বলেন, যে প্রক্রিয়ায় আমার চাকরী হওয়া উচিৎ ছিল, সে ভাবেই হয়েছে। কোন প্রক্রিয়ার হয়েছে প্রশ্ন করা হলে তিনি আর কথা বলতে রাজি হন নি।
 
এ বিষয়ে জানতে বর্তমান প্রধান শিক্ষক মো. সাখাওয়াত হোসেনকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ম্যনেজিং কমিটি এক অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে বিদ্যালয় থেকে বাহিরে রেখেছেন। আবার তদন্তে কোন অভিযোগ না পাওয়ার পুনরায় তাকে বহাল করেছে। বিষয়টি ম্যনেজিং কমিটির; এর আগে পরে আমার কিছু জানা নেই।

হাজিরহাট মিল্লাত একাডেমী (উচ্চ বিদ্যালয়) পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি ও সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবি এড. খায়ের এজাজ মাসুদ এর কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজী নন বলে জানান।
 
কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমতিয়াজ হোসেন জানান, এ বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। তবে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাপত্রিকা/এসআর

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন