বেনাপোল কাস্টমসে চলছে ঘুষ বাণিজ্যের মহোৎসব! কর্তৃপক্ষ বেপোরোয়া (ভিডিও)

মাহমুদুল হাসান, শার্শা প্রতিনিধি | বাংলা পত্রিকা স্পেশাল
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ অক্টোবর ২০১৯ | ০৬:৩৭:৪০ পিএম
বেনাপোল কাস্টমসে চলছে ঘুষ বাণিজ্যের মহোৎসব! কর্তৃপক্ষ বেপোরোয়া (ভিডিও)
বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব আহরণে অন্যতম বৃহৎ স্থল বন্দর বেনাপোল বন্দরের দ্বায়িত্বে থাকা বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষের একাধিক কর্মকতাদের অনিয়ম, দূর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্য চরমে পৌঁছানোয় প্রকৃত রাজস্ব আহরণ ব্যাহত হচ্ছে ও জন দূর্ভোগ বাড়ছে। অন্যদিকে স্বল্প সময়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন চাকরির সুবাধে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের দ্বায়িত্ব পালনে আসা বিতর্কিত অসাধু কর্মকর্তারা। বেনাপোল কাস্টমস হাউসের আওতাধীন প্রতিটি সেক্টরেই চলছে নীরব দূর্নীতির মহোৎসব।

সি এন্ড এফ এজেন্টদের নিকট হতে ফাইল প্রতি টাকা গ্রহণ, পন্য নিলামে ঘুষ বাণিজ্য, শতভাগ পরীক্ষনের নামে উৎকোচ আদায়, ইমিগ্রেশানে পাসপোর্ট সিল বাণিজ্য, ভূয়া বিল, ভাউচার তৈরী করে কাস্টমস হাউসের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্রয়, আসবাবপত্র ক্রয় ও সংস্কার প্রকল্পের মাধ্যমে কোটি টাকার সরকারী অর্থ তশ্রুপ সহ বিবিধ দোষে দুষ্ঠ বাংলাদেশ কাস্টমস হাউসের বেনাপোল কাস্টমস শাখাটি।

বর্তমানে কতিপয় গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে সখ্যতা গড়ে, তাদের ম্যানেজ করেই কু-কর্ম পর্দার আড়ালে ঢেকেই চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষের রাম রাজত্ব। বেনাপোল কাস্টমস হাউসে কর্মরত ইন্সেপেক্টের আসাদুল্লাহ আসাদের প্রকাশ্য ঘুষ বাণিজ্যের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাসলেও সে এতটাই বেপরোয়া ডাক ছেড়ে বলেন, লিখে যান উপরের অফিসারদের ম্যানেজ করে চলি। তাই আমার কিছু হবেনা। ভিডিওিটির সত্যতা যাচায়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয় বিতর্কিত ঐ কর্মকর্তার সাথে। তিনি জানান, বর্তমানে ছুটিতে আছেন, অফিসে আসবেন দেখা হবে।

কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তাদের ঘুষ বাণিজ্য জানতে কথা বলা হয় বেনাপোলের স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনী পেশাজিবীদের সাথে। জানা যায়, বছর, বছর ধরে চলে আসা অনিয়মের বেড়া জালে বন্দী বেনাপোল কাস্টমস হাউস। আগে এন বি আর, দদুক ও মন্ত্রণালয় ম্যানেজ করে চালাত সিমাহীন দূর্নীতি। বর্তমান সরকারের স্বচ্ছতায় বিপদে পড়ে ভোল পাল্টে কৌশলে চালাচ্ছে অপকর্ম, সরকার ঘোষিত শুদ্ধি অভিযানের তোয়াক্কা নেই কর্মকর্তাদের।

কাস্টমস হাউসের পালের গোদা খোদ কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরির বিরুদ্ধেই রয়েছে ঘুষ নিয়ে আটক ও ঘোষণা বর্হিভূত পন্য চালান খালাস দিয়ে (রাজস্ব ফাঁকি দিতে সহায়তা করে) অবৈধ্যভাবে শতকোটি টাকার সম্পদ অর্জনের দ্বায়ে দুদকে অভিযোগ। যার খোঁজে মাঠে নেমেছে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের সিনিয়র সচিব মোজাম্মেল হক জানান, বেলাল হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ আছে তার তদন্ত চলছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা নেয়ামুল গাজীকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের অসাধু কর্মকর্তাদের হয়রানীর স্বীকার নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক সি এন্ড এফ এজেন্ট কর্মচারী জানান, সঠিক কাগজপত্রের ফাইল নিয়ে কাস্টমে গেলেও প্রতি ফাইলে ৫০০/১২০০ টাকা দিতে হবে। অন্যথায় ফাইল পড়ে থাকবে সই হবেনা।

অফিসারদের অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার প্রশ্নে বাংলা পত্রিকাকে তিনি আরো জানান, বড় অফিসার গুলো নাম ডাকী সি এন্ড এফ এজেন্টেদের কাছ হতে মাসে বড় অঙ্কের টাকা পায়। সই না করলে উপরের কর্মকর্তাদের কাছে নালিশ করার কথা বললে উল্টো বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। কাজেই পার্টির কাজ বাঁচাতে বা জীবিকা নির্বাহের জন্য ওদের অনিয়মের বলি হতে হয় আমাদের।

বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষের অনিয়ম-দূর্নীতি এখন চরমে। ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জোরালো তদন্তে শতভাগ বেরীয়ে আসবে স্টেশনটিতে কর্মরত অসাধু কর্মকর্তাদের দূর্নীতির আমলনামা। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ চেয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহনে সরকারের প্রকৃত রাজস্ব আহরন সচল রাখতে দাবী জানিয়েছেন এলাকার সুশীল সমাজ।

বাংলাপত্রিকা/এসআর

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন