রোহিঙ্গা পিতার রয়েছে পাসপোর্ট ছেলেরা হয়েছে ভোটার, আড়ালে ইয়াবা কারবার

মোঃ শহীদুল্লাহ, কক্সবাজার প্রতিনিধি | বাংলা পত্রিকা স্পেশাল
প্রকাশিত: রবিবার, ৬ অক্টোবর ২০১৯ | ০৬:৩১:৩৩ পিএম
রোহিঙ্গা পিতার রয়েছে পাসপোর্ট ছেলেরা হয়েছে ভোটার, আড়ালে ইয়াবা কারবার
মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গা পরিবারের ৩ ছেলে যথাক্রমে, হাফেজ হাসান উল্লাহ, শফি উল্লাহ,রহিম উল্লাহ ও পিতা আবু বক্কর ছিদ্দিক বাংলাদেশের ভোটার হয়েছে এবং পিতা আবু বক্কর ছিদ্দিক মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশী পাসপোর্ট করেছে এবং গোপনে মরন নেশা ইয়াবা কারবার চালানোর গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হয়ে বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। সর্বশেষ গত ২০১৭ ইংরেজির ২৫ আগস্ট জাতিগত নিপীড়ন নির্যাতনের শিকার হয়ে ১০ লক্ষাধীক মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গা গোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে উখিয়া টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় গ্রহন করে বসবাস করে আসছে।

বিপুল পরিমাণ রোহিঙ্গা বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার ঠিকানায় কতিপয় অসাধু জনপ্রতিনিধি, নির্বাচন কমিশনের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বাংলাদেশের ছবি যুক্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া এবং এনআইডি কার্ড করার সুযোগ পেয়েছে। পাশাপাশি সেই  রোহিঙ্গারা পাসপোর্ট অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পাসপোর্ট করেছে।

তেমনি মিয়ানমারের নাগরিক আবু বক্কর ছিদ্দিক পিতা আবু জাফর মাতা ফরিদা খাতুন ফেনী জেলার সোনা গাজী উপজেলার তুলাতুলী ঠিকানা ব্যবহার করে বাংলাদেশের পাসপোর্ট করেছে। সেই পাসপোর্টের নম্বর বি জে ০৭৯০৭১১ যার ব্যক্তিগত নং ১৯৬৫৫৬৬২০৩৮৯৬৫৪৩৭।

রোহিঙ্গা আবু বক্কর ছিদ্দিকের তিনি ছেলে হাফেজ হাসান উল্লাহ পিতা আবু বক্কর ছিদ্দিক মাতা নুর নাহার বেগম সাং বালুছড়া বাজার, জালালাবাদ, ডাকঘর বায়েজিদ বোস্তামী-৪২১০, বায়জিদ বোস্তামী চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন চট্টগ্রাম। এনআইডি নাম্বার  ১৯৮৭১৫৯০৬০২০০০৬২৪।

রহিম উল্লাহ পিতা আবু বক্কর ছিদ্দিক মাতা নুর নাহার বেগম সাং একই। এনআইডি নাম্বার  ১৯৯৬১৫৯০৬০২০০১৩৮১। শফি উল্লাহ পিতা আবু বক্কর ছিদ্দিক মাতা নুর নাহার বেগম সাং একই। এনআইডি নাম্বার ১৯৯৭১৫৯০৬০২০০১১৬৯।

বর্তমানে আবু বক্কর ছিদ্দিক মিয়ানমারে আছে বলে জানা গেছে। ছেলে হাসান উল্লাহ মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র নোঙর কক্সবাজারে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত ৫ সেপ্টেম্বরে নোঙর মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি হওয়ার তথ্য রয়েছে। অপর দুই ভাই গত কিছুদিন আগেও কক্সবাজার বাস টার্মিনাল লার পাড়া এলাকায় ভাড়া বাসা নিয়ে বসবাস করত।

এই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশী এনআইডি ব্যবহার করে মূলত তারা মরন নেশা ইয়াবা কারবার চালিয়ে যাচ্ছে বলে গোপন সূত্রে জানা যায়। তারা আগে অপর ইয়াবা কারবারিদের ইয়াবা বহন করত। পরবর্তীতে ঢাকা চট্টগ্রাম, ফেনী ও কুমিল্লার ইয়াবা কারবারিদের সাথে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলে নিজেরাই সরাসরি ইয়াবা কারবারে জড়িয়ে পড়ে।

বর্তমানে তাদের পিতা আবু বক্কর ছিদ্দিক মিয়ানমারে অবস্থান করে ছেলেদের কাছে ইয়াবার বড় বড় চালান পৌঁছে দিচ্ছে। ছেলেরা বিভিন্ন গণপরিবহন ও রোহিঙ্গা সুন্দরী নারীদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের নির্দিষ্ট ডিলারদের কাছে ইয়াবার চালান পৌঁছে দিচ্ছে গোপন সূত্রে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে।

তাদের সম্পর্কে আমাদের অনুসন্ধানী টিম অনুসন্ধান করতে গেলে তারা টের পেয়ে ভাড়া বাসা ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্তমানে তারা কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থান করছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বাংলাদেশী এনআইডি ধারী এই রোহিঙ্গা ইয়াবা কারবারিদের গতিবিধি কঠোরভাবে নজরদারী করা জরুরী বলে মনে করেন স্থানীয় সচেতন মহল। আমাদের বাংলা পত্রিকার অনুসন্ধানী টিম সরজমিনে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। বিস্তারিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। চোখ রাখুন বাংলা পত্রিকা অনলাইন ভার্সন ও ই-পেপারে।
 
বাংলাপত্রিকা/এসআর
 

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন