অভয়নগরে যত্রতত্রভাবে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি, ঝুঁকিতে রয়েছেন সাধারণ মানুষ

মোঃ দেলোয়ার হোসেন, নওয়াপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি | বাংলা পত্রিকা স্পেশাল
প্রকাশিত: রবিবার, ৬ অক্টোবর ২০১৯ | ০৬:২৫:১৪ পিএম
অভয়নগরে যত্রতত্রভাবে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি, ঝুঁকিতে রয়েছেন সাধারণ মানুষ
অভয়নগর উপজেলার বিভিন্ন বাজারে যত্রতত্র লাইসেন্স বিহীন অবস্থায় এলপি গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডারের রমরমা বেচাকেনা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনিয়ন্ত্রিত ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপদজনক এই বিষয়টি কোনভাবেই মানছেন না গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ধরণের মালামালের ব্যবসার সাথে গ্যাস সিলিন্ডার যত্রতত্র ভাবে রেখে দেদারসে তা বিক্রি করছেন। 

সরকারি নিয়মনীতি থাকলেও গ্যাস সিলিন্ডার বেচাকেনায় অনিয়মের যেন কোন শেষ নেই। অনেকে জানান, এলপি গ্যাস সিল্ডিার বিক্রির জন্য বিষ্ফোরক লাইসেন্স, ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স, পণ্য মজুদের জন্য গোডাউন এছাড়া লে-আউট নকশা থাকা বাধ্যতামূলক হলেও তা মানছেন না এসব ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, বিষ্ফোরক লাইসেন্স অনুযায়ী একজন ডিলারের ৪০ থেকে ৬০ সিলিন্ডার গ্যাস মজুদ রাখার অনুমতি থাকলেও কৌশলে বিভিন্ন স্থানে দোকানদাররা শত শত গ্যাস সিলিন্ডারের বোতল মজুদ রাখছেন। আবার অনুমোদিত একটি কোম্পানীর সিলিন্ডার রাখার নিয়ম থাকলেও তারা বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন ধরণের সিলিন্ডার রেখে তা পাইকারী ও খুচরা মূল্যে বিক্রি করছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগ, সুন্দলী, পায়রা, সিদ্দিপাশা, শুভরাড়া, শ্রীধরপুর, বাঘুটিয়া, চলিশিয়া ইউনিয়ন ও নওয়াপাড়া পৌরসভার বিভিন্ন বাজারগুলোতে অহরহ চলছে লাইসেন্স বিহীন অবস্থায় এলপি গ্যাসের ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা। নওয়াপাড়া বাজারে যমুনা, টোটাল, ওরিয়েন্ট, নাভানা, প্রমিকা, ওমেরা ও প্লাস্টিকের বোতলসহ বিভিন্ন কোম্পানির এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করার জন্য ডিলার রয়েছে হাতে গোনা কয়েক জন। এদের মধ্যে কারও কারও বৈধ কাগজপত্র আছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।

তবে অধিকাংশ দোকানদারদের কাগজপত্রের মেয়াদ উত্তীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। আবার কেউ কেউ ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্সের ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকের আবার বিষ্ফোরক লাইসেন্স নেই। নামমাত্র ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স দিয়ে ডিলারশীপ গ্রহণ করেছেন। তাছাড়া উপজেলাব্যাপী শতাধিক দোকান-পাটে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে, যাদের কোন অনুমোদনের কাগজপত্র নেই। গ্যাস সিলিন্ডার দোকানে ফায়ার ফাইটিং অগ্নিনির্বাপক উপকরণ সংরক্ষণ থাকার কথা থাকলেও বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপকের কোন ব্যবস্থা নেই। আবার এগুলো ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আছে এমন কোন ব্যক্তিও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নেই। সব মিলিয়ে গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসায় অনিয়মের যেন শেষ নাই। প্রায় প্রতিটি দোকানে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর সাথে পাশাপাশি করে এই ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার রাখা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ক্রেতা জানান, বাজার দর ছাড়া সিলিন্ডার প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামও নিচ্ছেন অনেক দোকানদাররা। হাতের নাগালে গ্যাসের সিলিন্ডার পাওয়াতে বেশি দাম হওয়া সত্ত্বেও তা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন গ্যাস ব্যবহারকারীরা।

বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, যেখানে-সেখানে এসব গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির কারণে আমরা বৈধ ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। এছাড়া সরকারের সকল নিয়মনীতি মেনে ২০-৩০ হাজার টাকা খরচ করে লাইসেন্সধারী হয়েও আমরা এখন নিরুপায় হয়ে পড়েছি।  

এ বিষয়ে উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ এহসানুল হক বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের নিকট ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স নেয়ার জোর তাগিদ দেয়া হচ্ছে এবং লাইসেন্স নেয়ার জন্য ইতোমধ্যে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও ব্যাপক সাড়া মিলছে।

বাংলাপত্রিকা/এসআর

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন