কক্সবাজার এবং মহেশখালীর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ভুমি অধিগ্রহণ সম্পর্কে জানুন

মোঃ এজাজুল হক খোকন | পাঠক কলাম
প্রকাশিত: রবিবার, ৬ অক্টোবর ২০১৯ | ০৪:২৭:৩৬ পিএম
কক্সবাজার এবং মহেশখালীর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ভুমি অধিগ্রহণ সম্পর্কে জানুন
ভূমি অধিগ্রহনের আইন ও ভূমি মালিকদের করণীয় সহ বিভিন্ন দিক নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের শিক্ষানবীশ আইনজীবী মোঃ এজাজুল হক খোকন এর লিখা।

বর্তমান সরকারের আমলে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়নের মহাযজ্ঞ চলছে। মহেশখালীর কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প, দোহাজারী থেকে কক্সবাজার রেললাইনসহ আরও কয়েকটি বড় প্রকল্প নিয়ে বর্তমানে একশ’ হাজার কোটি টাকার ৪০টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। এই ৪০ প্রকল্প ছাড়াও চলছে নানা খাতে উন্নয়নমূলক কাজ।কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক সূত্রে জানা যায়,মহেশখালীর একটি প্রকল্পেও ৫০ হাজার কোটি টাকার কাজ হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় একশত হাজার কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে কক্সবাজারে।রেলসূত্র জানায়, দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেলপথটি নির্মাণ হবে দুই ভাগে। প্রথম ভাগে নির্মাণ করা হবে দোহাজারী থেকে চকরিয়া পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার ট্র্যাক। একই সঙ্গে দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত সিগনালিং ও টেলিকমিউনিকেশনের কাজ সম্পন্ন করা হবে। এর জন্য সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৬৪১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। আর দ্বিতীয় ধাপে চকরিয়া থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার ট্র্যাক এবং কক্সবাজারে আইকনিক ইন্টারমডেলের টার্মিনাল বিল্ডিংয়ের নির্মাণ কাজ শুরু হবে। এ ভাগের কাজের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৫৯১ কোটি ২০ লাখ টাকা।

এদিকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জেলায় বাস্তবায়নাধীন ৪০ প্রকল্পসমূহ হচ্ছে যথাক্রমে কক্সবাজার মহেশখালী ও পেকুয়া উপজেলার ১৩টি মৌজার ৮৩.৪৫১০ একর জমির আওতায় জিটিসিএল সংস্থার মহেশখালী আনোয়ারা গ্যাস সঞ্চালন পাইপ লাইন প্রকল্প। যেটি ২০১৩ সালের দিকে কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে প্রকল্পের দখল হস্তান্তর করা হয়েছে।
এছাড়া একই উপজেলায় ১৪৯.৭৫ একর জমি নিয়ে আরেকটি মহেশখালী আনোয়ারা গ্যাস সঞ্চালন প্রকল্পের কাজ চলছে। অপর দিকে দেশে বৃহৎ প্রকল্প মহেশখালী হাজার কোটি টাকার প্রকল্প মাতারবাড়ি ও ধলঘাটা মৌজার আওতায় ১৪১৪.৬৫ একর জমি নিয়ে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড এবং ১২০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প। একই উপজেলায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ৫৫৭৯.৬০৩৫ একর জমির আওতায় ৮৩২০ মেগাওয়াট এলএনজি ও কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পও বাস্তবায়ন করবে।

এছাড়া কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ মৌজার ৫.০০ একর জমিতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের জন্য করা হয়েছে জমি অধিগ্রহণ।

মহেশখালী মাতারবাড়ি মৌজার আওতায় ১১৯৭.৮৮ একর জমি নিয়ে নির্মিত হচ্ছে ৭০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র। পেকুয়া উপজেলার মগনামা মৌজায় ৩৩৩.৭৩ একর জমি নিয়ে হচ্ছে নৌবাহিনীর সাবমেরিন ঘাঁটি নির্মাণ প্রকল্প। একই উপজেলায় করিয়ারদিয়া মৌজার ১৩৬৮.৮২ একর জমিতে হচ্ছে ইজিসিবির ১২০০ মেগাওয়াটের আরেকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প। এছাড়া বিমানবন্দর প্রকল্প, বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পসহ আরো অনেক।

এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ভুমি অধিগ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবং অধিগ্রহণ নিয়ে ভূমি মালিকদের দুঃচিন্তার শেষ নেই।আইন-আদালত সম্পর্কে সঠিক তথ্য না জানার কারণে অত্র এলাকার ভূমি মালিকেরা বিভিন্নভাবে প্রথারণা ও হেনস্তার স্বীকার হচ্ছে।

ভূমি অধিগ্রহণ সম্পর্কে ভূমি সংক্রান্ত আইনগুলোতে বিভিন্ন ভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। সবচেয়ে স্পষ্ট  ধারণা পাওয়া যায় স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইন, ২০১৭ এ।এই আইনের ধারা (১) অনুযায়ী ‘অধিগ্রহণ’ অর্থ ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসন বা উভয়ের বিনিময়ে প্রত্যাশী ব্যক্তি বা সংস্থার জন্য কোনো স্থাবর সম্পত্তির স্বত্ব ও দখল গ্রহণ।

ভুমি অধিগ্রহনের কারণ হিসেবে অনেক কারণ হতে পারে।দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাষ্ট্র প্রচলিত অধিগ্রহণ আইন অনুসারে ব্যক্তি মালিকানাধীন বা দখলাধীন ভূমি অধিগ্রহণ করে থাকে। সরকার চাইলেই যেকোনো সময় যে কারো ভূমি অর্থাৎ ব্যাক্তি মালিকানাধীন অথবা প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন যেকোন প্রকারের ভুমি অধিগ্রহণ করতে পারে।তবে সেটা হতে হবে জনস্বার্থে এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে শিল্প কারখানা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রেলপথ, সড়ক বা সেতুর প্রবেশ পথ বা এ জাতীয় অন্যকিছুর জন্য জমি অধিগ্রহণ করার প্রয়োজন পড়লে সরকার দেশের যেকোনো জেলায় যে কারো জমি অধিগ্রহণ করতে পারে। তবে নতুন আইন স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইন, ২০১৭ এর ধারা (১৩) অনুসারে ধর্মীয় উপাসনালয়, কবরস্থান ও শ্মশান অধিগ্রহণ করা যাবে না। তবে শর্ত আছে যে এগুলো অধিগ্রহণ করা যবে যদি তা দেশের জনগনের বৃহত্তর স্বার্থে বা জনস্বার্থে যদি একান্ত অপরিহার্য হয় তবে তা করতে কোন বাধা নাই। সেক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ব্যক্তি বা সংস্থার অর্থ স্থানান্তর ও পুনঃনির্মাণ করে দিতে হবে।এককথায় যথাযথ পূণর্বাসনের ব্যাবস্থা করে করতে হবে।

অধিগ্রহণে জমির স্বত্ত্বাধীকারীর করণীয় হল,স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইন, ২০১৭ এর ধারা (৫) অনুযায়ী ৪ ধারার নোটিশ জারির পর ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ(ভুমির মালিক)পনের (১৫) কার্য দিবসের(বন্ধের দিন ও অন্যান্য ছুটির দিন ছাড়া)মধ্যে অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের (DC) নিকট আপত্তি দাখিল করতে পারবেন। আপত্তি পাওয়ার পর DC সম্পত্তির পরিমাণ ৫০ বিঘার (১৬.৫০) একরের ঊর্ধ্বে হলে তার মতামত সংবলিত প্রতিবেদনসহ নথি ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত জন্য পাঠাবেন। আর জমির পরিমাণ ৫০ বিঘার কম হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির মতামত সংবলিত প্রতিবেদনসহ নথি কমিশনারের কাছে প্রেরণ করবেন।সরকার বা কমিশনার কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত জনপ্রয়োজন বা জনস্বার্থে গৃহীত হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং এটাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, এর বিরুদ্ধে কোথাও আপীল করা যাবে না(নন-আপীলেবল)। সবশেষে দেখা যাচ্ছে যে, ৩ এবং ৪ ধারার নোটিশ জারি করার পরই কেবল শেষবারের মতো ৭ ধারায় নোটিশ জারি করা হয়। ৭ ধারায় নোটিশ জারির পর আর কোনো অভিযোগ উত্থাপন করা যাবে না। অর্থাৎ তা আর গ্রহণযোগ্য হবে না।

ভূমি অধিগ্রহনের ফলে ক্ষতিপূরণ( Compensation) আদায় সরকার দেশের উন্নয়নের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ করবে সমস্যা নেই কিন্তু মূল সমস্যাটা হলো ক্ষতিপূরণ আদায়ের ক্ষেত্রে।কেননা অনেকেই জানেন না ক্ষতিপূরণের টাকা কীভাবে আদায় করতে হয় বা। জমি অধিগ্রহনের পরে ক্ষতিপূরণের টাকার নোটিশ যায় ডিসি অফিসের রেকর্ড বই অনুযায়ী। স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইন, ২০১৭ এর ধারা ৯ অনুযায়ী সরকার জমি অধিগ্রহণ করলে ওই এলাকার জমির ১২ মাসের গড় মূল্যের সাথে আরও অতিরিক্ত ২০০ ভাগ ক্ষতিপূরণ পাবেন জমির মালিক।আর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে জমির গড় মূল্যের ৩০০ ভাগ। অর্থাৎ সরকার নিজের প্রয়োজনে ৫০০ টাকার মূল্যের জমি অধিগ্রহণ করলে জমির মালিক পাবে ১৫০০ টাকা (৩ গুণ), বেসরকারি (চার গুণ)।

যখন ৭ ধারায় নোটিশ জারি করা হয় তখন ভূমির মালিক জেলা প্রশাসক। ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য যেসব প্রমাণাদি প্রয়োজন হয়। স্থানীয় চেয়ারম্যান কর্তৃক সত্যায়িত ছবি, নাগরিকত্ব সনদ,খতিয়ান মূল/সার্টিফাইড কপি,হাল সনের খাজনা দাখিল, ওয়ারিশ সনদপত্র, রোয়েদাদনামা, ক্ষমতাপত্র (নাদাবিপত্র), বণ্টননামা, হস্তান্তরিত সকল দলিল, ধারা ৭ এর নোটিশে উল্লেখিত ক্ষতিপূরণের প্রমাণাদি।

উপরোক্ত সকল কাগজপত্রসহ একটি ফাইল প্রস্তুত করে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় বা LA শাখায় জমা দিতে হবে। ফাইলটি জমা হবার পর সেখানকার রেজিস্টার বুকে ক্ষতিপূরণ গ্রহণকারীর নাম, খতিয়ান নম্বর, ৮ ধারা নোটিশের রোয়েদাদ এবং জমির পরিমাণ লিখে একটি নাম্বার পরবে। এই সিরিয়াল নাম্বার অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হয়।এখন কথা হচ্ছে,রাষ্ট্র বা সরকার কতৃক ভূমি অধিগ্রহণ করলে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে কিনা?

অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তি নিয়ে প্রদত্ত কোন আদেশ বা গৃহীত কোন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কোন ধরণের মামলা বা আবেদন গ্রহণ করার এখতিয়ার রহিত করা হয়েছে। স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখন আইন, ২০১৭ এর (৪৭) ধারায় অধিগ্রহণ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে মামলা-মোকদ্দমা না করার বিষয় উল্লেখ রয়েছে। এরপরও ৮ ধারায় নোটিশ জারির পরেও অসাধু চক্রের যোগসাজশে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭,এ-র ধারা ৮ ও ৪২ এ স্বত্ত্বসাব্যস্থ দখলের মোকাদ্দমা দায়ের করছে। এতে করে ভূমির মালিকগণ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্ভোগের স্বীকার হচ্ছে। সংবিধানের ৪২(২) অনুচ্ছেদেও ক্ষতিপূরণসহ বাধ্যতামূলকভাবে স্থাবর সম্পত্তি গ্রহণের ক্ষেত্রে আদালতে কোন প্রশ্ন উত্থাপন বা মামলা না করার বিষয়ে বলা হয়েছে। বর্তমানে ভূমি মন্ত্রণালয় অধিগ্রহণ সম্পর্কিত ভূমি নিয়ে কোন প্রকার মামলা-মোকদ্দমা দায়ের করা নিয়ে পরিপত্র জারি করেছে। তবে সার্ভেয়ার ও কানুনগোর প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে জমির মালিকানা কেন্দ্রিক বা অন্য কোন ধরণের জটিলতা থাকলে ADC রিভিনিউ বরাবর মিস কেসের মাধ্যমে তা সমাধান করা যায়। মিস কেসের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে যেকোনো আরবিট্রেশন(সালিশ) সমাধান করার নিয়ম আছে।

অধিগ্রহণ সম্পত্তি পুনঃগ্রহণ
স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও সম্পত্তি হুকুম দখল আইন, ২০১৭ এর ১৯ (১) ও (২) ধারা মোতাবেক প্রত্যাশী সংস্থার অনুকূলে অধিগৃহীত সম্পত্তি যে উদ্দেশ্যে অধিগ্রহণ করা হয়েছে সে উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হলে বা বিক্রয়,লিজ,এওয়াজ বা অন্যকোনোভাবে হস্তান্তর করা হলে অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তি জেলা প্রশাসক কর্তৃক পুনঃগ্রহণ করে সরকারি দাগ খতিয়ানে আনয়ন পূর্বক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবেন। এখানে ভূমির মালিক যদি কোন ক্ষতিপূরণ না নেন তবে তার একধরনের অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়।বর্তমান আইনের অন্যতম বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ধারা। এটি প্রায়শই এমন দেখা যায় যে উদ্দেশ্যে কোনো জমি হুকুমদখল করা হয় তা অন্য উদ্দেশ্যে, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সরকারি পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহত হচ্ছে আবার কখনো কখনো এটাও লক্ষ্য করা যতটুকু ভূমি হুকুমদখল প্রয়োজন তার চেয়ে বেশি জমি হুকুমদখল করান এবং তা দীর্ঘদীন ফেলে রাখেন এতে ভূমির মতন বিরল সম্পদের উপর চাপ পড়ে।

বর্তমানে কার্যকর ভূমি আইনটি অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তির মালিকদের মনে একটু স্বস্তি ফিরিয়ে আনলেও ভূমি অধিগ্রহণ শাখার অনিয়ম-দুর্নীতি এবং আইনগত বেশ ফাঁক-ফোকড়ের ফলে জমির মালিকগণ সঠিক উপায়ে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারছেন না। জমি অধিগ্রহণ হলে এমনিতেই জমির মালিক হতাশায় ভোগেন তার উপর যখন এসব হয়রানির সম্মুখীন হতে হয়, তার তখন আর্তনাদ করা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। এমনও অনেকে আছেন যার শেষ সম্বল ওইটুকু জমি অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তি তাই ক্ষতিপূরণ যথাসম্ভব দ্রুত প্রদান করে তাদের পুনর্বাসন করা উচিৎ।

উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও এখন উন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্প হচ্ছে এবং হবে। তাই ব্যাক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তি সরকারের অধিগ্রহনে যাওয়ার সম্ভাবনা দিন দিন বাড়ছে। তাই ভূমি মালিকদের প্রতি সর্ব শেষ পরামর্শ হচ্ছে, আপনারা যদি আপনাদের বাপ-দাদার  ভিটা ও ভূমির প্রকৃত ক্ষতিপূরণ বা পূণর্বাসন চান, তবে আপনার জমির নাম জারি খতিয়ান খুলেন এবং খাজনা পরিশোধ করে দাখিলা সংগ্রহ করে রাখুন। অন্য কারোসাথে ভূমি সংক্রান্ত সমস্যা থাকলে তা যে কোন ভাবে মিটিয়ে ফেলুন। মনে রাখবেন 'আপনার সম্পত্তি, আপনার অধিকার'।

তথ্যসূত্রঃ ভুমি আইন(এ.আর মাসউদ),স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও সম্পত্তি হুকুম দখল আইন ২০১৭, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭, জেলা প্রশাসক কক্সবাজার এর ওয়েবসাইট, বাংলাদেশ লয়ার্স ফোরাম, দৈনিক যুগান্তর, দৈনিক প্রথম আলো।

লেখক: মোঃ এজাজুল হক খোকন
শিক্ষানবীশ আইনজীবী, জজ কোর্ট চট্টগ্রাম।

E-mail- ejajulhoqkhokan223@gmail.com

লেখা পাঠিয়েছেন আমাদের মহেশখালী প্রতিনিধি মোহাম্মদ আকিব বিন জাকের।

বাংলাপত্রিকা/এসআর

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন