এক সপ্তাহের ব্যবধানে আমতলীতে বেড়েই চলেছে নিত্য পণ্যের দাম

পারভেজ শাহরিয়ার, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি | অর্থনীতি
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ অক্টোবর ২০১৯ | ০২:৫০:৫৬ পিএম
এক সপ্তাহের ব্যবধানে আমতলীতে বেড়েই চলেছে নিত্য পণ্যের দাম
গত এক সপ্তাহ ধরেই বাড়ছে সকল প্রকার নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। হঠাৎ করেই পেঁয়াজ, ডিম দেশী ও ব্রয়লার মুরগী, আগাম শীতের সবজির দাম বেড়েই চলছে।  

শুক্রবার আমতলী পৌর শহরের নতুন বাজার, সরকারী একে স্কুল ও বৌবাজার বাজার ঘুরে ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১১০-১৩০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৩০-১৪৫ টাকা। কক মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০-২২৫ টাকা এবং লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৪০-২৬০ টাকা। আর এক কেজি ওজনের দেশী মুরগির পিচ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতা মোঃ আজম চৌধুরী জানান, গত সপ্তাহের চেয়ে প্রতিটি মুরগী কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেড়েছে।

পাইকারী বাজারে হাঁসের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩২- ব্রয়লার মুরগীর ডিম ১০৮ টাকা বিক্রি হচ্ছে। যা খুরচা বাজারে এক পিস হাঁসের ডিমের দাম ১২ টাকা ও ব্রয়লার মুরগীর ডিম ১০ টাকা। যা গত সপ্তাহে ছিল ১১ ও ৯ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা এবং পিসে ১ টাকা বেড়েছে।

ক্রেতা মোঃ হায়দার ফকির জানান, ডিমের দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহে এক ডজন হাঁসের ডিম কিনেছি ১৩২ টাকায়। আজ কিনলাম ১৪৪ টাকায়।

এদিকে গত সপ্তাহে শীতের আগাম সবজি প্রতি কেজি শিম বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা পিস, এক পিস ৩৫-৪৫ টাকা। আর মুলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকা। এসব সবজি গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিতে ৫-১০ টাকা বেশী ধরে বিক্রি হচ্ছে। ছোট আকারের একটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা পিস। পাঁকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা কেজি। গাজর বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা কেজি। করলা ৫০-৬০ টাকা, বরবটি ৫০-৬০ টাকা, বেগুন ৫০-৫৫ টাকা, চিচিংগা, সিসিঙ্গা, ধুন্দুল ৪০-৫০ টাকা, পটল ৪০-৪৫ টাকা ও কাঁকরোল ৮০-৯০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকা কেজি।

খুচরা সবজি বিক্রেতা আঃ সোবাহান বলেন, বাজারে তরিতরকারী ও সবজির সরবরাহ কম এজন্য বাজারে একটু দাম বেশী।

ক্রেতা রাসেল মোল্লা বলেন, গত সপ্তাহের চেয়ে প্রতিটি সবজির দাম বিক্রেতারা বেশী চাচ্ছে। এক কেজি পাঁকা টমেটো কিনলাম ১০০ টাকায়।

সবজি দাম বাড়ার বিষয়ে নতুন বাজার পাইকারী কাঁচা ব্যবসায়ী সাইরাজ মৃধা বলেন, বাজারে শীতের সবজির সরবরাহ কম এ কারনে সবজির দাম কিছুটা বাড়তি। দুই-এক সপ্তাহের মধ্যে শীতের সকল সবজি বাজারে চলে আসলেই দাম কমে যাবে।  

অপরদিকে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হওয়ার অজুহাতে গত সপ্তাহে হঠাৎ করেই বাজারে পেঁয়াজের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়। ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া পেঁয়াজের দাম এক লাফে ১১০-১২০ টাকা হয়েছে যায়। দেশের বিভিন্ন স্থানে মোবাইল কোর্ট দিয়ে জরিমানা করার ঘটনায় আমতলীতে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমে এখন কেজি প্রতি ৯০ থেকে ১০০ টাকা হয়েছে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন মুঠোফোনে বলেন, আমরা বাজার মনিটরিং করবো কেহ যদি পেঁয়াজ বেশী দামে বিক্রি করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো।

বাংলাপত্রিকা/এসআর

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন