এনআইডি ও ভোটার তালিকা থেকে রোহিঙ্গাদের বাদ দিতে হবে

মোঃ শহীদুল্লাহ, কক্সবাজার প্রতিনিধি | পাঠক কলাম
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ অক্টোবর ২০১৯ | ১০:২১:৫৪ এএম
এনআইডি ও ভোটার তালিকা থেকে রোহিঙ্গাদের বাদ দিতে হবে
বিভিন্ন সময়ে বিপুল পরিমান মিয়ানমার নাগরিক রোহিঙ্গারা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকাভুক্ত হওয়ার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। কতিপয় অসাধু জনপ্রতিনিধি ও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের যোগ সূত্রে রোহিঙ্গারা এনআইডি ও ভোটার তালিকাভুক্ত হওয়ার অবৈধ সুযোগ পেয়েছে বলে জানা যায়। এরকম অবৈধ সুযোগে কক্সবাজার জেলাতেই হাজার হাজার রোহিঙ্গারা ভোটার হবার তথ্য পাওয়া গেছে।

কক্সবাজার পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডে হাজার অধিক মিয়ানমার নাগরিক রোহিঙ্গারা জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত হালনাগাদ ভোটার তালিকায় কক্সবাজার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড থেকে শুরু করে ১২ নং ওয়ার্ডে অনেক রোহিঙ্গারা ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছে। বিশেষ করে ৭ নং ওয়ার্ডে প্রচুর রোহিঙ্গারা একজন কাউন্সিলরের মাধ্যমে ভোটার তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।

ঐ কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের ভোটার করার অভিযোগে এর আগে অনেক বার জাতীয় ও স্থানীয় পত্রপত্রিকায় অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ শুধু ঐ অবৈধ রোহিঙ্গা ভোটারদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতির বানী শুনিয়েছেন। এই পর্যন্ত প্রতিশ্রুতির কোন প্রকার বাস্তবায়ন করতে দেখা যায়নি। এই দেশ বিরোধী কাজে যারাই সহযোগিতা করেছেন তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি প্রদানের কথাও জানিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা।

এই ব্যাপারে দুয়েক দিন গরম থাকার পর আবার পরিস্থিতি ঠান্ডা হয়ে যায়। যার ফলে রোহিঙ্গাদের ভোটার করার চক্র গুলো আরো নতুন নতুন রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকাভুক্ত করার সুযোগ দিয়েছে অনৈতিক সুবিধা আদায় করে। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা ভোটার হতে গেলে কত কাঠখড় পোড়াতে হয় তার কোন ঠিক ঠিকানা নাই।

আমাদের কক্সবাজারে এমনও রয়েছে মা কক্সবাজারের স্থানীয় বাসিন্দা বাবা নোয়াখালী লক্ষীপুরের বাসিন্দা। বাবা ছিলেন মৎস্যজীবি। ছোট বেলায় তাদের বাবা সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। সন্তানেরা জানেনা বাবার জন্ম স্থান বা দাদার দেশ নোয়াখালী বা লক্ষীপুর কোন জায়গায়। সেই রকম স্থানীয় অনেক মানুষ এখনো ভোটার হতে পারেনি। মিয়ানমার নাগরিক রোহিঙ্গারা ভোটার হতে পারে। কারণ তারা মোটা অংকের টাকা দিতে পারে তাই তাদের ভোটার হতে কোন বাঁধা নেই।

বর্তমান সময়ে রোহিঙ্গাদের আচার আচরণে আবার পরিস্থিতি গরম হয়েছে। স্থানীয় জনসাধারণ রোহিঙ্গাদের আচার আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সবাই সোচ্চার হচ্ছে। এবারও কি সেই আগের মত কয়েক দিন হাঁকা বকা করে পরিস্থিতি ঠান্ডা হয়ে যাবে? যদি তাই হয় একদিন দেখবেন রোহিঙ্গাদের কাছে আমরা হয়ে যাব সংখ্যা লগু এই সময় হয়তো বেশি দূরে নয়। তাই রোহিঙ্গাদের আগ্রাসন থেকে মুক্তি পেতে হলে রোহিঙ্গাদের কোন অবস্থাতে ভোটার হওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবেনা। যে সমস্ত রোহিঙ্গারা অবৈধ ভাবে ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছে তাদেরকে যাচাই বাছাই করে বাদ দিতে হবে। আমাদের দেশের কিছু অতি উৎসাহী মানুষ ইতিহাস না জেনে অনেক বৈধ বাংলাদেশের নাগরিকদেরও মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গা হিসাবে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা করি। যে কারণে ১৯৭৮ সালে বার্মা সামরিক জান্তার অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়ে বার্মার রোহিঙ্গা শরণার্থী হিসাবে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেই শরণার্থীদের মধ্যে অনেকে বার্মায় ফেরত না গিয়ে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাস করে ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছে। সেই ভোটার হওয়া রোহিঙ্গারা স্বাধীনতা সংগ্রামের আগে থেকে বাংলাদেশে (পূর্ব পাকিস্তানে) বসবাস করে আসা বার্মার রোহিঙ্গা বংশদ্ভূত ভোটার তালিকাভুক্ত হওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের রোহিঙ্গা বলে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা করে। সেই অপচেষ্টার পেছনে আমরা অতি উৎসাহী হয়ে স্বাধীনতা পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করা রোহিঙ্গাদের সাথে মিলিয়ে ফেলি।

যার ফলে নব্য রোহিঙ্গারা দুঃসাহস দেখিয়ে জোর গলায় বলে, "আবদুর রহমান বদি রোহিঙ্গা হয়ে এমপি হতে পারলে আমি কেন রোহিঙ্গা হয়ে লেখা পড়া করার অধিকার পাবনা ? "এই রোহিঙ্গাদের বলা কথা গুলোকে আমরা নির্বোধের মত সমর্থন করে যায় বিচার বিশ্লেষণ না করে। এতে লাভ হয় কার? দেশের না নিজের? রোহিঙ্গারা আমাদের দেশের পাসপোর্ট নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে। তারা সেখানে নানা অপরাধ মূলক কাজে জড়িত হচ্ছে। সেই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হচ্ছে। দুর্নাম হচ্ছে আমাদের দেশের। কারণ ধরা পড়া রোহিঙ্গা অপরাধীরা বাংলাদেশের পাসপোর্টধারী। এতে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। এর ফলে অনেক দেশ বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী রোহিঙ্গাদের করা অপরাধী কর্মকাণ্ডের জন্য বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। বর্তমানে আমাদের দাবী হচ্ছে যে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে বিভিন্ন দেশে অবস্থান করে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুন্ন করছে। বাংলাদেশী পাসপোর্টধারী সমস্ত রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট জরুরি ভিত্তিতে বাতিল করার জোর দাবী জানাচ্ছি।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন