আলফাডাঙ্গায় ক্লিনিক মালিকের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যু, টাকা দিয়েই খালাস

মুনেম সরকার, আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি | সারাদেশ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১২:২১:১৪ পিএম
আলফাডাঙ্গায় ক্লিনিক মালিকের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যু, টাকা দিয়েই খালাস
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভায় অবস্থিত পপুলার প্রাইভেট হসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনিষ্টিক সেন্টারে মিম আক্তার(২০) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ক্লিনিক মালিক বায়েজিৎ মোল্যাকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানা যায়।

প্রসূতির বাবা আলফাডাঙ্গা পৌরসভার হিদাডাঙ্গা গ্রামের মো. আকু মোল্যা বলেন, গতকাল সকাল ৮টার দিকে আমার মেয়ের প্রসাব বেদনা উঠলে তাকে পপুলার প্রাইভেট হসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনিষ্টিক সেন্টারে আনলে সাড়ে আটটার দিকে তাকে সিজার করেন ডাঃ আসলামুজ্জামান কামাল। পরে সকাল ১০টার দিকে আমি আমার মেয়ের সাথে দেখা করতে চাইলে আামকে দেখা করতে দেওয়া হয় না। বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে আমি ভিতরে গিয়ে দেখি আমার মেয়ের হাত পা ঠান্ডা ও শক্ত হয়ে কুকড়ানো অবস্থায় আছে। আমি বার বার হসপিটাল কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা কোন গুরুত্ব দেয় না। বেলা ১টার দিকে আমাকে বলে রোগিকে ফরিদপুর নিয়ে যেতে হবে। আমি একটি মাইক্রোবাস ঠিক করে আমার মেয়েকে নিয়ে ফরিদপুর রওনা দেই। কর্তৃপক্ষ এই সময় আমার সাথে হসপিটালের একজন কর্মচারীকে পাঠান।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, রোগির অবস্থা অবনতি হলে রোগীকে ফরিদপুর পাঠানো হয়। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, শুনেছি সহস্ররাইল বাজারে পৌছানোর পর অক্সিজেন শেষ হয়ে যায়। সাতৈর বাজারে পৌছালে সে বিভিন্ন টালবাহানা দেখিয়ে গাড়ি থেকে নেমে পালিয়ে চলে যায়। এ সময় আমরা বুঝতে পারি রোগী মারা গেছে। পরে সাতৈর বাজারে থেকে আলফাডাঙ্গায় ফিরে আসি। মারা যাওয়ার ঘটনা জানাজানি হলে রাত ৮টার দিকে পৌর মেয়রের কার্যালয় এক শালিস বৈঠক বসিয়ে মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হিসেবে হসপিটাল কর্তৃপক্ষ বায়জিদকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। ৫০ হাজার টাকা বৃহস্পতিবারে দিবে আর ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা আগামি ২২ সেপ্টেম্বরে দেবে।

এ ব্যাপারে হসপিটালের মালিক বায়েজিদ মোল্যার কাছে জানতে চাইলে তিনি মোবাইল ফোনে বলেন, আমি বাহিরে আছি। যা জানার দরকার পৌর মেয়র সাইফুর রহমান সাইফারের নিকট থেকে জানেন। সব দায়িত্ব তিনি নিয়েছেন।

পৌর মেয়র সাইফুর রহমান সাইফার মোবাইল ফোনে বলেন, একটা দূর্ঘটনা ঘটেছে। আমরা স্থানীয় ভাবে মিমাংসা করে দিয়েছি। জরিমানার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় মিমাংসা করে দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে ওই প্রসূতির কন্যা সন্তানটি সুস্থ আছে। উল্লেখ্য ঘটনা ঘটার পর উৎসুক জনগন বলেন, পপুলার হসপিটালে মাঝে মধ্যেই এমন মৃত্যুর ঘটনা ঘটার অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাপত্রিকা/এসআর

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন