আলফাডাঙ্গা হাসপাতালে সেবার বেহালদশা! (ভিডিও)

মুনেম সরকার, আলফাডাঙ্গা প্রতিনীধি | সারাদেশ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ০৭:৩০:১৬ পিএম
আলফাডাঙ্গা হাসপাতালে সেবার বেহালদশা!  (ভিডিও)
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে প্রয়োজনের তুলনায় ডাক্তারের সল্পতা রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ১৮ জন এমবিএস ডাক্তারের হাসপাতালে মাত্র দুইজন এমবিবিএস ডাক্তার দিনের পর দিন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। দুইজনের মধ্যে একজন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, যিনি মুলতঃ প্রশাসনিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, তারপরও দুইজনেই ডাক্তার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন পাশাপাশি।

উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার তাদের মানবিক বিবেকের তাড়নায় নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে রোগীদের সেবায় করছে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন। তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে রোগীর সেবা ও চাপ কমাতে। হাসপাতালটি বোয়ালমারী, কাশিয়ানী উপজেলার লাগোয়া হওয়াতে, প্রতিদিনই আলফাডাঙ্গাসহ তিন উপজেলারই রোগীর চাপ থাকে। ৫০ শয্য বিশিষ্ট হাসপাতালে ১০০ শয্যার হাসপাতালের মতো রোগীর চাপ থাকে প্রতিনিয়ত। ফলে পর্যাপ্ত ও মানসই সেবা ছাড়াই রোগীদেরকে সেবা গ্রহন করতে হচ্ছে।

এই অল্প সংখ্যক ডাক্তারের কাছে থেকে এত বড় হাসপাতালে আমরা কি ভাবে ভাল সেবা আসা করা দুরূহ। তবু ও ডাক্তাররা মানবিক দিক বিবেচনা করে প্রতিদিন শত শত রোগীদের দিন রাত পরিশ্রম করে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। দিন রাত পরিশ্রম কারে রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে তারাই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। গতকাল হাসপাতালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ নাজমুল হাসান উপজেলায় মাসিক মিটিং যোগ দেয়, ডাঃ মোহাম্মদ নেয়ামত হোসেন একা রোগির সেবা দেন। এতে তিনিও শারিরীক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

হাসপাতালের ইনডোর, আউট ডোর এবং ইমারজেন্সিতে ফয়সাল মাহামুদ সোহান উপ সহকারী মেডিকেল অফিসার, সুইটি বিশ্বাস সিনিয়র স্টাফ নাস জোসনা আক্তার মিড ওয়াইফ, ডাঃ সৈয়দ তোহাদ্দেছুল ইসলাম সুমন বিইউএমএস (ঢাকা) মেডিকেল অফিসার, মোঃ আনোয়ার হোসেন সিনিয়র ষ্টাফ নার্স রোগী দেখছেন।

এমনকি এ মৌসুমে অতিরিক্ত গরমের কারনে হাসপাতালে রোগীদের চাপ বেশী। সরকারি নিয়মানুযায়ী হাসপাতালে ডাক্তারদের চিকিৎসা সেবায় কাজ করতে হয় সকাল আটটা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় হাসপাতালে রোগীদের ভিড় থাকার কারনে এ দুই জন ডাক্তার ও সহ ডাঃ নার্স মাঝে মধ্যে সারে তিনটা থেকে চারটা পর্য়ন্ত রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

উল্ল্যেখ্য, দ্বিতীয় টুংগিপাড়া খ্যাত আলফাডাঙ্গা হচ্ছে জেলার সর্বশেষ এবং অবহেলিত একটি উপজেলা। জনবল কম থাকায় হাসপাতালের চারপাশ আবর্জনায় ভরে উঠেছে। হাসপাতালের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করায়, অকেজু হয়ে পড়ছে। গর্ভবতী মায়েরা বিভিন্ন ক্লিনিকে সন্তান প্রসব করতে গিয়ে মাঝে মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে।

বাংলাপত্রিকা/এসআর


খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন