ডোমারে প্রাথমিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী বহিষ্কারের অভিযোগ

পঞ্চানন রায়, ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি | সারাদেশ
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১০:০৮:২৮ পিএম
ডোমারে প্রাথমিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী বহিষ্কারের অভিযোগ
নীলফামারী ডোমার উপজেলার মেলা পাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোছাঃ রাবেয়া বেগমের বিরুদ্ধে সরকারী বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাৎ ও ২০জন গরিব ছাত্র/ছাত্রীকে বহিষ্কারের অভিযোগ উঠেছে।

বিদ্যালয়ের সংস্কার কাজের ২লক্ষ টাকা, স্লিপের ৫০ হাজার টাকা ও প্রাকের ১০ হাজার টাকাসহ বরাদ্দকৃত ২ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার মধ্যে ৬০-৭০ হাজার টাকার কাজ করে সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

টাকা খরচের ভাউচার চাইলে প্রতিবেদকে তা দেখতে পারেনি প্রধান শিক্ষক মোছাঃ রাবেয়া বেগম। নাম মাত্র কাজ করে সম্পূর্ন টাকা আত্মসাত করেছে মর্মে সহ-সভাপতি মোঃ গোলাম মোস্তফা অভিযোগ করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের সংস্কার কাজের টাকা, স্লিপের টাকা ও প্রাকের টাকার নামেমাত্র কাজ করে সম্পূর্ণ টাকা প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটি আত্মসাৎ’র প্রমাণ পাওয়া যায়।

বিদ্যালয়ের সহ-সভাপতি মোঃ গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘২৮/৮/১৯ ইং তারিখে আমরা কপিতয় এসএমসি সদস্য বিদ্যালয়ের মেরামত কাজের হিসাব নিকাশ চাইতে গেলে তিনি (প্রধান শিক্ষিকা) ধমক দিয়ে কথা বলেন এবং আমাদের সাথে রুঢ় আচরণ করেন। তিনি বলেন যে, আপনাদের ভাগের টাকা, আমার কাছে জমা আছে। আগে রেজুলেশনে সহি সাক্ষর করেন তার পর টাকা দিব এবং ভাউচার দেখাব।’

‘উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অফিস কক্ষে ভাগাভাগির কথা বলেন এবং তার বক্তব্য সংরক্ষণ করা আছে। তাছাড়া প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের অনেক ভর্তিকৃত দরিদ্র শিশুর নাম কেটে দিয়ে তার মেয়ে ডোমারে নিকটতম বিদ্যালয়ে পড়ে, আদৌ এই বিদ্যালয়ে কোন দিন আসেনি। অথচ তার মেয়ে জানুয়ারী-২০১৯ অদ্যবধি বিদ্যালয়ের ছাত্র হাজিরা খাতায় উপস্থিত দেখায় এবং উপ বৃত্তির টাকা উত্তোলন করেন। প্রধান শিক্ষকের উক্ত মেরামত কাজের বরাদ্দকৃত টাকা অনিয়ম এবং উপবৃত্তির টাকা অনিয়ম ভাবে উত্তোলন তদন্ত করার যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ কামাল পাশা বলেন, প্রধান শিক্ষককে অভিযোগ করেছি, ২০ থেকে ২২জন হতদরিদ্র এলাকায় শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করলে আমাদের স্কুল কি ভাবে চলবে। প্রধান শিক্ষক বলেন, উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে বহিষ্কার করেছি, এ বিষয়টি আমি বুঝবো।

প্রাক শিক্ষক মোছাঃ নাজমা খাতুন বলেন, নিচের চট, প্লাস্টিকের খেলনা সামগ্রী ৫ হাজার টাকা ক্রয় করে বাকী টাকা প্রধান শিক্ষক হাতে রেখেছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোছাঃ রাবেয়া বেগমের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ছুটিতে থাকায় তা সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য সংগ্রহ করা যায়নি।
                           
বাংলাপত্রিকা/এসআর
 

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন