বোয়ালমারীতে নির্মাণ কাজের অনিয়ম

মুনেম সরকার, আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি | বাংলা পত্রিকা স্পেশাল
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ০৩:০০:৪৬ পিএম
বোয়ালমারীতে নির্মাণ কাজের অনিয়ম
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার দক্ষিন সীমান্তবর্তি শেখর ইউনিয়নের সহস্রাইল পাবলিক পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪তলা ভবন নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের প্রমান মিলেছে। অনিয়মের কারণে বিদ্যালয়ের সভাপতি নজরুল ইসলাম কাজী (কুইক কাজী), প্রধান শিক্ষক মো. ইস্রাফিল মোল্যাসহ এলাকার লোকজন ভবনের কাজ বৃহস্পতিবার সকালে বন্ধ করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

২০১৯/২০ অর্থ বছরে সহস্রাইল পাবলিক পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪তলা ভবন নির্মাণের জন্য ৭৩,৫৪,১৯০টাকা বরাদ্দ আসে। কাজটি পায় মেসার্স তানজির ট্রেডার্সের সত্বাধিকারী জিন্নাত। সহস্রাধিক ছাত্রছাত্রীর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলায় মত্ত মেসার্স তানজির ট্রেডার্স এর এই ঘৃন্য অপকর্ম থামাতে এলাকার সকল শ্রেনীর মানুষ একত্রিত হয়ে, ভবন নির্মানের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।

এলাকাবাসি জানায়, ৪তলা বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলার ছাদ ঢালাইয়ের জন্য রড দেওয়া হয়েছে নিম্নমানের, যেখান ৮ ইঞ্চি পর পর রড বসানর কথা, সেখানে ১৮-২০ ইঞ্চি পর পর রড বসিয়ে ছাদ ঢালাই সহ অন্যান্য কাজ করা হচ্ছে, ভিমের রড ও ঢালাইয়ের কাজো ঠিকমত বাধা হচ্ছে না। এখনই ভিমের ঢালাই ও আস্তর খুলে পড়ছে। ২য় তলার সিড়ি দিয়ে তৃতীয় তলায় উঠলে সিড়ি কাঁপে, সিড়িতে সিমেন্ট কম দেওয়া হয়েছে যার কারনে ফাটল দেখা দিয়েছে, সেকশন বালির পরিবর্তে আনা হয়েছে মধুমতির নিম্নমানের বালু। পার্টিশনের ইটও খুবই নিম্নমানের।

এ ব্যাপারে নির্মানাধিন ভবনের ঠিকাদার মেসার্স তানজির ট্রেডার্সের সত্বাধিকারী জিন্নাত বলেন, কিছু অনিয়ম হয়েছে। আমরা রডের গ্যাপ টিক করে দিচ্ছি। সিড়ি ভেঙ্গে নতুন সিড়ি করে দিবো। ইট পরিবর্তন করে দিবো, আপনাদের সামনে সব কিছু ঠিক করে ছাদ ঢালাই দিবো।

এলাকাবাসী দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দিয়ে প্রত্যেকটি ফ্লোর, দেয়াল ও ছাদের কাজ পুনরায় পরিক্ষা নিরিক্ষার দাবী জানান। তারা বলেন, এখানে হাজার হাজার ছেলেমেয়ে পড়াশুনা করে, তাদের জীবন এখন হুমকির মধ্যে। এলাকাবাসী মেসার্স তানজির ট্রেডার্সের সত্বাধারীকে এ নিয়ে ভর্ৎসনা করতেও দেখা যায়।

এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মো. ইস্রাফিল মোল্যা বলেন, আমি অনিয়ম দেখে ঠিক মত কাজ করতে বলেছি। তবু তারা অনিয়ম করেই যাচ্ছিল। উপজেলা প্রকৌশলী একেএম রফিকুল ইসলামকে ফোনে না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হলো না।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শেখর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ইস্রাফিল মোল্যা বলেন, কাজ ঠিক ঠাক মতো না হওয়ার কারনে কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে আপাতত। নিয়মের ভিতর থেকে কোন কাজই তারা করছে না বলে তিনি জানান।

বাংলাপত্রিকা/এসআর

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন