কুষ্টিয়ায় নার্সকে গণধর্ষণের পর হত্যা

খন্দকার সাদিকুল আলম, ইবি থানা প্রতিনিধি | সারাদেশ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯ | ১০:৪৮:৪১ এএম
কুষ্টিয়ায় নার্সকে গণধর্ষণের পর হত্যা
কুষ্টিয়ায় নার্স বিলকিস পারভীন (৩৭)কে গণধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিলকিসের স্বজনরা।

রোববার (২৫ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের এম এ রাজ্জাক মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন ডেকে এমন অভিযোগ করেন নিহত বিলকিসের স্বামী, মা, মেয়ে ও ভাই। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা।

একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা। সংবাদ সম্মেলনে নিহত বিলকিস পারভীনের বৃদ্ধা মা মর্জিনা বেগম, স্বামী রবিউল ইসলাম, পালিত মেয়ে কুয়াশা ইয়াসমিন এবং মামলার বাদী বিলকিসের মামাতো ভাই পারভেজ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

নিখোঁজের তিনদিন পর গত মঙ্গলবার সকালে উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের বাঁধবাজার কাঞ্চনপুর বাঁশের সাঁকোসংলগ্ন এলাকার জিকে ক্যানেল থেকে বিলকিস আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত বিলকিস আক্তার কুষ্টিয়া শহরের উত্তর আমলাপাড়া এলাকার মাছ ব্যবসায়ী রবিউল ইসলামের স্ত্রী। তিনি শহরের হাসপাতাল মোড় এলাকার ডক্টরস ল্যাব অ্যান্ড হাসপাতালের নার্স ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিলকিস আক্তারের মেয়ে কুয়াশা ইয়াসমিন বলেন, ডক্টরস ল্যাব অ্যান্ড প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক ইয়ারুল, হাসপাতালের স্টাফ উজ্জ্বল ও জসিমের বন্ধু কাদের এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত। তারা সবাই আমার মাকে বিভিন্ন সময় উত্ত্যক্ত করতো, কুপ্রস্তাব দিতো। হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন আগেও তাদের উত্ত্যক্তের বিষয়টি আমাকে জানিয়েছিল মা।আমার মাকে গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। গোসলের সময় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নখের আঁচড়ের চিহ্ন দেখতে পেয়েছি আমরা। আমার মায়ের একটি দাঁতো ছিল না।

মামলার বাদী বিলকিসের মামাতো ভাই পারভেজ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমি প্রথম এজাহারে দুই জনের নাম উল্লেখ করি। পরে রাত ১ টার দিকে কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ ফোন দিয়ে এক জনের নাম উল্লেখ করে এজাহার দিতে বলেন। আমি একপ্রকার বাধ্য হয়ে এক জনের নাম উল্লেখ করে এজাহার দায়ের করি। তিনি আরো বলেন, কোন ভাবেই জসিমের একার পক্ষে বিলকিসকে হত্যা করে লাশ বস্তাবন্দি করে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। প্রথমদিন যখন আমরা জসিমকে ফোনে জিজ্ঞাসা করি আমার বোন কোথায় তখন সে বিলকিস এর সম্পর্কে কিছু জানেনা বলে দাবি করে। পরে আমি জসিম কে জিজ্ঞাসা করে আপনি কোথায় সে বলে আমি দৌলতপুর চিলমারী আছি। আমরা দৌলতপুর চিলমারী গেলে সেখানে জসিমকে না পেয়ে আবারও ফোন দিলে জসিম বলে আমি এখন দৌলতপুরে আছি। এরপর আমরা দৌলতপুর গিয়ে আবারও জসিমকে ফন্দি তখন জসিম বলে আমি কুষ্টিয়া তে। এসময় আমি ফোনে জসিমকে বলি আপনি এখনই একটু বিলকিস এর বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সাথে কথা বলেন। পরে জসিম একটি হাইস গাড়িতে সাত-আটজন কে সঙ্গে নিয়ে সোনালী ব্যাংকের পাশে আমাদের সাথে দেখা করে। তাদের বিভিন্ন জায়গায় কাটা চিহ্ন ছিল। আমরা জিজ্ঞাসা করলে তারা বলে মোটরসাইকেল এক্সিডেন্ট করেছি। আমার ধারণা জসিমসহ ওই গাড়িতে যারা ছিল তারা সকলেই এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত।

বিলকিসের মা মর্জিনা বেগম বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্বীকারোক্তি দেয়া জসিম ২০১৮ সালে প্রোমশন দেয়ার নাম করে বিলকিসের কাছ থেকে ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা নেয়। টাকা ফেরত চাইলে নানা টালবাহানা করে জসিম।

সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনসহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

১৭ আগস্ট (শনিবার) দুপুর ২টার দিকে ডিউটি শেষ করে বাড়ি আসেন বিলকিস। বিকেল ৫টার দিকে মুঠোফোনে একটি কল আসার পর দ্রুত বাড়ি থেকে বাইরে যান বিলকিস। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পাওয়ায় পরের দিন পরিবারের পক্ষ থেকে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি জিডি করা হয়। নিখোঁজের তিনদিন পর গত মঙ্গলবার সকালে উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের বাঁধবাজার কাঞ্চনপুর বাঁশের সাঁকোসংলগ্ন এলাকার জিকে ক্যানেল থেকে বিলকিস আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ডক্টরস ল্যাব অ্যান্ড প্রাইভেট হাসপাতালের কর্মচারী জসিমকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, জসিম ইতোমধ্যে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। জসিম একাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে মোটরসাইকেলে করে বিলকিসের মরদেহ নিয়ে বাঁধবাজার কাঞ্চনপুর বাঁশের সাঁকোসংলগ্ন এলাকার জিকে ক্যানেলে ফেলে রেখে যায়।

কুমারখালী থানা পুলিশের ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিলকিসের সঙ্গে জসিমসহ উজ্জ্বল নামে আরও একজনের গভীর সম্পর্ক ছিল। তারা তিনজনই একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করে। পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে বিলকিসের সঙ্গে জসিমের বিরোধ দেখা দেয়। তারই প্রেক্ষিতে বিলকিসকে জগতি ক্যানেলপাড়ে বেড়াতে নিয়ে যায় জসিম। সেখানে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে বিলকিসকে আঘাত করে জসিম। এতে তার মৃত্যু হয়।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন