‘যতদিন বাঁচি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করে বাঁচতে চাই’

সাহেদুজ্জামান সাকিব, তিতুমীর কলেজ প্রতিনিধি | সাক্ষাৎকার
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ আগস্ট ২০১৯ | ১১:২৯:০০ পিএম
‘যতদিন বাঁচি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করে বাঁচতে চাই’
তৌফিক হাসান শাওন। ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছোটবেলায় দাদুর মুখে বঙ্গবন্ধুর গল্প, ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠার গল্প এবং মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ছাত্রলীগের নেতৃত্বের গল্প শুনে বড় হয়েছে। সেই থেকে ছাত্রলীগের প্রতি ভালবাসা শুরু হয়ে এই নেতার। সম্প্রতি ছাত্রলীগের এই নেতা বাংলা পত্রিকার প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলেছেন নিজের রাজনৈতিক জীবন নিয়ে।

বাংলা পত্রিকা: আপনার রাজনৈতিক জীবনের শুরুর গল্পটা ছোট করে যদি বলতেন?

তৌফিক হাসান: আমার রাজনীতির পাঠশালায় হাতে খঁড়ি হয়েছে মূলত আমার দাদুর হাতে। ছোটবেলায় দাদুর মুখে শুনেছি বঙ্গবন্ধুর গল্প, ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠার গল্প এবং মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ছাত্রলীগের নেতৃত্বের গল্প। সেই থেকে ছাত্রলীগের প্রতি ভালবাসা শুরু। দাদুর মুখে গল্প শুনতাম আর ভাবতাম একদিন আমিও বড় হয়ে ছাত্রলীগ করবো। এরপর আমি যখন অষ্টম শ্রেণিতে পড়ি তখন আমাদের লালমনিরহাটের পাটগ্রামে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসেছিলো। সেদিন বাড়িতে না বলেই বাসের ছাদে উঠে নেত্রীকে দেখতে যাই। সেদিন নেত্রীকে সরাসরি দেখে এবং বক্তব্য শুনে নেত্রীর ভক্ত হয়ে উঠি এবং সেই থেকে নিয়মিত ছাত্রলীগের সাথে উঠাবসা শুরু করি। এভাবেই আমার রাজনৈতিক জীবনের পথচলা শুরু।

বাংলা পত্রিকা: শোকের দিনে ছাত্রলীগের কর্মীদের মাঝে কি বার্তা পৌঁছাতে চান?

তৌফিক হাসান: ১৫ আগস্ট নি:সন্দেহে বাঙ্গালি জাতির জন্য এক কলঙ্কিত অধ্যায়। চক্রান্তকারীরা সেদিন ভেবেছিলো বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সাথে সাথে তারা বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া ছাত্রলীগকেও ধ্বংস করে দিয়েছে। কিন্তু তাদের ধারণা ভুল প্রমাণিত করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আবার ঘুরে দাড়িয়েছে। তাই আমি আমার ছাত্রলীগ ভাইদের বলবো যত বাঁধা বিপত্তিই আসুক না কেন দমে যাওয়া যাবে না। ১৫ আগষ্টের শোককে শক্তিতে রুপান্তরিত করে দূর্বার গতিতে এগিয়ে যেতে হবে।

বাংলা পত্রিকা: ১৫ আগস্টের ঘটনা আপনার ভিতরে কেমন অনুভূতি জাগায়?

তৌফিক হাসান: আমি মনে করি ১৫ আগষ্ট প্রতিটি ছাত্রলীগ কর্মীর জন্য একটি বেদনা-বিধুর দিন। কারণ এই দিনে আমরা আমাদের অবিভাবক কে হারিয়েছি। আমি এখনো ১৫ আগষ্টের ইতিহাস পড়লে স্তম্ভিত হয়ে যাই!

বাংলা পত্রিকা: আপনার ব্যক্তি রাজনীতির মাঝে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে কতটুকু নিতে পেরেছেন বলে আপনি মনে করেন?

তৌফিক হাসান: আমি আমার রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে অনুসরণ করে আসছি। কতটুকু নিতে পেরেছি সেটা বলতে পারবো না তবে প্রতিনিয়ত বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে লালন করে যাচ্ছি।

বাংলা পত্রিকা: ছাত্রলীগ করতে গিয়ে পরিবার থেকে কখনো বাঁধা এসেছে কি?

তৌফিক হাসান: না, ছাত্রলীগ করতে গিয়ে আমার পরিবার থেকে সেরকম কোনো বাঁধা আমি পাইনি। বরং আমার এতো দুর আসার পেছনে সবচেয়ে বেশি প্রেরণা যুগিয়েছে আমার বাবা। আমি এখনো আমার রাজনীতির ভালো-মন্দ আমার বাবার সাথে শেয়ার করি।

বাংলা পত্রিকা: অনেক অবিভাবক তাদের সন্তানদেরকে স্বেচ্ছায় ছাত্রলীগ করতে দিতে চান না, তাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলবেন?

তৌফিক হাসান: সেইসকল অবিভাবকদের উদ্দেশ্যে একটা কথাই বলবো, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সবসময় ইতিবাচক রাজনীতি করে আসছে। ছাত্রলীগের নামে যেসব অভিযোগ গণমাধ্যমে আসে এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা মাত্র! একটা কথা মনে রাখবেন বাংলাদেশের ইতিহাস মানেই ছাত্রলীগের ইতিহাস তাই আপনারা নির্ভয়ে আপনাদের সন্তানদেরকে ছাত্রলীগ করতে উৎসাহ দিতে পারেন।

বাংলা পত্রিকা: আপনার ভবিষ্যত রাজনৈতিক পরিকল্পনা কি? রাজনীতিতে আপনার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে কি স্বপ্ন দেখছেন?

তৌফিক হাসান: দেখুন আমি রাজনীতিকে কখনো পেশা হিসেবে নেইনি, আমি রাজনীতিকে নিয়েছি নেশা হিসেবে। তাই আমার ভবিষ্যত রাজনৈতিক পরিকল্পনা হচ্ছে যতদিন বাঁচি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করে বাঁচতে চাই।

বাংলাপত্রিকা: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

তৌফিক হাসান: ধন্যবাদ আপনাকেও।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন