‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শে চলার চেষ্টা করি’

মনিরুজ্জামান মনির, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি | সাক্ষাৎকার
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ আগস্ট ২০১৯ | ১২:৩৩:২৭ পিএম
‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শে চলার চেষ্টা করি’
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়তে তার সুযোগ্য কণ্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কাজ করে চলেছেন তিনি। আওয়ামী লীগের আদর্শ ধারণ করে ছাত্রজীবনেই আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। তার প্রতিনিয়তের ভাবনায় রয়েছে আওয়ামী ছাত্রলীগ। বলছিলাম মাঃ রেজাউল করিম রেজার কথা। তিনি বর্তমানে শেরপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিষ্টার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। তার রাজনৈতিক ভাবন-চিন্তা নিয়ে বাংলা পত্রিকার প্রতিনিধি সঙ্গে কথা বলেছেন-

বাংলা পত্রিকা: আপনার রাজনৈতিক জীবনের শুরুর গল্পটা ছোট করে যদি বলতেন?

মোঃ রেজাউল করিম রেজা : আমার পরিবার স্বাধীনতার পক্ষে সব সময় কাজ করেছে। তারা বঙ্গবন্ধু আদর্শে গড়া। আর আমিও তাদের আদর্শে বাংলাদেশ আওয়ামলীগের একজন সদস্যর সন্তান। ২০০৯ সালে শেরপুর সরকারী কলেজে ভর্তি হই এবং ছাত্রলীগে যোগদান করি। সেই থেকেই আমার রাজনৈতিক জীবন শুরু। এভাবেই আজ আমি বর্তমান জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।

বাংলা পত্রিকা: সামনে জাতীয় শোক দিবস। ১৫ আগস্টের এই শোক দিবস নিয়ে তৃণমূল থেকে আপনাদের পরিকল্পনা কি বা আপনার কিভাবে দিনটিকে পালন করবেন? বিশেষ করে আপনাদের কর্মসূচি কি থাকবে?

মোঃ রেজাউল করিম রেজা : আমরা সাধারনত এই দিনটিকে শোকের মাতম হিসেবে উদযাপন করি। এই দিনটিকে ঘিরে শেরপুর ছাত্রলীগের আওতায় ১৪টি ইউনিয়ন আছে, এই প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে শোক সভা করব এবং শেরপুর পলিটেকনিক্যাল এবং শেরপুর সরকারী কলেজে নবীনদের মাঝে শোকবার্তা তুলে ধরব। পাশাপাশি বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ যে নির্দেশনা দেবেন সেই অনুযায়ী কাজ করব এবং সম্পাদন করব। এবং এই দিনকে ঘিরে জেলা আওয়ামীলীগের সকল নেতাকর্মীর সাথে একতাবোধ্য হয়ে কাজ করব।

বাংলা পত্রিকা : শোকের এই দিনকে সামনে রেখে নেতাকর্মীদের মাঝে কি বার্তা পৌঁছাতে চান?

মোঃ রেজাউল করিম রেজা : ১৫ই আগস্ট এই দিনটি যখন আমাদের মাঝে আসে তখন বাংলার আকাশে বাতাসে শোকের বন্যা বইতে থাকে। এই দিনটিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এই দিনটি আমাদের মাঝে একটি কালো অধ্যায়। ১৯৭১ সালে ৩০লক্ষ শহিদের বিনিময়ে শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের একটি সোনার বাংলা স্বাধীন বাংলা এনে দিয়েছেন। আমাদের বুকের রক্তের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা রক্ষা করব এবং সোনার বাংলাকে আকড়িয়ে ধরে রাখব। এই স্বাধীনতার বীজ যাতে বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছিয়ে দিতে পারি সেই বার্তা হিসেবে কাজ করব।

বাংলা পত্রিকা: ১৫ আগস্টের প্রকৃত ঘটনা, বঙ্গবন্ধুর পরিবার সম্পর্কে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আপনার কাছ থেকে কতটুকু জানতে পেরেছে বা আগামীতে নতুন প্রজন্ম জানবে?

মোঃ রেজাউল করিম রেজা : আমরা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করি আদর্শভিত্তিক রাজনীতি করার জন্য। তার ধারাবাহিকতায় আমরা ছাত্রলীগরে নেকাকর্মীদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বক্তৃতার মাঝে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী পাঠ করি এবং সবাবইকে বিভিন্ন বই পুস্তকে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী পড়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করি।

বাংলা পত্রিকা: ১৫ আগস্টের ঘটনা সম্পর্কে যদি কিছু বলেন? এই ঘটনা আপনার ভিতরে কেমন অনুভূতি জাগায়?

মোঃ রেজাউল করিম রেজা : ১৫ আগস্ট একটি কলংকিত  কালো রাত। এই রাতে হাজার বছরের   শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমান স্বপরিবারে দেশি ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং মাঝে মাঝে আমার ভিতর থেকে জেগে ওঠে  যে যে নরপশুরা আমাদের স্বাধীনতাকে ঘৃনা করেছে সেই নরপশুরাই আমাদের স্বাধীনতা যাতে সফল না হয় তার জন্যই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করেছে। কিন্তু আমি মনে করি বাংলাদেশ ছাত্র সমাজ প্রমাণ করেছে বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার মধ্য দিয়েই মৃত বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ছাত্রলীগের মাঝে ছড়িয়ে ছাত্রলীগের হাতকে অধিক শক্তিশালী করে ছাত্রলীগের মাঝে বঙ্গবন্ধু জীবিত আছে।  আজও এই দেশে বঙ্গবন্ধু জন্ম নেন এবং রক্ত ভেজা মাটি থেকে মুক্তির বার্তা দেন। এই মুক্তির বার্তা হলো বাংলাদেশের ছাত্রলীগের প্রত্যেক নেতাকর্মী। আমি ব্যক্তিগকভাবে এই ধারনা পোষণ করি।

বাংলা পত্রিকা: আপনার ব্যক্তি রাজনীতির মাঝে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে কতটুকু নিতে পেরেছেন বলে আপনি মনে করেন?

মোঃ রেজাউল করিম রেজা : আমি ব্যক্তিগতভাবে আদর্শ ভিত্তিক রাজনীতি করি এবং চেষ্টা করি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে চলতে। সংগঠনের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে বঙ্গবন্ধু যে আদর্শে, যে লক্ষ্য নিয়ে চলার চেষ্টা করেছে সে লক্ষ্য নিয়ে আমরাও চলার চেষ্টা করি।

বাংলা পত্রিকা: তৃণমূলে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ে যদি কিছু বলেন?

মোঃ রেজাউল করিম রেজা : বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ৩য় বারের মত সফলতার সাথে ক্ষমতায় আছেন। আমাদের দলের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগকে পরিচালনা করছেন এবং নেতাকর্মীদের একাত্ব করে রেখেছেন। সকল ভুল বুঝাবুঝি তিনি নিজের হাতেই সমাধান করেন এবং তৃণূুলের নেতাকর্মীরা দলের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক সিস্টেমেই তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শেই আপরীসীম ভুমিকা পালন করছেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন